জড়িয়ে আছে কার্ল মার্কসের স্মৃতি, সেই শহরকে ইউরোপের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হল - 24 Ghanta Bangla News
Home

জড়িয়ে আছে কার্ল মার্কসের স্মৃতি, সেই শহরকে ইউরোপের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হল

Spread the love

‘ইউরোপের সাংস্কৃতিক রাজধানী’ উপাধির অর্থ কী? যে শহরকে এই মর্যাদা দেওয়া হয় তারাই বা বিষয়টি কীভাবে দেখেন? প্রতি বছর নতুন কোনও শহরকে এই উপাধি দেওয়া হয়৷ এ বছর জার্মান শহর কেমনিৎসকে সাংস্কৃতিক রাজধানী ঘোষণা করা হয়েছে৷

ইউরোপের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে জার্মান শহর কেমনিৎসের স্লোগান হচ্ছে ‘সি দ্য আনসিন৷’ অনেক অর্থ সহায়তায় শহরটি অজানা বিষয় দৃশ্যমান করে তুলতে চাচ্ছে৷ ২০২৫ সালে সহস্রাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে কেমনিৎস৷ কিন্তু জার্মানির পূর্বদিকের শহরটির বাসিন্দাদের মধ্যে এই বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে৷

আদর্শ সমাজতান্ত্রিক শহর

শহরটির সবচেয়ে পরিচিত ল্যান্ডমার্কগুলোর একটি সমাজতন্ত্রের জনকদের একজন কার্ল মার্কসের বিশাল মূর্তি৷ গ্রানাইটের এই স্মারকটি ঠান্ডা যুদ্ধের সময় তৈরি করেছিলেন এক সোভিয়েত ভাস্কর৷ কেমনিৎসের নাম তখন দেওয়া হয়েছিল কার্ল-মার্কস-স্টাড্ট৷ এবং সেটি পূর্ব জার্মানির অংশ ছিল৷ ১৯৭১ সালে এটিকে আদর্শ সমাজতান্ত্রিক শহর ঘোষণা করা হয়েছিল৷

বর্তমানে ইউরোপের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে কেমনিৎস এমন সব মানুষের কাছে পৌঁছাতে চায়, যাঁরা সাধারণত শিল্পের প্রতি আগ্রহী নন৷

শিল্পী ইয়ান কুমার বলেন, ‘পার্পল পাথ’-এ অংশগ্রহণকারীদের একজন আমি এবং আমি মনে করি এটা সাংস্কৃতিক রাজধানীর চমৎকার প্রকল্প৷ ফলে এটার অংশ হতে পেরে আমি আনন্দিত৷ কেমনিৎসের কাছের ছোট্ট শহর গেয়ার্সডর্ফে বাড়তি সাইজের বটল ক্যাপ মাইস বসাচ্ছি আমি৷’

শীতলযুদ্ধের সময় কেমনিৎস আধুনিকতার প্রতীক ছিল৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শহরটিকে পরবর্তীতে সংস্কার করা হয়৷ ফ্রিৎস হেকার্ট জেলার ভবনগুলো এখনো পূর্ব জার্মানির কথা মনে করিয়ে দেয়৷ সাংস্কৃতিক রাজধানীতে এই ভবনগুলো বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে৷

শিল্পী বেয়াটা ডুর্বার বলেন, ‘যেহেতু এই প্রিফেব্রিকেটেড বিল্ডিংগুলো দীর্ঘদিন ধরে শহরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, তাই আমি ভেবেছি এখান থেকে শুরু করাটা দারুণ হবে৷ কেমনিৎসের ফ্রিৎস হেকার্ট এলাকার অধিকাংশই এই প্রিফাব স্ল্যাব দিয়ে তৈরি৷ আমি সেগুলো ১:৩০ স্কেলে ধূসর কংক্রিটের মতো দেখতে ছোট ক্রাস্ট পেস্ট্রি আকারে পুনঃনির্মাণ করেছি৷’

পরিত্যক্ত কারখানায় সাংস্কৃতিক প্রকল্প

নাটকীয় পরিবর্তনের সঙ্গে মিলিয়ে চলতে শিখেছে কেমনিৎস৷ শহরটি একসময় অর্থনীতির শক্তিকেন্দ্র ছিল৷ কিন্তু ১৯৯০ সালে দুই জার্মানির পুর্নমিলনের পর এখানকার অধিকাংশ কারখানা বন্ধ হয়ে যায়৷ ফলে কয়েক হাজার মানুষ চাকুরি হারান৷

বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছু কারখানা সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে৷ একসময়ের লোকোমোটিভ কারখানা হার্টমানফাব্রিক এখন সাংস্কৃতিক রাজধানী উদ্যোগের প্রধান কার্যালয় এবং ক্রিয়েট ইউ প্রকল্পের কেন্দ্র৷

ক্রিয়েট ইউর আনে শ্যোবার বলেন, ‘আরও অনেক প্রকল্প রয়েছে, যেখানে মানুষ অংশ নিতে পারেন৷ তাঁরা তখন বলতে পারেন৷ আমি সিটিস্কেপের এখানে কিছু পরিবর্তন আনতে চাই৷ আমি শুধু ডানপন্থীরা এখানে মতামত দিক, তা চাই না৷ আমি এটাও চাই যে আমাদের মতো তরুণরা যাতে সত্যিকার অর্থে সৃজনশীল হয়ে ওঠে এবং সাংস্কৃতিক রাজধানী, ক্লাব বা অন্য কোনও মুক্ত পরিবেশে সহায়তা করে৷ এখন অনেক সুযোগ আছে৷’

সাংস্কৃতিক রাজধানী কেমনিৎস শীঘ্রই শিল্পের মাধ্যমে নিজেকে আবার খুঁজে পাবে৷

(বিশেষ দ্রষ্টব্য : প্রতিবেদনটি ডয়চে ভেলে থেকে নেওয়া হয়েছে। সেই প্রতিবেদনই তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার কোনও প্রতিনিধি এই প্রতিবেদন লেখেননি।)

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *