Salman Rushdie: নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তিই উধাও, ৩৬ পর ভারতে পাওয়া যাবে রুশদির 'দ্য স্যাটানিক ভার্সেস'? - Bengali News | No Record of Banning Salman Rushdie's Controversial Book Found, Will The Satanic Versus be Available in India After 36 Years, What Court Says - 24 Ghanta Bangla News
Home

Salman Rushdie: নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তিই উধাও, ৩৬ পর ভারতে পাওয়া যাবে রুশদির ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’? – Bengali News | No Record of Banning Salman Rushdie’s Controversial Book Found, Will The Satanic Versus be Available in India After 36 Years, What Court Says

নয়া দিল্লি: দিল্লি থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে হাইজ্যাক হল একটি বিমান। যাত্রীদের পণবন্দী করে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করল হাইজ্যাকাররা। সেই কথাবার্তা চলল মাসের পর মাস। বিমান তখন অজ্ঞাত কোনও জায়গায় দাঁড়িয়ে। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর বিমানটি ফের আকাশে উড়ল। এবং ইংলিশ চ্যানেলের উপর বিমানটি ধ্বংস করে দিল হাইজ্যাকাররা। দুই কিশোরী বাদে বিমানের সব যাত্রীই মারা গেলেন। ওই দুই কিশোরী বেঁচে গেল বটে, কিন্তু তাঁরা আর বাড়ি ফিরল না। এদের একজন ইশ্বরের দূত হয়ে উঠল, অন্যজন শয়তানের প্রতিমূর্তি। এরা নিয়ম করে নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলত। দ্য স্যাটেনিক ভার্সেস উপন্যাসে এই দুই কিশোরীর গল্প শুনিয়েছিলেন সলমন রুশদি।

১৯৮৮ সালে বইটি প্রকাশ হওয়ার পর যা, যা হয়েছে, সেটা নিয়ে দশটা বই লেখা হতে পারে। ভারত সহ দুনিয়ার ৭০টির বেশি দেশে নিষিদ্ধ হয় “দ্য স্যাটেনিক ভার্সেস”। ইসলাম ধর্মের অবমাননার অভিযোগে একের পর এক মৃত্যু পরোয়ানা জারি হয় রুশদির বিরুদ্ধে। রুশদিকে খুন করলে ৩০ লক্ষ ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেন ইরানের তত্‍কালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা রুহেল্লা খোমেইনি। ১৯৮৮ থেকে ২০২৪ – ৩৬ বছরে বারবার কেন্দ্রের কাছে নিষেধাজ্ঞা তোলার আবেদন করেছে বিভিন্ন সংগঠন। এনডিএ হোক বা ইউপিএ সরকার – কেউই গা করেনি। আজ এত বছর জানা গেল, স্যাটেনিক ভার্সেসের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির বিজ্ঞপ্তিটাই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকী এনিয়ে কেন্দ্রের কাছে কোনও নথিই নেই।

নথি নেই, বিজ্ঞপ্তি হারিয়ে গিয়েছে -অথচ বইয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি। ফলে, আপনি ইচ্ছে থাকলেও বিদেশ থেকে বইটি আনাতে পারবেন না। দেশেও প্রিন্ট করতে পারবেন না। পারবেন না, মানে এতদিন পারতেন না। কিন্তু এখন থেকে আর “দ্য স্যাটেনিক ভার্সেস” আনতে বাধা নেই। “দ্য স্যাটেনিক ভার্সেসে”র উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। কেন এই নিষেধাজ্ঞা তোলার নির্দেশ? ভারতে বইটি নিষিদ্ধ করতে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল, সেটি খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকী ওই বিজ্ঞপ্তির নিরিখে যে মেমো তৈরি হয়েছিল, তারও কোনও অস্তিত্ব নেই। ব্যাপারস্যাপার দেখে বিচারপতি প্রশ্ন করেছিলেন, এমন কোনও নিষেধাজ্ঞা আদৌ ছিল তো?

১৯৮৮ সালে যিনি দায়িত্বে ছিলেন, তাঁকেও তলব করে আদালত। অবসরপ্রাপ্ত ওই কর্মী আদালতে বলেন, হ্যাঁ, বিজ্ঞপ্তি ছিল। তবে তাতে কী লেখা ছিল, সেটা তাঁর আর মনে নেই। সব শুনে বিচাপপতিরা জানিয়ে দেন, এরপর আর বিদেশ থেকে স্যাটেনিক ভার্সেস আনিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা থাকতে পারে না। তাই এখন ভারতের যে কোনও নাগরিক চাইলে রুশদির লেখা বহু বিতর্কিত বইটি আনিয়ে পড়তেই পারেন। তবে ভারতে বইটি ছাপানো যাবে কি না, তা নিয়ে নির্দিষ্ট করে কোনও নির্দেশ দেয়নি হাইকোর্ট।

স্যাটেনিক ভার্সেসের ঘটনা নতুন নয়। ধরে আনতে বললে বেঁধে আনার ব্যাপারটা আমাদের দেশে প্রথম থেকেই আছে। জরুরি অবস্থায় প্রশাসনের নির্দেশ ছাড়াই মানুষের উপর নির্যাতন হয়েছে। কিশোর কুমারকে ব্যান করা বা দেব আনন্দের উপর কোপ – সেই ঘটনাতেও একই ব্যাপার।

 জরুরি অবস্থা জারি ও ইন্দিরা গান্ধীর রেডিয়ো ভাষণ-

১৯৭৫ সালের জুন। জরুরি অবস্থা জারি করলেন ইন্দিরা গান্ধী। বিতর্কে উত্তাল দেশ। সমালোচনায় বিদ্ধ ইন্দিরা-সঞ্জয়। সমালোচনার মুখে সরকারও তখন চেষ্টা করছে মানুষকে বোঝাতে যে কেন জরুরি অবস্থা দেশের জন্য জরুরি। চেষ্টা হচ্ছে সেলিব্রিটিদের দিয়ে সরকারের পক্ষে মুখ খোলানোর। মুম্বইয়ে যুব কংগ্রেসের পদযাত্রায় গান গাওয়ার জন্য খোদ সঞ্জয় গান্ধীর কাছ থেকে কিশোর কুমারের কাছে অনুরোধ আসে। কিশোর সরাসরি না বলে দেন। কারণ, জরুরি অবস্থা মানতে পারেননি তিনি।

পরের বছর ১৯৭৬ সালে  সঞ্জয় গান্ধীর মাথা থেকে বেরনো ২০ দফা কর্মসূচি নিয়ে চলছে সরকার। ঠিক হল, এই কর্মসূচির সমর্থনে অল ইন্ডিয়া রেডিয়োয় গান সম্প্রচার করা হবে। গান গাওয়ার জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সিবি জৈন কিশোর কুমারকে ফোন করে অনুরোধ করেন এবং তাঁর বাড়িতেও আসতে চান। কিশোর ফোনেই বলে দেন, গান তিনি গাইবেন না। আর তাঁর বাড়িতে সরকারি অফিসারদের আসতেও হবে না। তখন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ছিলেন সঞ্জয় গান্ধীর ঘনিষ্ঠ বিদ্যাচরণ শুক্লা। তিনি কিশোর কুমারের ওপর রুষ্ট হন। দূরদর্শন ও আকাশবাণীতে কিশোরের গান-সিনেমার সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। কিশোর কুমারকে যাতে ছবিতে প্লে-ব্যাক সিঙ্গার হিসাবে নেওয়া না হয়, সেইজন্য পরিচালক, প্রযোজক, সুরকারদের ওপরও চাপ দেওয়া হয়। বাজার থেকে উধাও হয়ে যেতে থাকে কিশোরের গ্রামাফোন রেকর্ড।

রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমে তাঁকে ব্যান করার নির্দেশের কোনও সরকারি নথি অবশ্য ছিল না। জরুরি অবস্থা শেষ হয়ে যাওয়ার পর দূরদর্শন-আকাশবাণীতে আবার কিশোর ফিরে আসেন। আর মোরারজি দেশাই সরকারের সময় তৈরি শাহ কমিশনের কাছে বিদ্যাচরণ শুক্ল স্বীকার করে নেন যে তাঁর এবং সঞ্জয় গান্ধীর ইচ্ছাতেই কিশোর কুমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। জরুরি অবস্থার সমালোচনা করে একইভাবে দেব আনন্দও সরকারের কোপে পড়েছিলেন। পরে একাধিক সাক্ষাতকারে তিনি নিজে একথা জানান। দূরদর্শনে এমার্জেন্সির পক্ষে বলার অনুরোধ ফিরিয়ে দেন দেব আনন্দ। উল্টে জুহুতে এক সভায় প্রকাশ্যেই ইন্দিরা গান্ধী-সঞ্জয় গান্ধীর সমালোচনা করেন তিনি। দূরদর্শনে দেব আনন্দের ছবি দেখানোও বন্ধ হয়ে যায়।

তবে, আরেকভাবেও ব্যান হয়েছিলেন ভারতের গ্রেগরি পেক। সেজন্য, অবশ্য তাঁকে আফশোস করতে শোনা যায়নি। পাঁচের দশকের মাঝামাঝি। একের পর এক হিট ছবি। দেব আনন্দের জন্য তখন মহিলারা পাগল। ১৯৫৮ সালে মধুবালার সঙ্গে তাঁর কালাপানি ছবি রিলিজ করে। সেই ছবিতে কালো কোটে দেব আনন্দকে দেখে তাঁর মহিলা ফ্যানরা আর নিজেদের সামলে রাখতে পারেননি। দেব আনন্দ রাস্তায় বেরোলে তাঁকে ঘিরে মহিলাদের ভিড়ে তখন গণ্ডগোল শুরু হয়ে যেতো। রাস্তায় দেব আনন্দকে দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে এক মহিলা, দোতলার বারান্দা থেকে ঝাঁপ দিয়ে মারাও যান। এরপর দেব আনন্দকে বলা হয়, কালো কোট আর তিনি পরতে পারবেন না। কালো কোটে তাঁকে এতই হ্যান্ডসাম লাগছে যে মহিলাদের ধরে রাখা যাচ্ছে না। পুলিশ, সরকার, না মামলার সূত্রে কোনও আদালত। কে এই কালো কোট না পরার নির্দেশ দিয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে, তারপর থেকে দেব আনন্দের কালো কোট পরা বন্ধ হয়ে যায়। যদিও, রঙিন পোশাকেই জীবনের শেষদিন পর্যন্ত রঙিনই রয়ে যান দেব সাহাব।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *