Narendrapur School: ‘কেউ চাপ দিচ্ছে? আজ তার জন্য খুব খারাপ দিন’, নরেন্দ্রপুরের প্রধান শিক্ষক গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ বিচারপতি – Bengali News | Judge Biswajit Basu angry as head teacher of Narendrapur was not arrested, summons report from Superintendent of Police
কলকাতা: নরেন্দ্রপুর স্কুলে শিক্ষকদের মারধরের ঘটনার পরেও কেন নতুন গ্রেফতার হয়নি, পুলিশ সুপারের কাছে রিপোর্ট তলব করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। মঙ্গলবার দুপুর দুটোর মধ্যে পুলিশ সুপারকে রিপোর্ট জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিপোর্টে সন্তুষ্ট না হলে পুলিশের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও সচেতন করে দিয়েছেন বিচারপতি। এদিনের শুনানিতে আক্রান্তদের আইনজীবীর তরফে জানানো হয়, দু’জনকে গ্রেফতার হয়েছে। তাঁদের পরিচয় জানা যায়নি।
বিচারপতি তখন প্রশ্ন করেন, “যাঁরা অভিযুক্ত, তাঁদের মধ্যে পঞ্চায়েতের প্রতিনিধি রয়েছেন?” তিনি নির্দেশ দেন, “রাজনৈতিক দলের নেতারা যাঁরা যাঁরা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের আগে গ্রেফতার করুন।” বিচারপতির তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য,”গ্রেফতারের ক্ষেত্রে কোনও চাপ থাকলে আজ তাঁদের জন্য সবচেয়ে খারাপ দিন হবে। মাধ্যমিক পরীক্ষার আগেই তাঁদের গ্রেফতার করুন।”
আদালতের কাছে ডেপুটি ডিরেক্টর যে রিপোর্ট দেবেন, তাতে লেখেন নিরপেক্ষ পদক্ষেপ করা হয়েছে। তাঁকে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “কেন লিখেছেন নিরপেক্ষ পদক্ষেপ করেছেন? আপনি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং করতে গিয়েছিলেন? আপনি কি বিচার করতে গিয়েছিলেন? চোখে কাপড় বেঁধেছিলেন?”
এই খবরটিও পড়ুন
ডেপুটি ডিরেক্টরের তরফে জানানো হয়, ডিআই আগেই তাঁর আগেই রিপোর্টে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, সেখানে আর্থিক দুর্নীতি চলছে। তারপর তিনিও যান ওই স্কুলে। বিচারপতির প্রশ্ন, “সেখানে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে কিছুই পেলেন না? রিপোর্টে কিছুই এল না।”
এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ ঘিরে শনিবার ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুরের একটি স্কুলে। স্কুলে ঢুকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছিল কয়েক জন বহিরাগতের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। এর পরেই দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে মামলাটি ওঠে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে। তিনি সোমবার বিকালের মধ্যেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক-সহ মারধরের ঘটনায় যুক্ত বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু বিচারপতির নির্দেশের পরও কেউ গ্রেফতার হননি। তাতেই ক্ষুব্ধ হন বিচারপতি।