অগ্নিবীরদেরও হানি ট্র্যাপ! আইএসআইয়ের নজরে তরুণ সেনা, চলছে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্যান - 24 Ghanta Bangla News
Home

অগ্নিবীরদেরও হানি ট্র্যাপ! আইএসআইয়ের নজরে তরুণ সেনা, চলছে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্যান

Spread the love

সংবেদনশীল এলাকায় মোতায়েন একাধিক অগ্নিবীরের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এখন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরে। বিদেশি গুপ্তচর সংস্থা, বিশেষ করে পাকিস্তানের আইএসআই-এর হানি ট্র্যাপের জালে অগ্নিবীরদের কয়েকজন জড়িয়ে পড়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনলাইন কথোপকথনের মাধ্যমে তাঁরা কোনও গোপন বা শ্রেণিবদ্ধ তথ্য শেয়ার করেছেন কি না, সেই বিষয়েও চলছে তদন্ত।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে যুক্ত এক নিরাপত্তা আধিকারিক জানিয়েছেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলি বেশ কয়েকজন অগ্নিবীরকে চিহ্নিত করেছে, যাঁদের সন্দেহভাজন হানি ট্র্যাপ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ওই আধিকারিকের দাবি, অনলাইনে কথোপকথনের সময় অগ্নিবীররা কোনও শ্রেণিবদ্ধ তথ্য আদানপ্রদান করেছিলেন কি না, সেটাই এখন মূলত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অতীতে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভারতীয় সেনা ও প্রতিরক্ষা আধিকারিকদের হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলার অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-সহ একাধিক বিদেশি এজেন্সির বিরুদ্ধে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি করে পরে ব্ল্যাকমেলের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এবং গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়াই এই চক্রের অন্যতম কৌশল বলে মনে করা হয়।

Advertisements


   


   

এবার সেই হানি ট্র্যাপের জাল অগ্নিবীরদের মধ্যেও ছড়িয়েছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চার বছরের জন্য সেনাবাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া এই তরুণদের মধ্যে পরবর্তীকালে প্রায় এক-চতুর্থাংশকে স্থায়ীভাবে সেনাবাহিনীতে রাখার সুযোগ রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, অনেক অগ্নিবীরই সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত সক্রিয়। তাঁদের মধ্যেই কয়েকজন এখন গোয়েন্দাদের নজরে রয়েছেন।

সূত্রের খবর, বিদেশি গুপ্তচর সংস্থাগুলি ইংরেজি ও উর্দুভাষী মহিলাদের ব্যবহার করে ভারতীয় সেনা ও আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে। কখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট’ পাঠানো হয়, কখনও পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কথাবার্তা শুরু করা হয়। পরে ফোন নম্বর নিয়ে WhatsApp-এ যোগাযোগ বাড়ানো এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা চলে। এরপর সেই সম্পর্ককে হাতিয়ার করেই ব্ল্যাকমেল করে সংবেদনশীল তথ্য আদায়ের চেষ্টা করা হয় বলে গোয়েন্দাদের আশঙ্কা।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত বছর সেনাবাহিনী সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দিয়েছিল। Instagram, YouTube, X এবং Facebook ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়, তবে শুধুমাত্র তথ্য দেখা এবং নজরদারির উদ্দেশ্যে। অর্থাৎ তথ্য সংগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এই প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহার করা যাবে।

কিন্তু কোনও ধরনের সক্রিয় যোগাযোগের অনুমতি নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা, কমেন্ট করা, কোনও পোস্ট শেয়ার বা রিঅ্যাক্ট করা কিংবা মেসেজ পাঠানো—সবই নিষিদ্ধ। সেনাবাহিনীর নিয়মে এই সীমিত ব্যবহারের নাম ‘প্যাসিভ পার্টিসিপেশন’।

অন্যদিকে, Skype, WhatsApp, Telegram এবং Signal-এর মতো প্ল্যাটফর্মে সাধারণ এবং অশ্রেণিবদ্ধ তথ্য আদানপ্রদানের অনুমতি রয়েছে। তবে সেই যোগাযোগ শুধুমাত্র পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গেই করা যাবে। সংশোধিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, LinkedIn-ও ব্যবহার করা যাবে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে—নিজের রেজুমে আপলোড করা এবং সম্ভাব্য নিয়োগদাতাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলি নিয়মিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রকগুলিকে, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে, হানি ট্র্যাপের বিষয়ে সতর্ক করে। সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে কাজ করেন এমন আধিকারিক ও কর্মীদের টার্গেট করতে বিদেশি গুপ্তচর সংস্থাগুলি এই কৌশল ব্যবহার করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়।

গত কয়েক বছরে আইএসআই-এর হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে একাধিক কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন।

২০১৮ সালে নাগপুরের ব্রহ্মোস এরোস্পেস ইউনিটের ইঞ্জিনিয়ার নিশান্ত আগরওয়ালকে আইএসআই-এর কাছে সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অনলাইনে হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে তাঁকে ফাঁদে ফেলার অভিযোগ ওঠে।

ওই বছরই দিল্লি পুলিশ বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন অরুণ মারওয়াহকে গ্রেফতার করে। তদন্তে অভিযোগ ওঠে, দুটি Facebook অ্যাকাউন্ট এবং WhatsApp-এর মাধ্যমে আইএসআই-এর হানি ট্র্যাপের শিকার হয়েছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে Official Secrets Act-এ মামলা করা হয়।

এর আগে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বায়ুসেনার আধিকারিক রণজিৎকেও আইএসআই অপারেটিভদের কাছে গোপন নথি পাঠানোর অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল দিল্লি পুলিশ। অসুস্থতার কারণে সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় Facebook-এর মাধ্যমে এক মহিলার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল বলে তদন্তে জানা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *