Feet Touching: বড়দের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম, এর নেপথ্যে রয়েছে বিজ্ঞানও! – Bengali News | Pronam: What is the science behind touching feet of elders to show respect?
ভারতীয় সংস্কৃতির অন্যতম অংশ। প্রত্যেককে সম্মান করার কথাই শেখানো হয়। মা-বাবার আশীর্বাদ নিতে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে থাকি। শুধু বাবা-মায়ের ক্ষেত্রেই নয়, আত্মীয়-পরিজন এমনকি বয়সে বড় অনেক কাছের মানুষকেও পা ছুঁয়ে প্রণাম করার একটা রীতি রয়েছে। এটা শুধুই যে সম্মান জানানো, শ্রদ্ধা করা বা রীতি নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে বিশেষ কারণও। বা বলা যায়, এর নেপথ্যে রয়েছে বিজ্ঞান।
মহাভারতে উল্লেখ রয়েছে, যুধিষ্ঠির বলেছিলেন, যখন কেউ বড়দের পা ছুঁয়ে প্রণাম করে, সেই ব্যক্তির মধ্যে আলাদা শক্তি আসে। বিশিষ্ট মুনি-ঋষিরা বলেছেন, বড়দের পা ছুঁয়ে প্রণাম করলে আলাদা শক্তি, জ্ঞান, বুদ্ধি, খ্যাতি বাড়ে। এ তো গেল একটা বিষয়। আরও একটা বিষয় খেয়াল করে দেখবেন, এর নেপথ্যে কিন্তু রয়েছে বিজ্ঞানও। পা ছুঁয়ে প্রণাম করার ধাপকে একটি এক্সারসাইজও বলা যায়।
প্রণাম করার সময় দাঁড়িয়ে ঝুঁকতে হয়। শরীরের অর্ধেকটাই বেঁকে যায় ধনুকের মতো। তারপর হাত দিয়ে সেই ব্যক্তির পা ছোঁয়া। এক্সারসাইজও যে হচ্ছে, বুঝতে অসুবিধা হয় না। এটা আরও ভালো এক্সারসাইজ হতে পারে, যদি বাঁ হাত দিয়ে বাঁ পা, ডান হাত দিয়ে ডান পায়ে স্পর্শ করেন। আশীর্বাদও পাওয়া যাবে, সঙ্গে এক্সারসাইজও।
এর নেপথ্যে বিজ্ঞান কী ভাবে আসছে? তথ্য বলছে, প্রত্যেকের শরীরে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক শক্তি থাকে। তথ্য অনুযায়ী, শরীরের বাঁ দিকটায় নেতিবাচক শক্তি এবং ডানদিকে ইতিবাচক শক্তি থাকে। একই ভাবে উল্টোদিকের মানুষটার মধ্যেও তাই। ফলে বাঁ হাত দিয়ে বাঁ পা ছোঁয়া এবং ডান হাত দিয়ে ডান পা, ইতিবাচক ও নেতিবাচক শক্তির সার্কিটটা যেন পূর্ণ হয়।
শক্তির ধারক ও বাহক- মস্তিষ্কে যে স্নায়ু থাকে, তার সঙ্গে শরীরের সংযোগও। তথ্য অনুযায়ী মূল শক্তিটা থাকে পা এবং হাতের আঙুলেই।
বড়দের পা ছুঁয়ে প্রণামের ক্ষেত্রে আরও একটা বিষয় বলা যায়, কিছুক্ষণের জন্য় হলেও ইগো দূরে রাখা যায়। বিশেষ করে যাঁকে প্রণাম করছি, তিনি যদি মাথায় হাত রাখেন, একটা দুর্দান্ত অনুভূতি হয়।
রক্ত সঞ্চালনের ক্ষেত্রেও কার্যকরী! মাথা নত করে বড়দের পা ছোঁয়ার সময় শরীরের উপরের অংশের রক্তসঞ্চালনও উন্নত হয়। পাশাপাশি কোমর, পা এবং শরীরের উপরের অংশের এক্সারসাইজও হয়।
(বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ-এই প্রতিবেদনটি ভারতীয় সংস্কৃতি, বিশ্বাসের ভিত্তিতে শুধুমাত্র তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যেই)