Insurance Premium Decrease: এবার কমবে বিমার প্রিমিয়াম? নির্মলার বাজেট শুনে কী বলছেন বিশেষজ্ঞ? – Bengali News | If there is 100 percent FDI in the insurance market, will the premiums be decreased, know experts opinion
কমতে পারে বিমার প্রিমিয়াম? Image Credit source: PTI
২০২৫-২৬ বাজেট পেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই বিমা ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে বড় ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। এতদিন বিমা ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ সীমিত ছিল ৭৪ শতাংশ অবধি। এবার সেই সীমা বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ করে দেওয়া হল। এর ফলে বিমা ক্ষেত্রে যে বড় প্রভাব পড়তে চলেছে তা বলাই বাহুল্য। বিশেষজ্ঞদের মতে এই সিদ্ধান্ত ২০৪৭ সালের মধ্যে সরকারের ‘ইন্সুরেন্স ফর অল’ লক্ষ পূরণের উদ্দেশ্যেই আরও এক ধাপ।
বিদেশি বিনিয়োগের দরজা পুরোপুরি খুলে দেওয়ার ফলে স্বাভাবিক ভাবেই আরও বড় বড় আন্তর্জাতিক সংস্থা ভারতীয় বিমার বাজারে প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু এর ফলে কী প্রভাব পড়বে? বিমার জন্য বরাদ্দ প্রিমিয়াম কি কমতে পারে? প্রশ্নের উত্তর পেতেই টিভি৯ বাংলা ডিজিটাল যোগাযোগ করেছিল অর্থনীতিবিদ সুপর্ণ পাঠকের সঙ্গে।
সুপর্ণ বাবু বলেন, “বর্তমানে ভারতের বিমা এবং ব্যাঙ্কিং সেক্টর দুই ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হল, ক্যাপিটালাইজেশন বা মূলধন। বিমা সংস্থা চালাতে গেলে বিপুল পরিমাণ মূলধনের প্রয়োজন। কিন্তু এত দিন যে নিয়ম চালু ছিল তাতে, জোগান থাকলেও বিমা কোম্পানিগুলি প্রয়োজনে তাঁদের গ্লোবাল ফান্ডকে ব্যবহার করতে পারত না।”
অর্থাৎ পুনরায় মূলধন জোগানের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ সব সময় চাইলেও নিতে পারত না। যা শুধু যে বিমা ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলত তাই নয়, বরং প্রিমিয়াম বেড়ে যাওয়ার কারণ ছিল। সুপর্ণ বাবুর মতে, বিমা সংস্থাগুলির আরও বেশি করে রি-ক্যাপিটালাইজেশন করতে সুবিধা হবে।
বিদেশি বিনিয়োগের পথ খুলে যাওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের কী সুবিধা হবে? প্রিমিয়াম কি কমতে পারে?
বিমার বাজারে কোম্পানির সংখ্যা বাড়লে, তাঁদের মধ্যে প্রতিযোগীতাও বাড়বে। গ্রাহকদের কাছেও বিকল্প বৃদ্ধি পাবে।
প্রিমিয়াম কী কমতে পারে?
সুপর্ণ বাবু বলেন, “যতক্ষণ না জিএসটি কমছে, প্রিমিয়াম কমবে এটা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তা ছাড়া ভারতে বিমা নিয়ে জালিয়াতি বেশি হয়, সেই সুযোগ নিয়েও বিমা সংস্থাগুলি প্রিমিয়াম বাড়িয়ে রাখে।”
যদিও IRDAI এই বিষয়টি নিয়ে এখন অনেক বেশি সচেতন। এই জালিয়াতি ঠেকাতে এবং প্রিমিয়াম বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণ করতে সচেষ্ট।
সুপর্ণ বাবু বলেন, “নানা কারণে বিমা সংস্থাগুলির মোট আয় বৃদ্ধি এবং ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে কোনও সামঞ্জস্য নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত রাজস্ব আয়ের এই ফাঁককে পূরণ করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।”
এর প্রভাব কতটা কার্যকরী হবে?
নতুন সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকরী হবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। সুপর্ণ বাবুর মতে, বর্তমানে ভারতের বিমা সংস্থাগুলির ‘ক্যাপিটাল অ্যাডিকুইসি'(অর্থাৎ বিমার রেশিও অনুসারে পর্যাপ্ত মূলধনের জোগার করা) করতে সুবিধা হবে।
যদিও একটি উদ্বেগের কথাও উঠে আসছে, তা হল বিদেশি বিনিয়গের দরজা পুরোপুরি খুলে যাওয়ায়, দেশের টাকা বাইরে চলে যেতে পারে। যদিও সুপর্ণ বাবুর বলেন, “বাইরের কোম্পানি দেশে ব্যবসা করলে তারা লাভ করবেই, কিন্তু যে ভয় অনেকেই পাচ্ছেন যে প্রিমিয়ামের টাকা বাইরে চলে যেতে পারে, আমার মনে হয়না সেই রকম কিছু ঘটবে। তা দেশেই থাকবে।”