নকল বাজি বিক্রির অভিযোগে বাদ ৩ স্টল, ময়দানে কড়া নজরদারি
কলকাতা: চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনার পর কালীপুজোর বাজি বাজারে নিরাপত্তা ও নিয়ম মানার বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছে আয়োজকরা। গত বছর ময়দানের বাজি বাজারে (Firecracker Market) নকল…
কলকাতা: চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনার পর কালীপুজোর বাজি বাজারে নিরাপত্তা ও নিয়ম মানার বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছে আয়োজকরা। গত বছর ময়দানের বাজি বাজারে (Firecracker Market) নকল ও নিষিদ্ধ বাজি বিক্রির অভিযোগে তিনটি স্টলকে এ বছর জায়গা দেওয়া হচ্ছে না। নিষিদ্ধ, স্থানীয়ভাবে তৈরি অননুমোদিত এবং নকল বাজি যাতে বাজারে ঢুকতে না পারে, তার জন্য এবার আরও কঠোর পরীক্ষা ও নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বুধবার চূড়ান্ত পরিদর্শনের পর বাজার চালু হওয়ার কথা। এবারের বাজি বাজারে মোট ৪০টি স্টল থাকবে। প্রতিটি স্টলের মালিক লিখিত অঙ্গীকারপত্রে জানিয়েছেন, তাঁদের স্টলে কোনও নকল, নিষিদ্ধ বা অননুমোদিত স্থানীয় বাজি মজুত কিংবা বিক্রি করা হবে না। নিয়ম ভাঙলে স্টলের বরাদ্দ বাতিল করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে অভিযোগ জানানো হবে বলে জানিয়েছে বরাবাজার ফায়ারওয়ার্কস ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (BFDA)।
স্টলের দূরত্ব বাড়িয়ে ১০ ফুট
সোমবার বাজি বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন পুলিশ, দমকল এবং কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা। BFDA-র সভাপতি শান্তনু দত্ত জানিয়েছেন, এবারের বাজারে নিরাপত্তা ও নিয়ম মেনে চলাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তাঁর কথায়, বাজি বাজারে নিরাপত্তা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে চোরবাগানের ঘটনার পর এবার পরীক্ষা আরও কঠোর করা হয়েছে। আগে দুটি স্টলের মধ্যে দূরত্ব ছিল ৩ মিটার বা প্রায় ৯.৮ ফুট। এবার সেই দূরত্ব বাড়িয়ে ১০ ফুট করা হয়েছে।
বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে বাজার পরিদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শান্তনু দত্ত জানিয়েছেন, চূড়ান্ত পরিদর্শন শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র মিললেই বাজি বিক্রি শুরু হবে।
শুধু CSIR-NEERI অনুমোদিত সবুজ বাজি
BFDA-র কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল কুমার গোলচার বক্তব্য, এবারের বাজারে শুধুমাত্র CSIR-NEERI অনুমোদিত পরিবেশবান্ধব বাজি বিক্রির অনুমতি থাকবে।
বাজারের ৯০ শতাংশেরও বেশি বাজি সংগ্রহ করা হয়েছে তামিলনাড়ুর শিবাকাশীর প্রতিষ্ঠিত নির্মাতাদের কাছ থেকে। বাংলার ক্ষেত্রে মাত্র তিনটি CSIR-NEERI অনুমোদিত সংস্থার বাজি বিক্রি করা যাবে। সংস্থাগুলি হল আকাশ গঙ্গা, চ্যাম্পিয়ন এবং বুড়িমা।
বাংলার এই তিন নির্মাতার কাছ থেকে মূলত ফুলঝুরি, চরকি এবং স্পার্কলার নেওয়া হবে। অন্যদিকে, বেশিরভাগ শেল, শট এবং রিপিটার বাজি আসবে শিবাকাশী থেকে।
নকল Cock ও Sony বাজি বিক্রেতাদের বাদ
গত বছর বাজি বাজারে নকল Cock এবং Sony ব্র্যান্ডের বাজি বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত তিনটি স্টলকে এ বছর বাজারে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। BFDA তাদের কালো তালিকাভুক্ত করেছে।
আয়োজকদের বক্তব্য, কোনও স্টলে নকল বা নিষিদ্ধ বাজি পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে বরাদ্দ বাতিল করা হবে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাকে জানানো হবে। চূড়ান্ত পরিদর্শন ও প্রশাসনিক ছাড়পত্রের পরেই ময়দানের এই বাজি বাজারে বিক্রি শুরু হবে।
The latest news from Kolkata, including traffic updates, civic issues, weather, accidents, administrative decisions, and other important information for daily life, is published in this section. Stay tuned regularly to keep up with all the latest updates from the city.