বারবার আক্রান্ত মার্কিন রাষ্ট্রনেতারা, কেন বন্দুক তুলে নেন আমেরিকানরা? – Bengali News | How safe are the residents of america
নভেম্বর ৫। ২০২৪। হতে চলেছে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ নির্বাচন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেছে নেবে দেশের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট। এই প্রেক্ষাপটেই নির্বাচনী প্রচারে ফিলাডেলফিয়ার বাটলার শহরে গুলি ছুঁয়ে চলে গেল রিপাবলিকান প্রার্থী প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন তিনি। বছর কুড়ির থমাস ম্যাথিউ ত্রুকের চালানো গুলি এসে লাগলো তাঁর কানে। কিন্তু এই খুনের চেষ্টা তুলে দিল অনেক প্রশ্ন। প্রশ্ন আমেরিকার গণতন্ত্র নিয়ে। প্রশ্ন আমেরিকার নাগরিকদের সুরক্ষা নিয়ে। কেন চলল এই গুলি? কতটা নিরাপদ আমেরিকার বাসিন্দারা? এই ঘটনা কতটা প্রভাব ফেলবে আসন্ন নির্বাচনে? তারই উত্তর খুঁজবো আজকের নিউজ সিরিজে। আজকের TV9 বাংলা নিউজ সিরিজ ‘আমেরিকায় বন্দুকরাজ’।
আজকের নিউজ সিরিজে চারটি পর্ব রয়েছে। আক্রান্ত ট্রাম্প, লিঙ্কন থেকে রেগান, নজরে বন্দুক, কী প্রভাব ভোটে?
আক্রান্ত ট্রাম্প
গতবছর। জুন মাস। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমেরিকা সফরে গিয়েছিলেন। সেবার মোদির বার্তা ছিল গণতন্ত্রের। একই বার্তা ট্রাম্পও দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ভারতে এসে। ২০১৯-এ হিউস্টনে ‘হাউডি মোদী’ এবং তার পরে আমদাবাদে ‘নমস্তে ট্রাম্প’ অনুষ্ঠানে দুই নেতার মধ্যে এক অদ্ভুত কেমিস্ট্রি দেখেছিল গোটা পৃথিবী। সেই ট্রাম্পের উপর গুলি চলায় তোলপাড় হয়েছে বিশ্ব, আঁচ এসে পড়েছে নিউ দিল্লির সাউথ ব্লকেও। সম্প্রতি রাশিয়া গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে পুতিনের সঙ্গে তাঁর কোলাকুলির ছবি হোয়াইটহাউস ভাল ভাবে নেয়নি। তবে ট্রাম্প ক্ষমতায় এলে রাশিয়া – ভারত সম্পর্ক নিয়ে যে ওয়াশিংটনের মাথা ব্যাথা হবে না সেরকমই মনে করছে দিল্লি। ট্রাম্পের বিদেশনীতিতে চীনের আগ্রাসন রাশিয়ার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পুতিনের সঙ্গেও সুসম্পর্ক ছিল ট্রাম্পের। এমনকি ক্রেমলিন বাইডেন সরকারের ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছে ট্রাম্পের উপর গুলি চালানোর ঘটনায়। ফলে আমেরিকার ভোটের আগে ট্রাম্পের ওপর গুলি চালানোর ঘটনা অনেক ইকুয়েশনকেই সামনে নিয়ে আসছে। তবে ১৩ তারিখ সন্ধ্যে বেলা কেন টমাস এই হামলা চালালো সেই নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। ট্রাম্পই প্রথম নন, এর আগেও গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ পর্যন্ত হারিয়েছেন আমেরিকার চার জন প্রেসিডেন্ট। আততায়ীর হাত থেকে রেহাই পাননি অনেক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীও।
লিঙ্কন থেকে রেগান
৩০ জানুয়ারি, ১৯৪৮। একবছরও পার হয়নি স্বাধীন হয়েছে ভারত। সর্বধর্মের সাধনা শেষে বিড়লা হাউস থেকে বের হচ্ছিলেন মহাত্মা গান্ধী। বিকেল পাঁচটা। হঠাৎ পকেট থেকে বেরিয়ে এল একটা রিভলভার। তাক করলো গান্ধীজিকে। পর পর তিনটে গুলি। মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন মহাত্মা গান্ধী। আমাদের দেশ প্রথম দেখলো কোনও রাষ্ট্রনেতার হত্যা করা হল জনসমক্ষে। সেই হত্যার পিছনে লুকিয়ে ছিল সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদের বীজ। মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি ছিল লক্ষ্য সেই হত্যাকারীর। আমাদের দেশে জাতপাত, ধর্ম-বর্ণের নামে বিভেদ যুগ যুগ ধরে চলছে। কিন্তু আমেরিকায়? আমেরিকা শুনলেই তো আমরা উন্নতশীল দেশের ছবি দেখি। কিন্তু সেখানেও তো চামড়ার রঙের ভিত্তিতে আজও মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করা হয়। আর সেই বিভেদ মুছতে এগিয়ে আসা রাষ্ট্রনেতা বা প্রেসিডেন্টদের কী পরিণতি হয়েছিল? দেখাব, আজকের দ্বিতীয় পর্বে।
নজরে বন্দুক
আমেরিকা। ৯-১১-র ঘটনা তলিয়ে দিয়েছিল গোটা আমেরিকাকে। আল-কায়দা প্রধান বিন লাদেনের নেতৃত্বে চলা জঙ্গি হামলায় কেঁপে উঠেছিল আমেরিকার মাটি। মাটিতে মিশেছিল ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, কেঁপে উঠেছিল পেন্টাগন। কিন্তু সে তো বহিঃশত্রুর আক্রমণ। কিন্তু দেশের ভিতরে কি অবস্থা আমেরিকার। গতবছর আমেরিকান বন্দুকবাজদের দাপটে কতজনের মৃত্যু হয়েছে জানেন? ২০২৩ সালে প্রথম দেড় মাসের মধ্যেই ৫২ টি শুট আউটের ঘটনা ঘটেছিল আমেরিকায়। জানুয়ারি মাসেই নিহতের সংখ্যা ছিল ৯৮ আর জখম হয়েছিলেন ৭০০-র বেশি মানুষ। কিন্তু আমেরিকাতে কি বন্দুক খুব সহজেই পাওয়া যায়? কেন? কেন ঘরে ঘরে বন্দুক আমেরিকায়? সেই নীতিই কি দেখে আনছে বিপদ? দেখাব আজকের তৃতীয় পর্বে।
কী প্রভাব ভোটে?
১৪ বছর পর ইংল্যান্ডে ফের ক্ষমতা দখল করেছে লেবার পার্টি। ফ্রান্সেও জয়জয়কার বামপন্থীদের। ইউরোপে বিনা রক্তপাতে পাশা পাল্টে গেল। কিন্তু আমেরিকায়? আমেরিকা যেন হিংসার এক চরম ছবি দেখল। ট্রাম্পের ওপর গুলি যেন সেই সাক্ষ্যই দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শেষ কয়েকমাসে এমনিতেই কোনঠাসা হচ্ছিলেন, প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেটে কথা বলতে গিয়ে যে ভুলেই যাচ্ছিলেন বাইডেন। সেখানে ৭৭ বছরের ট্রাম্প অনেক বেশি সাবলীল। এই গুলিকাণ্ডের পর কি আরও ব্যাকফুটে বাইডেন?