INS কলকাতা সম্পূর্ণ নিরাপদ! পাকিস্তানকে তুলোধোনা বিদেশমন্ত্রকের
নয়াদিল্লি: আরব সাগরে ভারত ও পাকিস্তানের নৌবাহিনীর (INS Kolkata)দুই যুদ্ধজাহাজের সংঘর্ষ ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ INS কলকাতা এবং পাকিস্তানি…
নয়াদিল্লি: আরব সাগরে ভারত ও পাকিস্তানের নৌবাহিনীর (INS Kolkata)দুই যুদ্ধজাহাজের সংঘর্ষ ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ INS কলকাতা এবং পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জাহাজ PNS হুনাইনের মধ্যে ১৫ সেপ্টেম্বর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে দুই দেশ।
তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের বক্তব্য, INS কলকাতা নিয়মিত মোতায়েনের অংশ হিসেবে পশ্চিম আরব সাগরে ছিল। সেই সময় PNS হুনাইন সমুদ্রে ‘অপেশাদার এবং অগ্রহণযোগ্য’ আচরণ করে বিপজ্জনকভাবে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজটিকে ওভারটেক করার চেষ্টা করেছিল। তার ফলেই সংঘর্ষ ঘটে বলে ভারতের দাবি।
আরও দেখুনঃ UPI তে MDR চালুর আগেই বিতর্ক! পেট্রোল পাম্পে ২০০০ র বেশি বিলে অনলাইনে না
শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বিষয়টি নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেন(INS Kolkata)। তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া বরাবরের মতোই এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং সত্য আড়াল করার প্রয়াস। ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের তোলা সমস্ত অভিযোগও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। জয়সওয়ালের বক্তব্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে INS কলকাতার কোনও বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি এবং ভারতীয় যুদ্ধজাহাজটি সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে।
Advertisements
ভারতের তরফে আরও জানানো হয়েছে, PNS হুনাইনের বিপজ্জনক ওভারটেকিংয়ের চেষ্টা শুধু সমুদ্রে নিরাপত্তার দিক থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ নয়, বরং ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৯১ সালের একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তিরও লঙ্ঘন। ওই চুক্তিতে দুই দেশের সামরিক মহড়া, যুদ্ধাভ্যাস এবং সামরিক গতিবিধি সম্পর্কে আগাম তথ্য আদানপ্রদানের বিষয়টি নির্ধারিত রয়েছে। ভারতের দাবি, চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সমুদ্রে দুই দেশের নৌ-ইউনিটকে একে অপরের থেকে অন্তত তিন নটিক্যাল মাইল দূরত্ব বজায় রাখতে হয়।
নয়াদিল্লির বক্তব্য, PNS হুনাইন দ্রুতগতিতে INS কলকাতার (INS Kolkata)কাছে চলে আসে এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভারতীয় জাহাজটিকে অতিক্রম করার চেষ্টা করে। এর ফলেই দুই নৌযানের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ভারত এই আচরণকে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পাশাপাশি সমুদ্রে সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য নির্ধারিত আন্তর্জাতিক নিয়মেরও পরিপন্থী বলে দাবি করেছে।
আরও দেখুনঃ নিঠারি কাণ্ডে খালাস পাওয়ার পরেই চরম পরিণতি! হরিদ্বারে আত্মঘাতী সুরেন্দ্র কোহলি
ঘটনাটি ঘটে ১৫ সেপ্টেম্বর। সেই সময় INS কলকাতা আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিয়মিত মোতায়েনের দায়িত্ব পালন করছিল বলে ভারতের বক্তব্য। অন্যদিকে পাকিস্তানের দাবি সম্পূর্ণ আলাদা। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, ঘটনাটি পাকিস্তানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে তাদের ‘Sea Spark-26’ নৌমহড়া চলাকালীন ঘটেছে। পাকিস্তান ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে তাদের নৌযানের কাছাকাছি এসে আক্রমণাত্মক ধরনের সামুদ্রিক কৌশল করার অভিযোগ তুলেছে। অর্থাৎ সংঘর্ষের কারণ নিয়ে দুই দেশের বক্তব্য কার্যত পরস্পরবিরোধী।
ঘটনার পর ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। ফলে নৌযানের সংঘর্ষের বিষয়টি শুধু সামরিক ঘটনা হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার কারণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে সংঘর্ষে দুই জাহাজের ক্ষয়ক্ষতি নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, INS কলকাতার বড় কোনও ক্ষতি হয়নি এবং যুদ্ধজাহাজটি নিরাপদেই রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, PNS হুনাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি বন্দরের দিকে ফিরে যায়। তবে সংঘর্ষের প্রকৃত পরিস্থিতি এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ মাত্রা নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনও সীমিত।