Crime: মুক্তিপণ চেয়ে মেসেজ, একটা বানান ভুলেই ধরা পড়ল ‘অপহরণকারী’ – Bengali News | Wrong spelling in ransom note helps Uttar Pradesh police crack staged kidnap plot
হারদই: মুক্তিপণ চেয়ে মোবাইলে বার্তা। পাঠানো হল ভিডিয়ো। ভাইকে অপহরণ করা হয়েছে দেখে পুলিশের দ্বারস্থ ব্যক্তি। কিন্তু, শেষমেশ যা হল, তাতে অবাক হল পুলিশ। এমনকি, যে ভাইয়ের জন্য টেনশনে পড়েছিলেন, সেই ভাইয়ের ‘কীর্তি’-তে লজ্জা পেয়ে গেলেন দাদা। ঘটনাটি উত্তর প্রদেশের হারদইয়ের।
ঠিক কী ঘটেছে?
সঞ্জয় কুমার নামে বানদারাহা গ্রামের এক কন্ট্রাক্টর স্থানীয় থানায় অভিযোগ করেন যে, তাঁর মোবাইলে অচেনা নম্বর থেকে মেসেজ এসেছে। ইংরেজিতে ওই মেসেজে লেখা ছিল, তাঁর ভাই সন্দীপকে অপহরণ করা হয়েছে। পাঁচ হাজার টাকা মুক্তিপণ না দিলে তাঁকে খুন করা হবে। মেসেজের পাশাপাশি সঞ্জয়ের মোবাইলে ১৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিয়োও আসে। যেখানে দেখা যায়, দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় রয়েছেন সন্দীপ।
এই খবরটিও পড়ুন
সঞ্জয় পুলিশকে জানান, কারও সঙ্গে তাঁর শত্রুতা নেই। পুলিশ তাঁর মোবাইলে আসা মেসেজটি ভাল করে দেখে। সংবাদসংস্থা পিটিআইকে হারদইয়ের পুলিশ সুপার নীরজ কুমার বলেন, “ইংরেজিতে পাঠানো ওই বার্তায় ‘death’ বানান ভুল লেখা ছিল। লেখা ছিল ‘deth’। যা দেখে বোঝা যায়, অপহরণকারীরা খুব বেশি শিক্ষিত নয়।” অপহরণকারীরা মাত্র ৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ চেয়েছে, এটাও ভাবায় পুলিশকে।
তদন্তে নেমে সন্দীপের মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ। দেখা যায়, তিনি রুপাপুরে রয়েছেন। সেখানে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। সেইসময় তাঁর আশপাশে কোনও অপহরণকারীকে দেখা যায়নি। এরপরই পুলিশ সন্দীপকে মুক্তিপণ চেয়ে মেসেজ লেখার কথা বলে। তাতেই ধরা পড়ে যান সন্দীপ। কারণ, তিনি যে মেসেজ লেখেন, তাতে ‘death’ বানানটি ‘deth’ লেখেন তিনি।
অপহরণের গল্প কেন ফাঁদলেন সন্দীপ?
মির্জাপুরে একটি কারখানায় কাজ করেন সন্দীপ। পুলিশকে তিনি জানান, গত ৩০ ডিসেম্বর তাঁর বাইকের ধাক্কায় এক প্রবীণ ব্যক্তি আহত হন। ওই প্রবীণ ব্যক্তির পায়ে আঘাত লেগেছে। সেজন্য ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন তিনি। সেই ক্ষতিপূরণ দিতেই দাদার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিতে অপহরণের গল্প ফাঁদেন তিনি। জনপ্রিয় ক্রাইম সিরিয়াল ‘সিআইডি’ দেখে এই পরিকল্পনা তিনি ফাঁদেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন বছর সাতাশের সন্দীপ। তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
