বাণিজ্য বন্ধের হুঁশিয়ারি ঢাকার, শুরু পণ্য খালাস
রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলের শ্রমিক সংগঠনের শ্রমিকরাই পেট্রাপোল বন্দরে পণ্য খালাসের কাজের ভাগ বেশি পান। এই নিয়ম বাম এবং তৃণমূলের আমলে যেমন ছিল, একই নিয়ম হয়েছে বিজেপির সময়েও। কিন্তু বিপত্তি বাধে পণ্য খালাসের কাজে যুক্ত ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের দখলদারি নিয়ে কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর এবং খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার মধ্যে বিবাদের ফলে। ডবল ইঞ্জিন সরকারের দুই মন্ত্রীর কাজের ভাগ বাঁটোয়ারা নিয়ে বিএমএসের শ্রমিকদের মধ্যে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। এর ফলে গত দু–তিন দিন ধরে পণ্য খালাসের কাজ যথেষ্ট বিঘ্ন ঘটেছে। নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে যে দিন পণ্যবাহী ট্রাক ভারতে ঢুকবে, সে দিনই ওই পণ্য খালাস করে দেওয়া হয়। কিন্তু শ্রমিক অসন্তোষের জেরে বিদেশি গাড়ির পণ্য খালাস হচ্ছিল না। মঙ্গলবার বাংলাদেশ থেকে আসা পচনশীল পণ্য খালাসের কাজ করছিলেন বিএমএসের একদল শ্রমিক। অভিযোগ, মঙ্গলবার বিকেলের পর তাঁরা বন্দরের বাইরে আসতেই তাঁদের উপরে চড়াও হন বিএমএসের অন্য গোষ্ঠীর কর্মীরা। আক্রান্ত হন শান্তনুর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন শ্রমিক। বুধবার আক্রান্ত শ্রমিকরা বনগাঁ পুলিশ সুপারের কাছে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে অভিযোগ জানান। বন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বাংলাদেশ থেকে ১৮৯টি পণ্যবাহী ট্রাক রপ্তানির জন্য পেট্রাপোল বন্দরে ঢোকে। এর মধ্যে ৯টি ট্রাকে ছিল পচনশীল সামগ্রী ও মাছ। মাছ দ্রুত খালাস না করলে পচে গিয়ে ব্যাপক টাকার ক্ষতি হবে। এই আশঙ্কায় পেট্রাপোল বন্দরের ক্লিয়ারিং এজেন্ট সংগঠন এবং ল্যান্ড পোর্ট অথরিটির তৎপরতায় কিছু পণ্য খালাস করানো হয়। কিন্তু বাকি ১৮০টি বাংলাদেশের পণ্যবাহী ট্রাক ভারতীয় এলাকায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই রপ্তানির জন্য ট্রাক পাঠানো বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের ক্ষতির পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা বলে জানা গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে পেট্রাপোল বন্দরের শুল্ক দপ্তরের ক্লিয়ারিং এজেন্ট সংস্থার সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, ‘পণ্য খালাস নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যে বাংলাদেশ সরকার পণ্যবাহী ট্রাক পাঠানো বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এ দিন সকালেই বিষয়টি জানিয়ে শুল্ক কমিশনারকে মেল করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের হুঁশিয়ারির পর শ্রমিকরা নিজেরাই কাজ হারানো এবং রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধের আশঙ্কায় সুর নরম করে পণ্য খালাস শুরু করেছে।’