মহাকাশযুদ্ধ আর কল্পবিজ্ঞান নয়, ৫২ স্যাটেলাইট নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছে ভারত - 24 Ghanta Bangla News
Home

মহাকাশযুদ্ধ আর কল্পবিজ্ঞান নয়, ৫২ স্যাটেলাইট নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছে ভারত

Spread the love

কলকাতা: একসময় মহাকাশযুদ্ধ (Space Warfare) ছিল কেবল বিজ্ঞান কল্পকাহিনির বিষয়। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সেই ধারণা বদলে যাচ্ছে। পৃথিবীর যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ, নিখুঁত অস্ত্র পরিচালনা, শত্রুর গতিবিধির ওপর নজরদারি থেকে শুরু করে পজিশনিং, নেভিগেশন অ্যান্ড টাইমিং বা পিএনটি পরিষেবা, সব ক্ষেত্রেই স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরতা ক্রমশ বাড়ছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রাচীন যুদ্ধনীতিতে যে ‘উঁচু জমি’ দখলকে কৌশলগত সুবিধা হিসেবে দেখা হত, আধুনিক যুগে সেই উচ্চভূমি পৌঁছে গিয়েছে মহাকাশে। আর এই নতুন উচ্চভূমির নিয়ন্ত্রণ ভবিষ্যতের যুদ্ধের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ভারতও এই পরিবর্তিত বাস্তবতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে মহাকাশে ৫২টি স্যাটেলাইটের একটি কনস্টেলেশন তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে। এই স্যাটেলাইটগুলি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে আকাশ থেকে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি, নিরাপদ যোগাযোগ এবং কমান্ডারদের উন্নত পরিস্থিতিগত সচেতনতা দিতে পারে।

নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধের মেরুদণ্ড স্যাটেলাইট

আধুনিক যুদ্ধ ধীরে ধীরে নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। আগে একটি সামরিক অভিযানে অস্ত্র ব্যবহারের জন্য তুলনামূলকভাবে সরল এবং ধারাবাহিক কিল চেন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা হত।অর্থাৎ, প্রথমে লক্ষ্য খুঁজে বের করা, তারপর তার অবস্থান নির্দিষ্ট করা এবং শেষে অস্ত্র দিয়ে ধ্বংস করা। এই ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নষ্ট হয়ে গেলে গোটা অভিযান ব্যর্থ হতে পারত।

Advertisements


   


   

কিন্তু নতুন কিল ওয়েব ব্যবস্থায় বিভিন্ন জায়গায় থাকা সেন্সর, কমান্ড সিস্টেম এবং অস্ত্র পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকে। একটি বিশাল তথ্যজালের মাধ্যমে তারা একই যুদ্ধক্ষেত্রের ছবি তৈরি করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী একে অপরের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য আদানপ্রদান করতে পারে।

এই বিশাল নেটওয়ার্কের অদৃশ্য সংযোগ হিসেবে কাজ করতে পারে স্যাটেলাইট। শত শত কিলোমিটার দূরে থাকা বিভিন্ন সামরিক ব্যবস্থাকে একই তথ্য নেটওয়ার্কে যুক্ত রাখার ক্ষেত্রে মহাকাশভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নিখুঁত অস্ত্র এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ায় স্যাটেলাইট-নির্ভর পিএনটি পরিষেবার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

india-space-warfare-52-satellites-military-space-strategy-orbit

আরও পড়ুন: জিও-এয়ারটেলকে পিছনে ফেলে হরিয়ানা সার্কেলে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক যোগ করল BSNL

স্যাটেলাইট ধ্বংস করাই কি শত্রুর কিল ওয়েব ভাঙার উপায়?

তাত্ত্বিকভাবে কোনও দেশের সামরিক কিল ওয়েব দুর্বল করার অন্যতম কার্যকর উপায় হল সেই নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইটগুলিকে নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করা। তবে বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভারত, আমেরিকা, চিন ও রাশিয়া সহ মোট চারটি দেশের কাছে শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইট ধ্বংস করার সক্ষমতা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এই সক্ষমতা ব্যবহার করলে শুধু সামরিক যোগাযোগ নয়, বেসামরিক পরিকাঠামোর ওপরও বড় প্রভাব পড়তে পারে।

অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন অজয় আহলাওয়াতের মতে, স্যাটেলাইট ধ্বংসের ক্ষমতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা হালকাভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ বেসামরিক বিমান চলাচল, সমুদ্রপথের যোগাযোগ, মোবাইল ফোনের স্পেকট্রামসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীল। কোনও স্যাটেলাইট ধ্বংস হলে তার তৈরি ধ্বংসাবশেষ বা স্পেস ডেব্রি অন্য স্যাটেলাইটের জন্যও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন: দেশের প্রতিরক্ষায় অগ্রগতি! ১.১০ লক্ষ কোটির অস্ত্র প্রস্তাবে সই রাজনাথের

মহাকাশে যুদ্ধের নিয়ম কী?

মহাকাশকে সামরিক সংঘাতের জন্য পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়নি। তবে মহাকাশে অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি রয়েছে ১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও আমেরিকা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এর আনুষ্ঠানিক নাম ট্রিটি অন প্রিন্সিপলস গভর্নিং দ্য অ্যাক্টিভিটিজ অব স্টেটস ইন দ্য এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড ইউজ অব আউটার স্পেস, ইনক্লুডিং দ্য মুন অ্যান্ড আদার সেলেস্টিয়াল বডিজ। ভারত ও চিনসহ ১১৮টি দেশ এই চুক্তির পক্ষভুক্ত। আরও ২০টি দেশ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

চুক্তি অনুযায়ী মহাকাশে পারমাণবিক অস্ত্র বা অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র স্থাপন নিষিদ্ধ। চাঁদ ও অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তু শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। কোনও দেশ মহাকাশ বা কোনও মহাজাগতিক বস্তুর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করতে পারে না। চাঁদে সামরিক ঘাঁটি তৈরি, অস্ত্র পরীক্ষা বা সামরিক মহড়াও নিষিদ্ধ। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, চুক্তি মহাকাশে সব ধরনের সামরিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করে না। দেশগুলি সামরিক স্পেস ফোর্স তৈরি করতে পারে এবং কক্ষপথে প্রচলিত অস্ত্র মোতায়েনের ক্ষেত্রেও চুক্তিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা নেই।

স্যাটেলাইট ধ্বংস করা কতটা কঠিন?

সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের প্রচলিত পদ্ধতিতে তিনটি ধাপ রয়েছে, ফাইন্ড, ফিক্স অ্যান্ড ফিনিশ। প্রথমে লক্ষ্য খুঁজে বের করা হয়। তারপর তার সঠিক অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। শেষে অস্ত্র ব্যবহার করে লক্ষ্যকে ধ্বংস করা হয়। স্যাটেলাইটের ক্ষেত্রে প্রথম দুই ধাপ তুলনামূলকভাবে সহজ। কারণ হাজার হাজার স্যাটেলাইটের কক্ষপথ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়।

কক্ষপথে দুটি বস্তু হাজার হাজার কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে চলতে পারে। ফলে সংঘর্ষ হলে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ তৈরি হতে পারে। সেই কারণে মহাকাশ সংস্থাগুলি নিয়মিত স্যাটেলাইটের অবস্থান ও গতিপথ পর্যবেক্ষণ করে। কিন্তু স্যাটেলাইটকে বাস্তবে ধ্বংস করা সবচেয়ে কঠিন ধাপ।

ইউক্রেন যুদ্ধ দেখিয়েছে মহাকাশের গুরুত্ব

মহাকাশযুদ্ধের ধারণা এখন আর কেবল তাত্ত্বিক নয়। ইউক্রেন যুদ্ধ তার বাস্তব উদাহরণ। রাশিয়ার স্থলবাহিনী ইউক্রেনে প্রবেশের কয়েক ঘণ্টা আগে ভিয়াস্যাট স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে সাইবার হামলা হয়েছিল। এর ফলে ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুদ্ধ চলাকালীন জ্যামিং ও স্পুফিংও গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। জিপিএস সিগন্যালকে বিভ্রান্ত করা বা অকার্যকর করে দেওয়া হলে সামরিক যান, ড্রোন এবং নিখুঁত অস্ত্রের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

কাইনেটিক এএসএটি সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অস্ত্র

স্যাটেলাইট ধ্বংসের সবচেয়ে বিধ্বংসী পদ্ধতিগুলির একটি হল কাইনেটিক অ্যান্টি-স্যাটেলাইট বা এএসএটি অস্ত্র। ২০০৭ সালে চিন একটি মৃত আবহাওয়া স্যাটেলাইটকে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ধ্বংস করে। সেই পরীক্ষায় হাজার হাজার ধ্বংসাবশেষ তৈরি হয়েছিল, যেগুলি কয়েক দশক পর্যন্ত কক্ষপথে থেকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। এর পরের বছর আমেরিকা অপারেশন বার্ন্ট ফ্রস্ট পরিচালনা করে একটি বিপজ্জনক স্যাটেলাইট ধ্বংস করে।

এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হল কেসলার সিনড্রোম। একটি স্যাটেলাইট ধ্বংস হয়ে তৈরি হওয়া ধ্বংসাবশেষ অন্য স্যাটেলাইটে আঘাত করতে পারে। সেই সংঘর্ষ থেকে আরও ধ্বংসাবশেষ তৈরি হয়ে একের পর এক সংঘর্ষ ঘটতে পারে। শেষ পর্যন্ত কক্ষপথের বড় অংশ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এর প্রভাব মহাকাশ শিল্পের বাইরেও পড়তে পারে, কারণ বিশ্ব অর্থনীতি এখন যোগাযোগ, নেভিগেশন ও তথ্য পরিষেবার জন্য স্যাটেলাইটের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

ভারতও করছে ‘স্পেস ডগফাইট’ অনুশীলন

মহাকাশে কৌশলগত সক্ষমতা তৈরির ক্ষেত্রে ভারতও পিছিয়ে নেই। ভারত প্রায় ৫০০ কিলোমিটার উচ্চতায় একটি ‘স্পেস ডগফাইট’-এর মতো পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে একটি চেজার ও একটি টার্গেট স্যাটেলাইট কাছাকাছি দূরত্বে সমন্বিতভাবে ম্যানুভার করেছিল। এটি ভারতের ইসরোর স্প্যাডেক্স কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সম্প্রসারণ। স্যাটেলাইটগুলি প্রায় ২৮,৮০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছিল। এই ধরনের রঁদেভু এবং প্রক্সিমিটি ম্যানুভার ভবিষ্যতে শুধু মহাকাশ গবেষণা নয়, স্যাটেলাইট পরিদর্শন, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ এবং কৌশলগত মহাকাশ সক্ষমতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ভারতের নিজস্ব স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস ব্যবস্থা

মহাকাশে নিজেদের সম্পদের নিরাপত্তার জন্য ভারত কয়েক বছর আগেই পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে। ২০১৯ সালের অগস্টে বেঙ্গালুরুতে স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস কন্ট্রোল সেন্টার-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এই ব্যবস্থা নেত্র বা নেটওয়ার্ক ফর স্পেস অবজেক্ট ট্র্যাকিং অ্যান্ড অ্যানালিসিস প্রকল্পের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে।

এতে রাডার ও টেলিস্কোপের সাহায্যে মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ এবং ভারতীয় স্যাটেলাইটের সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করার ব্যবস্থা রয়েছে। নেল্লোরে মাল্টি-অবজেক্ট ট্র্যাকিং রাডার, উত্তর-পূর্ব ভারতে আরও একটি রাডার এবং তিরুবনন্তপুরম, মাউন্ট আবু ও উত্তর ভারতের বিভিন্ন এলাকায় টেলিস্কোপ স্থাপন করা হয়েছে। এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মহাকাশ পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্যের জন্য আমেরিকার নেতৃত্বাধীন নোরাড ব্যবস্থার ওপর ভারতের নির্ভরতা কমানো।

পরে ২০২২ সালে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস ডেটা শেয়ারিং চুক্তি হয়। এর মাধ্যমে ইসরো ও আমেরিকার কম্বাইন্ড স্পেস অপারেশনস সেন্টার মহাকাশে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট হুমকি থেকে দুই দেশের স্যাটেলাইট সুরক্ষায় সহযোগিতা করতে পারে।

ভবিষ্যতের যুদ্ধের নতুন উচ্চভূমি মহাকাশ

যুদ্ধ যত বেশি নির্ভুল অস্ত্র, ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছে, মহাকাশের গুরুত্বও তত বাড়ছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা, জিপিএস বিভ্রান্ত করা, স্যাটেলাইট নজরদারি করা কিংবা কক্ষপথের সম্পদকে আক্রমণের লক্ষ্য বানানো, ভবিষ্যতের সংঘাতে এগুলির সবকটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে মহাকাশে যুদ্ধ শুরু হলে তার প্রভাব শুধু সেনাবাহিনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিমান চলাচল, নৌপরিবহণ, মোবাইল যোগাযোগ, আবহাওয়া পূর্বাভাস, আর্থিক ব্যবস্থা এবং বিশ্বব্যাপী তথ্য পরিকাঠামোও তার প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।

সেই কারণেই মহাকাশ এখন শুধু গবেষণা বা যোগাযোগের ক্ষেত্র নয়। ভবিষ্যতের যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত উচ্চভূমিগুলির একটি হয়ে উঠছে কক্ষপথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *