G7 Leaders in Italy: মাফিয়াদের শহর ‘আপুলিয়া’, এখানকার রিসর্টেই আজ শুরু জি-সেভেন গোষ্ঠীর বৈঠক – Bengali News | Italy: G7 leaders agree to $50 billion loan for Ukraine
জায়গাটার নাম আপুলিয়া। স্থানীয়রা ডাকেন পুগলিয়া। দক্ষিণ ইতালির ছবির মত সুন্দর এক ছোট্ট শহর। এখানকার এক রিসর্টেই আজ থেকে শুরু হল জি-সেভেন গোষ্ঠীর বৈঠক। এই শহরটাকে নিয়েও গল্পের শেষ নেই। আগে সেগুলো আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিই। প্রথমেই বলি পুগলিয়া এই মুহূর্তে ইতালির মাফিয়া চক্রের নার্ভ সেন্টার। দুটো বড় মাফিয়া সিন্ডিকেটের হেড কোয়াটার্সও এই শহরেই। রাস্তায় হাঁটলেই আপনার চোখে পড়বে নানা অনলাইন এজেন্সি। এগুলো আসলে সবই মাফিয়া গোষ্ঠীর অফিস। মাফিয়া সিন্ডিকেট মানেই এখন আর শুধু ড্রাগের কারবার, গ্যাং ওয়ার, সোনা পাচার নয়। পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইও এখন অনেকটা কমে এসেছে। মাফিয়া সিন্ডিকেট সব এখন অনেকটাই অনলাইন নির্ভর। আর তার মানে শুধু অনলাইনে ড্রাগ বা অস্ত্র বিক্রি নয়। ইতালির মাফিয়ারা এক্ষেত্রে কয়েক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে। তাঁরা ফ্লিপকার্ট, আমাজনের মতো এসট্যাবলিসমেন্ট সেন্টার তৈরি করে ব্যবসা করছে। বিজ্ঞাপন দিয়ে কর্মী নিচ্ছে। এমনকি কয়েকটা মাফিয়া গোষ্ঠী তো বিদেশেও অফিস খুলে ফেলেছে। এই যে নতুন ট্রেন্ড, এটার বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে পুগলিয়ার তিনটে মাফিয়া গ্রুপ। এক, ২০২৩ সালে ইতালির বড় মাফিয়া গোষ্ঠীগুলো ১২ লক্ষ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। বড় অংশই এসেছে হোয়াইট কলার ক্রাইম থেকে। মানে কর্পোরেট শক্রতা, প্রতারণা, টাকা-সোনা চোরাচালান ইত্যাদি। ইতালির সবচেয়ে বেশি প্রচারিত দৈনিকেই খবরটা পেলাম। দুই, আগে প্রায়ই মাফিয়া গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ হত। মানুষ মরত। এখন তারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে এলাকা ভাগ করে নিয়েছে। আর তিন, ইতালির যে শহরগুলোয় মাফিয়া রাজ চলে, সেখানকার প্রশাসন এখন কোনও না কোনওভাবে ওইসব মাফিয়া গোষ্ঠীর হাতে। কোথাও কোথাও মাফিয়া লিডাররাই জনপ্রতিনিধি হয়ে বসেছেন। রাজনীতিও এখন মাফিয়াদের অন্যতম লাভজনক ব্যবসা। ছোটবেলা থেকেই ইতালির মাফিয়া লিডারদের নিয়ে দারুণ দারুণ সব গল্প শুনেছি। আল কোপেন, বুগসি সিগেল, লুকি লুসিয়ানো, বিখ্যাত সব নাম। তবে পুগলিয়া এখন যেভাবে মাফিয়া সিন্ডিকেটকে বদলে দিয়েছে, সেটা এরাও ভাবতে পারেননি। সেই পুগলিয়াতেই জি-সেভেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। হাজির হয়েছেন দুনিয়ার তাবড় শক্তিশালী দেশের প্রধানরা। আমন্ত্রিত দেশ হিসাবে বৈঠকে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক অর্থে তিনিই জি-সেভেনের মঞ্চে গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধি। এসব বৈঠক আদতে পিকনিকের চেয়ে বেশি কিছু নয়। অনেকেই এমন অভিযোগ করে থাকেন। এনিয়ে তর্কে যাচ্ছি না। তবে এবার পুগলিয়ায় দুটো ব্যাপারে মাথা ঘামাতেই হবে বাইডেন, ঋষি সুনক, মাকরঁ, ফুমিও কিশিদা-দের। এক ইউক্রেন যুদ্ধে ক্রমেই কোণঠাসা হচ্ছেন জেলেনস্কি। আর পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কট মেটার কোনও লক্ষণ এখনও নেই।