বিল মেটাতে চাইছেন না আত্মীয়রা, ট্যাংরার প্রণয়কে ভর্তি করা হল এনআরএসে, বাংলার মুখ - 24 Ghanta Bangla News
Home

বিল মেটাতে চাইছেন না আত্মীয়রা, ট্যাংরার প্রণয়কে ভর্তি করা হল এনআরএসে, বাংলার মুখ

Spread the love

গাড়িটা গিয়ে সজোরে ধাক্কা দিয়েছিল মেট্রোর পিলারে। এরপর সেই গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় তিনজনকে। প্রণয় দে, প্রতীপ দে ও এক কিশোরকে। এরপর জানা যায় তাঁদের ট্যাংরার বাড়িতে মৃত অবস্থায় রয়েছেন তিনজন। 

গোটা ঘটনার পরতে পরতে রহস্য। আহত প্রণয় দে, প্রতীপ দে ও এক কিশোরকে ভর্তি করা হয়েছিল বাইপাসের ধারের একটা বেসরকারি হাসপাতালে। শনিবার রাতে সেই বেসরকারি হাসপাতাল থেকে প্রণয় দে-কে ভর্তি করা হল এনআরএসে। তবে প্রতীপ দে এখনও ভর্তি রয়েছেন ওই বেসরকারি হাসপাতালেই। 

পুলিশই প্রণয়কে ভর্তি করায় এনআরএসে। কিশোরের জন্যও অন্য হাসপাতালে বেডের ব্যবস্থা করা যায়নি। 

সূত্রের খবর শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত প্রতীপের চিকিৎসার খরচ হয়েছে ৩ লাখ ৩২ হাজার টাকা। প্রণয়ের চিকিৎসার জন্য় খরচ হয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার টাকা। শুক্রবার রাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দে ভাইদের আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু তারা দায়িত্ব নিতে চায়নি। এরপরেই ট্যাংরা ও আনন্দপুর থানার পুলিশকে প্রণয় ও প্রতীপকে দ্রুত ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে অনুরোধ করা হয়। তবে বিল মেটানো যায়নি। তবে অতি বিশেষ পরিস্থিতির জেরে কর্তৃপক্ষ ওই দুই রোগীকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়। 

সূত্রের খবর, গত কয়েক বছর ধরেই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল দে পরিবার। আর্থিক বিপর্যয় একের পর এক। তবে বিষয়টি আঁচ করতে পারছিলেন না অনেকেই। তবে আর্থিক সমস্যা হলেও খরচে লাগাম টানতে পারছিলেন না দে পরিবারের দুই ভাই। বাইরে থেকে দেখে বোঝাও যেত না যে তারা আর্থিক সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। 

এমনকী কারখানার কর্মী থেকে গাড়ির চালক সকলকেই সঠিক সময়ে বেতন দিয়েছেন দুই ভাই। কিন্তু ভেতরে ভেতরে আর্থিক অবস্থা তলানিতে। চামড়ার প্রটেকটিভ গ্লাভস তৈরির ব্যবসা। কিন্তু সেখানেও একের পর এক ক্ষতি। অর্ডার এসেছিল। কিন্তু দাম মেলেনি। অথবা অর্ডার আসেনি। মাল পড়ে রয়েছে। 

এদিকে বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুসারে জানা গিয়েছে ট্যাংরার বাড়িতে তিনজনকে খুন করা হয়েছে। অর্থাৎ দুজন মহিলা ও এক কিশোরীকে খুন করা হয়েছিল। তিনটি ঘরেই রক্তের দাগ। বেসিনে রক্তের দাগ। ঘরের একটা ঘরে কিছু জামাকাপড় রয়েছে। সেখানেও রক্তের দাগ ছিল। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে খুন করার পরে জামাকাপড় ছেড়ে বেরিয়েছিল অভিযুক্তরা।

একাধিক সংবাদমাধ্য়মের রিপোর্টে জানা গিয়েছে, ট্যাংরায় বাড়ির দুই বধূকে খুন করা হয়েছে। তবে অপর যে কিশোরীকে মৃত অবস্থায় মিলেছে তার বিষক্রিয়ার মৃত্য়ু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে যে রিপোর্ট তাতে জানা গিয়েছে, হাতের শিরা কাটা ও গলার নলি কাটা হয়েছিল দুই মহিলার। একজনের একটি হাতের শিরা কাটা হয়েছিল। অপর মহিলার দুই হাতের শিরা কাটা হয়েছিল। দুজন মহিলাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। আর কিশোরীর মৃত্যুর কারণ অনুসারে যেটা প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছিল তার। খাওয়ার তিন থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যুর ঘটনা।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *