Potato: ‘আত্মহত্যা ছাড়া পথ নেই’, আলুর দাম নিয়ে বলছেন চাষিরা – Bengali News | Potato farmers face problem due to low price of potato
আলু বিক্রি করে লাভ হচ্ছে না বলে জানালেন চাষিরা
গড়বেতা: জমি থেকে আলু উঠতে শুরু করেছে। কিন্তু আলুর দাম না থাকায় মাথায় হাত চাষিদের। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনি, গড়বেতা ১,২,৩ ও চন্দ্রকোনা-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বিপুল পরিমাণে আলুর চাষ হয়। আর সেই আলু এবার জমি থেকে উঠতে শুরু করেছে। মাঝখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা ও বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে আলুর সেভাবে দাম না থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে চাষিদের।
একদিকে আলুবীজের আকাশছোঁয়া দাম, অন্যদিকে রাসায়নিক সারের দামও বেশি। চাষিরা বলছেন, মজুরি-সহ আলু চাষ করতে প্রতি বিঘাতে খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। কিন্তু বর্তমান সময়ে আলুর যা মূল্য তাতে প্রতি বিঘাতে আলু বিক্রি করে চাষিরা হাতে পাচ্ছেন ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ক্ষতি হচ্ছে চাষিদের। যে লাভের আশায় চাষিরা চাষ করেন, সেই লাভ তো দূর অস্ত, খরচ করা টাকাও চাষির কাছে ফিরে আসছে না।
চাষিরা বলছেন, বর্তমান প্রজন্ম যেমন চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, পাশাপাশি যাঁরা চাষ করছেন, তাঁরাও চাষে অনীহা প্রকাশ করছেন। সরকার সহায়ক মূল্যে আলু কেনার কথা ঘোষণা করলেও তা গ্রাসরুট লেভেল অব্দি পৌঁছাচ্ছে না বলেই অভিযোগ চাষিদের । ফলে চাষিরা যে তিমিরে ছিলেন, সে তিমিরেই পড়ে থাকছেন। চাষিরা আবার অভিযোগ করছেন, আলুর দাম যে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল, তা নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেই সিদ্ধান্তের কারণেই ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও মুখ ফিরিয়েছেন। আর তার ফলেই চাষিরা আলুর সঠিক দাম পাচ্ছেন না।
এই খবরটিও পড়ুন
চাষিরা বেশিরভাগই কেউ সমবায়ের ঋণ, কেউ ব্যাঙ্কের ঋণ, আবার কেউ চড়াসুদে মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে আলু চাষ করেছেন কিছুটা লাভের মুখ দেখবেন বলে। কিন্তু বর্তমান সময়ে আলুর যা মূল্য চলছে, তাদের লাভ তো দূর অস্ত, তাতে ঋণ শোধ করতেই সব টাকা চলে যাবে। কালীপদ পাল নামে এক চাষি বলেন, “মজুরের দাম বেশি, বীজের দাম বেশি। দেনা মেটাব কী করে? কেউ ছাড়বে? আত্মহত্যা ছাড়া পথ নেই। এই দামে আলু বিক্রি হলে কীভাবে আমরা বাঁচব?”
