চিংড়ির পদ দিয়ে ভাত মেখে তৃপ্তির মধ্যাহ্নভোজ, তারপরই মৃত্যু কিশোরের!, বাংলার মুখ - 24 Ghanta Bangla News
Home

চিংড়ির পদ দিয়ে ভাত মেখে তৃপ্তির মধ্যাহ্নভোজ, তারপরই মৃত্যু কিশোরের!, বাংলার মুখ

Spread the love

রবিবার ছুটির দিন। তাই বাড়িতে রসিয়ে রান্না করা হয়েছিল জিভে জল আনা চিংড়ির পদ। কিন্তু, সেই পদ দিয়ে তৃপ্তি করে ভাত মেখে খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই যে বাড়িতে থাবা বসাবে মৃত্যু, তা কল্পনাও করতে পারেননি নদিয়ার হাঁসখালির গাজনা উত্তরপাড়া গ্রামের বিশ্বাস পরিবারের সদস্যরা। রবিবার (২৩ মার্চ, ২০২৫) চিংড়ির পদ দিয়ে দুপুরের খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই পরিবারেরই এক কিশোর সদস্যের মৃত্যু হয়। এই ঘটনা এতটাই আকস্মিক ছিল যে চিকিৎসা করানোর সময়টুকুও পাওয়া যায়নি বলে দাবি পরিবারের সদস্য ও পাড়া পড়শিদের।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনা প্রসঙ্গে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, তা যতটা মর্মান্তিক, ততটাই উদ্বেগের। জানা গিয়েছে, আচমকা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া ওই কিশোরের নাম সুজয় বিশ্বাস। ১৬ বছরের সুজয়ের কোনও বিশেষ শারীরিক অসুস্থতা ছিল কিনা, সেই সম্পর্কে কোনও তথ্য সামনে আসেনি।

তবে, পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, রবিবার ছুটির দিন বলেই বাড়িতে চিংড়ি রান্না করা হয়েছিল। বাকিদের মতো সুজয়ও সেই পদ ভাতে মাখিয়ে তৃপ্তি করে দুপুরের খাবার খেয়েছিল। কিন্তু, খাবার খেয়ে ওঠার কিছুক্ষণ পর থেকেই তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। মুহূর্তে তা এতটাই বেড়ে যায় যে ক্রমশ নেতিয়ে পড়তে থাকে ওই কিশোর।

এরপর আর পরিবারের সদস্যরা সময় নষ্ট করেননি। দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু, সেখানে পৌঁছানোর আগেই সব শেষ! চিকিৎসকরা সুজয়কে পরীক্ষা করে জানান, তার দেহে প্রাণের স্পন্দন আর বাকি নেই! যেহেতু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সুজয়ের মৃত্যু হয়েছিল, তাই নিয়ম অনুসারে পুলিশকে গোটা ঘটনা জানানো হয়। তারা দেহ ময়নাতদন্ত করার ব্যবস্থা করেছে।

সুজয়ের এই আকস্মিক মৃত্যুতে শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। হতবাক হয়ে গিয়েছেন পাড়া প্রতিবেশীরাও। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দুপুরের খাবার খেয়েই কোনও গুরুতর সমস্যা হয়েছিল সুজয়ের। কিন্তু সেটা কী? তাহলে কি সুজয়ের চিংড়িতে অ্য়ালার্জি ছিল? আশ্চর্যের বিষয় হল, পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তাঁদের এমন কোনও সমস্যার কথা জানা ছিল না! প্রশ্ন উঠছে, সেটা কীভাবে সম্ভব? তাহলে কি এত দিন সেই সমস্যা সুপ্ত অবস্থায় ছিল? তাই, আগে কখনও বিষয়টি ধরা পড়েনি? তাহলে রবিবার হঠাৎ করে কেন সেই সমস্যা এত বেড়ে গেল?

এমনই অসংখ্য প্রশ্নের জবাব খুঁজছেন বিশ্বাস পরিবারের সদস্যরা। উত্তরের সন্ধানে তদন্তে নামছে স্থানীয় থানার পুলিশও। তারা এদিনই হাসপাতাল থেকে সুজয়ের দেহ নিয়ে যায়। সোমবার শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের মর্গে দেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। আর, সেই রিপোর্ট হাতে এলেই সুজয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *