‘আউট হওয়ার বলই ছিল না’, শর্ট বলে বাবর আজমের আউটে তীব্র সমালোচনা
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্টে দীর্ঘ চার বছরের শতরানের খরা কাটানোর দারুণ সুযোগ পেয়েও তা হাতছাড়া করলেন বাবর আজম। এজবাস্টনে চলতি তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে ৭৬ রানে…
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্টে দীর্ঘ চার বছরের শতরানের খরা কাটানোর দারুণ সুযোগ পেয়েও তা হাতছাড়া করলেন বাবর আজম। এজবাস্টনে চলতি তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে ৭৬ রানে আউট হয়ে ফেরেন পাকিস্তানের অধিনায়ক। জশ টংয়ের শর্ট বল সামলাতে গিয়ে বাবরের অদ্ভুত শট নির্বাচনই শেষ পর্যন্ত তাঁর উইকেটের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বাবরের এই আউট নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্রিকেটমহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। কারণ ৭৬ রানে পৌঁছে যাওয়ার পর তিনি বেশ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে ব্যাট করছিলেন। কিন্তু আচমকাই এমন একটি শট খেলেন, যা দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ওই বলটিতে এমন শট খেলার প্রয়োজনই বা কী ছিল?
শর্ট বলেই ফাঁদে পড়লেন বাবর
পুরো সিরিজেই বাবরকে শর্ট বল দিয়ে সমস্যায় ফেলার কৌশল নিয়েছে ইংল্যান্ড। তৃতীয় টেস্টেও সেই পরিকল্পনা কাজে লাগালেন ইংল্যান্ডের পেসার জশ টং।বাবর তখন ৭৬ রানে ব্যাট করছেন। টংয়ের বলটি সরাসরি তাঁর শরীর লক্ষ্য করে আসে। সেই বল সামলাতে গিয়ে বাবর অস্বস্তিকর ভঙ্গিতে ফ্ল্যাপ শট খেলেন। ব্যাটের একেবারে পাতলা কানায় বল লেগে পিছনে চলে যায়। সেখানে কোনও ভুল করেননি উইকেটকিপার জর্ডান কক্স। ক্যাচ ধরে বাবরের ইনিংস শেষ করে দেন তিনি। একটি বলের এমন শট নির্বাচনই বাবরের শতরানের সম্ভাবনাকে শেষ করে দেয়। ম্যাচের পরিস্থিতিতে তাঁর কাছে আরও সাবধানে খেলার সুযোগ ছিল বলেই মনে করছেন অনেকে।
একই শটে দ্বিতীয়বার বিপদ
বাবরের এই ধরনের ফ্ল্যাপ শটে আউট হওয়া অবশ্য নতুন নয়। দ্বিতীয় টেস্টেও প্রায় একই ধরনের শট খেলতে গিয়ে নিজের উইকেট হারিয়েছিলেন তিনি। ফলে একই সিরিজে দ্বিতীয়বার একই ধরনের ভুল করায় বাবরের শট নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। এই আউটের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় বাবরকে নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে। ‘আউট হওয়ার মতো বলই ছিল না’, এমন মন্তব্যও উঠে এসেছে। যদিও শেষ পর্যন্ত উইকেটটি বাবরের শট নির্বাচনের ফলেই এসেছে।
Advertisements
প্রায় চার বছর ধরে টেস্ট শতরান নেই
এই আউট বাবরের টেস্ট শতরানের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ করল। তাঁর শেষ টেস্ট শতরান এসেছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বরে করাচিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। সেই ইনিংসে তিনি ১৬১ রান করেছিলেন। তারপর থেকে টেস্ট ক্রিকেটে আর শতরান করতে পারেননি পাকিস্তানের তারকা ব্যাটার। এজবাস্টনে ৭৬ রান করে সেই খরা কাটানোর সবচেয়ে বড় সুযোগগুলির একটি পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ১০৩ বলে ৭৬ রান করে ফিরে গেলেন। এই ইনিংসে ছিল ১১টি চার এবং একটি ছক্কা। শুরুতে একাধিক ছোট রানের ইনিংসের পর বাবর এবার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারানোয় সেই ইনিংসও বড় রানে পরিণত হল না।
টংয়ের বিরুদ্ধে ফের ব্যর্থ বাবর
জশ টংয়ের বিরুদ্ধে এই সিরিজে বাবরের সমস্যা আরও স্পষ্ট। চলতি সিরিজে চার ইনিংসের মধ্যে তিনবারই টংয়ের বলে আউট হয়েছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে টং বাবরকে মাত্র ৭ রানে বোল্ড করেছিলেন। তৃতীয় টেস্টেও তাঁর শর্ট বলেই বাবরের উইকেট এল। অর্থাৎ ইংল্যান্ড যে কৌশল নিয়ে বাবরের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে, সেটি এখনও পর্যন্ত যথেষ্ট কার্যকর হয়েছে।
What an embarrassing way to get out!
I am afraid Babar Azam is going to become another Salman Ali Agha, possibly dropped from the squad altogether pic.twitter.com/W2E22MaHv0
— Brutal Truth (@sarkarstix) September 11, 2026
তবুও ইতিহাসে নাম লেখালেন বাবর
৭৬ রানে আউট হওয়া নিঃসন্দেহে হতাশার। তবে এই ইনিংসেই পাকিস্তানের অধিনায়ক হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বাবর। তিনি পাকিস্তানের পঞ্চম অধিনায়ক হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ২,০০০ রান পূর্ণ করেছেন। পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৭,০০০ বা তার বেশি রান করা পাকিস্তানের মাত্র দ্বিতীয় ক্রিকেটার হয়েছেন তিনি। এই তালিকায় তাঁর আগে ছিলেন মিসবা-উল-হক।
অধিনায়ক হিসেবে ১৫২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাবর ১৬৩ ইনিংসে ৭,০২৯ রান করেছেন। তাঁর ব্যাটিং গড় ৪৭.১৭। অধিনায়ক হিসেবে তাঁর সংগ্রহে রয়েছে ১৫টি শতরান এবং ৫৪টি অর্ধশতরান। সর্বোচ্চ স্কোর ১৯৬।
ফলে এজবাস্টনে ব্যক্তিগতভাবে বড় শতরান না এলেও রেকর্ডের পাতায় জায়গা করে নিয়েছেন বাবর। তবে চার বছর ধরে চলা টেস্ট শতরানের অপেক্ষা শেষ করতে হলে তাঁকে শর্ট বলের বিরুদ্ধে নিজের কৌশল এবং শট নির্বাচন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।