Malda Flood: গঙ্গা গিলে খেয়েছে সব, সেই গঙ্গার জলই খেয়ে চলছে বেঁচে থাকার লড়াই! রতুয়ার গ্রাম আজ খণ্ডহর | Malda Flood: Ganga Swallows Villages in Ratua, Families Take Shelter on Broken Embankment
বন্যায় ভয়াবহ ছবি মালদহের রতুয়ায়Image Credit: TV9 Bangla
মালদহ: যত দূর চোখ যায়, শুধু জল আর জল। দেখা যাচ্ছে কয়েকটি বাড়ির চাল আর গাছ। উত্তাল গঙ্গা যেন গিলে নিয়েছে সবকিছু। ভেসে গিয়েছে বাঁধ। কোথাও অবশ্য বাঁধের এক টুকরো অংশ মাথা তুলে রয়েছে। সেখানেই এখন আশ্রয় নিতে হয়েছে একাধিক পরিবারকে। বিপজ্জনক। তাঁরাও জানেন। কিন্তু, কিছু যে করার নেই। এখন এমনই অবস্থায় মালদহের রতুয়ার।
গঙ্গা ও ফুলহার নদী ঘিরে থাকা মানিকচকের একটা দিক হল ভুতনি। বন্যা প্লাবিত সেই ভুতনির করুণ ছবি গত কয়েকদিনে বারবার সংবাদমাধ্যমে উঠেছে। কার্যত গঙ্গার পেটে চলে গিয়েছে ভুতনি। আর ভুতনির পাশেই রয়েছে রতুয়া। সেখানকার একাধিক গ্রামের ছবিটা ভয়াবহ।
টিভি৯ বাংলার প্রতিনিধি পৌঁছে গিয়েছিলেন কেশরপুর কলোনিতে। নৌকায় চেপে সেখানে যাওয়ার পথে জল ছাড়া কার্যত কিছু দেখা গেল না। বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। যে জায়গায় বাঁধ মাথা তুলে রয়েছে, সেখানে একাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু, ওই পরিবারগুলির কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়াও যথেষ্ট কষ্টকর। সেখানে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলি বলল, “আমরা কোনও সাহায্য পাইনি। গঙ্গার জল খেতে হচ্ছে।” কথা বলার সময় তাঁদের চোখেমুখে ক্ষোভ আর আতঙ্ক একসঙ্গে ধরা পড়ছিল।
একদিকে গঙ্গা আর একদিকে ফুলহার নদী। মাঝখানে খাসমহল গ্রাম। সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন টিভি৯ বাংলার প্রতিনিধি। রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের এই গ্রাম চারদিক থেকে জলমগ্ন। যেন দ্বীপের মতো জেগে রয়েছে গ্রামটি। এই গ্রামের দু’দিক দিয়ে বইছে গঙ্গা ও ফুলহার। এই দুই নদী এক হয়ে গেলে সমূহ বিপদ। গ্রামবাসীরা বলছেন, দুটি নদীই পাড় ভেঙে এগিয়ে আসছে।
আবার রতুয়া ১ ব্লকের পশ্চিম রতনপুরের চিত্রটাও ভয়াবহ। রতুয়া আর মানিকচক, এই দুই ব্লকের মাঝখানে এই গ্রাম। এখন কি আর গ্রাম বলা চলে? ধ্বংসলীলা চালিয়েছে গঙ্গা। নিশ্চিহ্ন হয়েছে বাড়িঘর, চাষের জমি। ধ্বংসস্তূপে পরিণত স্কুল। খণ্ডহর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পশ্চিম রতনপুর গ্রাম। সব হারিয়ে গ্রাম ছেড়েছেন বাসিন্দারা। যে কয়েকজন রয়েছেন, কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন তাঁরা। কবে এই যন্ত্রণার অবসান হবে, সেদিকেই তাকিয়ে সবাই।