Berhampore: বেলগাছিয়ার ছায়া বহরমপুরে, পাহাড়প্রমাণ বর্জ্য স্তূপ ফেটে বেরোচ্ছে সাদা ধোঁয়া – Bengali News | Mithen gas leak, akin to the Belgachia situation, with a dumping ground in Berhampore facing similar issues
বহরমপুরে বেহাল ভাগাড়Image Credit source: ফাইল চিত্র
বহরমপুর: কতটা বিপজ্জনক হতে পারে একটা ভাগাড়? তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে হাওড়ার বেলগাছিয়াবাসীরা। গত বুধবার রাতে সেখানে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ধসের কারণে ফেটে যায় ভূগর্ভস্থ দু’টি পাইপলাইন। সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সেই দু’টি পাইপ ঠিক করলেও, শুক্রবার সকালে আবার একই বিপত্তি। তবে এবারের ভয়াবহতার প্রভাব থেকে এখন নিস্তার পায়নি এলাকাবাসী।
দ্বিতীয়বারের এই ধসের জেরে হাওড়াবাসী যে শুধু জলকষ্টে ভুগছে এমনটা নয়। ভাগাড়ে ধসের কারণে ফাটল ধরেছে ওই এলাকারই একটি ঢালাই রাস্তায়। ভেঙে পড়েছে ভাগাড়ের পাশেই থাকা একাধিক বাড়ি। তার মধ্যে ভাগাড়ের পাহাড়প্রমাণ স্তূপ ফেটে বেরিয়ে আসছে ঝাঁঝালো মিথেন গ্যাস। যার জেরে শ্বাস নেওয়াও দায় হয়ে গিয়েছে।
এই বেলগাছিয়ার ভাগাড় থেকে ২০৩ কিলোমিটার দূর। বঙ্গের আরও একটি এলাকায় কার্যত একই অবস্থা। সেখানে এখন ধস নামেনি ঠিকই। কিন্তু হাওড়ায় যখন ধাপে ধাপে চড়ছে উত্তেজনা, সেই সময় বহরমপুরের রিং রোডের ধারের ভাগাড় ঘিরে তৈরি হচ্ছে আশঙ্কা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানেও একইরকম দশা। নেই কোনও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। সারা শহরের ময়লা মাসের পর মাস শুধু জমা পড়ছে ওই এলাকায়। ফেটে ফেটে বেরচ্ছে মিথেন গ্যাস।
জানা গিয়েছে, সপ্তাহকয়েক আগেই ওই গ্যাসের প্রভাবে সাদা ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল ডাম্পিং গ্রাউন্ডের বেশ কিছু এলাকা। মিনিটে মিনিটে দেখা যাচ্ছিল অগ্নিসংযোগ। কিন্তু এই সমস্যা নতুন নয়। ডাম্পিং গ্রাউন্ড লাগোয়া রয়েছে বেশ কিছু জনবসতি। রয়েছে একটি কলেজও। স্থানীয়দের দাবি, বছর বছর ধরেই মাঝে মধ্যে ঝাঁঝালো গ্যাসের প্রভাবে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এলাকা। শ্বাসকষ্টের সমস্যা হয়। কিন্তু কোনও সুরাহা মেলে না। যখন বেলগাছিয়ায় শুরু হয়েছে তাণ্ডব, সেই আবহে আবার নতুন করে স্থানীয়দের মনে ভয় ধরাচ্ছে এই বহরমপুরের ভাগাড়টি।
এই প্রসঙ্গে বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরীর দাবি, ‘আমরা যখন ছিলাম, চাপে ফেলে কিছুটা কাজ করিয়েছি। কিন্তু সেই কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। প্রশাসনের উচিত ব্যাপারটা দেখা।’ তবে এই ভাগাড়-সমস্যা নিয়ে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দিকেই দায় ঠেললেন বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্য়ায়। তাঁর দাবি, ‘১৯৯১ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ওই জমিটা রেজিস্টারই করা হয়নি। আমরা ২০২৫ সালে এসে অবশেষে সেই কাজটা করেছি। খুব শীঘ্রই মানুষ এই ভাগাড়-সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে।’
