পুজোর পাস বিক্রির দুর্নীতি: ফ্রিজ় ২৭টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট
এই সময়: ইউনেস্কো–র নাম ভাঁড়িয়ে দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’–এর পাস বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে নেমে ২৭টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করল কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। অ্যাকাউন্টগুলি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর সংস্থা ‘মাস আর্ট’–এর সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভ–র বলে লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয় ধ্রুবজ্যোতিকে। তাঁকে বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির করানো হয়। ধৃতকে ১৪ দিনের জন্য হেফাজতে পেতে আবেদন করা হয় পুলিশের তরফে।
এ দিন আদালতে সরকারি কৌঁসুলি জানান, কোটি কোটি টাকা লুট করা হয়েছে। ইউনেস্কোর লোগো জাল করা হয়েছে, ভুয়ো নথিতে যে সই রয়েছে, সেটা ইউনেস্কোর কর্তার বলে দাবি করা হয়েছিল। লালবাজারের তরফে ইউনেস্কোর কাছে জানতে চাওয়া হয়, মাস আর্ট–এর সঙ্গে কি তাদের কোনও চুক্তি হয়েছিল? ইউনেস্কো ই–মেল করে কলকাতা পুলিশকে জানিয়েছে, এ রকম কোনও চুক্তি তাদের সঙ্গে হয়নি। আদালতে সরকারি কৌঁসুলির বলেন, ‘মামলার তদন্তে এক জনের গোপন জবানবন্দি নিতে হবে। অভিযুক্তকে ১৪ দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেওয়া দরকার।’
এই দুর্নীতির তদন্তের সূত্রে বৃহস্পতিবার লালবাজারে হাজিরা দিয়েছেন ইন্দ্রনীল সেনের মেয়ে আভেরী সেন। পুলিশ তৃতীয় বার নোটিস পাঠানোর পরে এ দিন তিনি হাজিরা দেন। সূত্রের খবর, আভেরী এ দিন দুপুরে লালবাজারে পৌঁছন, সেখান থেকে বেরোন বিকেলে। আভেরীর দু’টি সংস্থার হদিশ পেয়েছে পুলিশ। দুর্গাপুজো দেখার জন্য পাস বিক্রির নামে হওয়া দুর্নীতিতে যে তিনটি সংস্থা অভিযুক্ত, সেগুলিতে আভেরীর দু’টি সংস্থা থেকে টাকা পাঠানো হয়েছে বলে তদন্তকারীরা জেনেছেন।
বৌবাজার থানায় যিনি এই দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের করেন, সেই জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের আইনজীবী ফজলে আহমেদ খান এ দিন আদালতে জানান, সুপ্রিম কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করলেও পরে তা তুলে নিয়ে ধ্রুবজ্যোতি লালবাজারে গিয়ে তদন্তকারী অফিসারদের মুখোমুখি হন।
ফজলে আহমেদ খানের বক্তব্য, পর্যটন দপ্তরের বছরভর বিভিন্ন কর্মসূচির বাজেট ছিল সব মিলিয়ে ৪০০ কোটি টাকা এবং এ ক্ষেত্রে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের বাজেট ছিল প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। ইন্দ্রনীল সেন পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রী এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ওই আইনজীবীর কথায়, ‘দুর্গাপুজোকে কমার্শিয়াল করা হয়। টিকিটের দাম রাখা হয়েছিল ১,৭৪৯ টাকা থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত। এ ভাবে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়।’ অভিযোগকারী জয়দীপের আইনজীবী বলছেন, ‘মাস আর্টের সেক্রেটারি ধ্রুবজ্যোতি বসুই এই গোটা চক্রের কিংপিন। টাকা দিয়ে কেন ঠাকুর দেখতে হবে?’
ধ্রুবজ্যোতির আইনজীবী সোমনাথ সান্যাল এ দিন আদালতে দাবি করেন, তাঁর মক্কেলকে পোদ্দার কোর্টের কাছে কেআইটি বিল্ডিং থেকে গ্রেপ্তার বলে দেখানো হচ্ছে, অথচ তিনি নিজেই পুলিশকে ই–মেল করে হাজিরা দিতে যান। তাঁর মক্কেল লালবাজারে আত্মসমর্পণ করতে গিয়েছিলেন বলে ধ্রুবজ্যোতির আইনজীবীর বক্তব্য। সব পক্ষের সওয়াল–জবাব শুনে বিচারক ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ধ্রুবজ্যোতিকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায় এ দিন বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে আমাকে হুমকি–ফোন, আমার গাড়ি অনুসরণ করা এবং আমার বাড়ির উপর নজর রাখা হচ্ছে। এই নিয়ে আমি আগেই বেহালা থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলাম। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বুধবার রাতে এফআইআর করেছে। নিরাপত্তা চেয়ে আমি কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়েছিলাম আগেই। আশা করি, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।’