কোন অভাবে মহানায়ক উত্তমকুমারকে টালিগঞ্জের রাস্তায় ভিক্ষা করতে হয়, জানেন? - Bengali News | Did you know mahanayak uttam Kumar once begged in the streets of Tollygunge reveals actress Madhavi Mukhopadhyay - 24 Ghanta Bangla News
Home

কোন অভাবে মহানায়ক উত্তমকুমারকে টালিগঞ্জের রাস্তায় ভিক্ষা করতে হয়, জানেন? – Bengali News | Did you know mahanayak uttam Kumar once begged in the streets of Tollygunge reveals actress Madhavi Mukhopadhyay

Spread the love

সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবি ‘অতি উত্তম’। এই ছবিতে টেকনোলজির সাহায্যে উত্তমকুমারকে ফিরিয়ে এনেছেন সৃজিত। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে উত্তমকুমারের পুরনো ছবি থেকে ক্লিপিংস কেটে-কেটে তিনি ব্যবহার করেছেন ছবিতে। এটি কিন্তু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) নয়। তা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন সৃজিত।

ছবি সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায় এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “উত্তমকুমারকে সকলে এক দারুণ অভিনেতা এবং মহানায়ক-সুপারস্টার হিসেবেই চেনেন। কিন্তু তিনি যে কত বড় মনের মানুষ ছিলেন, তা কেউ জানেনই না। তিনি নিজেও চিনতে দেননি হয়তো। আমার কাছে উত্তমদা মহানায়কের পাশাপাশি একজন মানবিক মানুষ।”

মাধবী জানিয়েছেন, উত্তমকুমার এমন এক ব্যক্তি, যিনি সেই সময় বন্যাত্রাণে সাহায্য করতে গিয়ে টালিগঞ্জের রাস্তায় ভিক্ষে পর্যন্ত করেছেন। বলেন, “একবার ভীষণ বন্যা হয়। সেই সময় চারদিকে হাহাকার। ত্রাণের কাজ চলছে। বিষয়টায় বিচলিত হয়ে পড়েন মহানায়ক। এত হাহাকার দেখে কিছুতেই চুপ করে ঘরের ভিতরে বসে থাকতে পারেননি। তাঁর কাছে যে অর্থ সঞ্চিত ছিল, তা দিয়ে তো সম্পূর্ণ ত্রাণের কাজ সম্পন্ন হত না। তাই সহকারীদের নিয়ে টালিগঞ্জের রাস্তায়-রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। এটা কি কেউ ভাবতে পেরেছিলেন। কেউ জানেনই না। আমি জানি। এর কারণ, আমি তখন চোখের সামনে সব দেখছি।”

এই খবরটিও পড়ুন

এছাড়াও কোনও মেকআপ আর্টিস্টের মেয়ে বিয়ে হচ্ছে না, কার বিয়েতে কত টাকা পণ চেয়েছে বর পক্ষ–সবটা খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে জানতে চাইতেন উত্তমকুমার। কোথাও কোনও অসম্মান-অবহেলা দেখতে পেলেই উত্তমকুমারের নরম মন কোমর বেঁধে দাঁড়াত। একবার এক কন্যা দায়গ্রস্থ মেকআপ আর্টিস্টের চোখের জল সহ্য করতে পারেনি উত্তমকুমার। মেয়ের বিয়েতে বিপুল খরচা করার পরেও তাঁর ২৫ হাজার টাকার দরকার ছিল। প্রথম থেকেই তাঁকে অভয় দিয়েছিলেন উত্তম। বলেছিলেন, “ঠিক জোগাড় হয়ে যাবে। তারপর নিজে গিয়ে ২৫,০০০ টাকা শিল্পীর হাতে তুলে দিয়ে এসেছিলেন।”

এসবই নিজে মুখে জানিয়েছিলেন মাধবী। বেশকিছু ছবিতে উত্তমকুমারের নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। সহ-অভিনেতারা শুটিং ফ্লোরে স্বাচ্ছন্দে কাজ করতে পারছেন কিনা, তা নিয়ে মাথাব্যথা ছিল উত্তমকুমারের। মাধবী বলেছেন, “তাঁর মতো মানুষ পাওয়া দুর্লভ ছিল। একজন শিল্পী কত দূর যেতে পারে উত্তমবাবুকে না দেখতে বুঝতেই পারতাম না। বৃদ্ধ এবং দুস্থ শিল্পীদের পরবর্তী জীবন যাতে স্বচ্ছলভাবে কাটতে পারে, তা দেখার জন্য ‘শিল্পী সংসদ’ তৈরি করেছিলেন উত্তমকুমার।”

সব দিকে নজর ছিল উত্তমকুমারের। বড্ড তাড়াতাড়ি চলে গেলেন সকলকে ছেড়ে। মাধবী এও বলেছেন, “এটাই আমার বারবার মনে হয়, উত্তমের এত তাড়াতাড়ি চলে যাওয়াটা ঠিক হয়নি ইন্ডাস্ট্রির জন্য। তাঁর আরও অনেক কিছু দেওয়ার কথা ছিল আমাদের।”

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *