MQ-9 Reaper-এর সস্তা বিকল্প খুঁজছে আমেরিকা, একই ড্রোন কিনছে ভারত
নয়াদিল্লি: একদিকে ধীরে ধীরে কমছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর MQ-9 Reaper ড্রোনের সংখ্যা, অন্যদিকে এই মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমানকে আরও সস্তা ও দ্রুত তৈরি করা নতুন প্ল্যাটফর্ম দিয়ে…
নয়াদিল্লি: একদিকে ধীরে ধীরে কমছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর MQ-9 Reaper ড্রোনের সংখ্যা, অন্যদিকে এই মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমানকে আরও সস্তা ও দ্রুত তৈরি করা নতুন প্ল্যাটফর্ম দিয়ে বদলানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা। বিশেষ করে ইরান ও ইয়েমেনের মতো তুলনামূলকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আকাশসীমায় Reaper-এর দুর্বলতা সামনে আসার পরই এই উদ্যোগে গতি এসেছে।
মার্কিন বায়ুসেনা নতুন Massed Modular Aircraft (MMA) কর্মসূচির আওতায় এমন একটি UAV চাইছে, যার ইউনিট মূল্য প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার। সম্পূর্ণ সরঞ্জামসহ একটি MQ-9 Reaper-এর দাম যেখানে প্রায় ৩০-৫০ মিলিয়ন ডলার, সেখানে নতুন ড্রোনটির খরচ অনেকটাই কম রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
কী থাকবে নতুন MMA ড্রোনে?
মার্কিন এয়ার ফোর্সের Chief Modernization Officer লেফটেন্যান্ট জেনারেল ক্রিস্টোফার নিয়েমির বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন MMA-তে MQ-9A-এর গুরুত্বপূর্ণ ISR (Intelligence, Surveillance and Reconnaissance) এবং স্ট্রাইক ক্ষমতা বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত ড্রোনটির জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট সক্ষমতার প্রয়োজনীয়তা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
- সর্বোচ্চ গতি কমপক্ষে ২০০ নট
- প্রায় ২,৮০০ পাউন্ড পেলোড বহনের ক্ষমতা
- জ্বালানি না ভরে প্রায় ২,৩০০ নটিক্যাল মাইল (৪,২০০ কিলোমিটার) কমব্যাট রেডিয়াস
- সর্বোচ্চ প্রায় ৮,০০০ নটিক্যাল মাইল (১৪,০০০ কিলোমিটার) ফেরি রেঞ্জ
- মাত্র ৬,০০০ ফুট লম্বা রানওয়ে থেকেও অপারেশন করার সক্ষমতা
নতুন প্ল্যাটফর্মটি মডিউলার ও ওপেন-আর্কিটেকচার ভিত্তিক করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে নতুন সেন্সর, অস্ত্র বা অন্যান্য প্রযুক্তি তুলনামূলকভাবে সহজে যুক্ত করা যাবে।
Advertisements
Reaper-এর নির্মাতা General Atomics-ও প্রস্তুত
MQ-9 Reaper-এর মূল নির্মাতা General Atomics ইতিমধ্যেই নতুন MMA কর্মসূচির জন্য নিজেদের Wildfire ড্রোন সামনে এনেছে। সংস্থাটির দাবি, এতে Reaper-এর কার্যকর বৈশিষ্ট্যগুলো ধরে রেখে আরও দ্রুত এবং অনেক কম খরচে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা সম্ভব। মূল লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি ড্রোন তৈরি করা, যা বড় সংখ্যায় মোতায়েন করা যাবে এবং যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তার আর্থিক ক্ষতি তুলনামূলকভাবে কম হবে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় ধাক্কা Reaper বহরে
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে মার্কিন সামরিক বাহিনী এখনও পর্যন্ত অন্তত ৪৫টি MQ-9 Reaper হারিয়েছে। সংঘাত শুরুর সময় আমেরিকার হাতে প্রায় ১৮৫টি Reaper ছিল। এর মধ্যে ১৬৫টি মার্কিন বায়ুসেনা এবং ২০টি মেরিন কর্পসের হাতে ছিল। বিশেষ করে Strait of Hormuz এলাকায় নিয়মিত নজরদারি চালানোর সময় এই ড্রোনগুলো ইরান এবং তাদের আঞ্চলিক সহযোগীদের কাছে তুলনামূলক সহজ লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। Reaper-এর কম গতি এবং নিচু উচ্চতায় উড়ে চলার বৈশিষ্ট্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আকাশসীমায় তার জন্য বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে শত্রুর হামলার বদলে যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যাও ক্ষতির কারণ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে Reaper ছিল অত্যন্ত কার্যকর
প্রায় দুই দশক ধরে MQ-9 Reaper মার্কিন Central Command-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি ও স্ট্রাইক প্ল্যাটফর্ম। ইরাক, আফগানিস্তান, ইয়েমেন ও সিরিয়ার মতো এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে এটি সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সেই সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রে Reaper এমন আকাশসীমায় কাজ করত, যেখানে প্রতিপক্ষের শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা ছিল না। ফলে ধীরগতির ও তুলনামূলকভাবে পূর্বানুমানযোগ্য উড়ান সমস্যা তৈরি করেনি। ইরানের মতো উন্নত প্রতিরক্ষা সক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সেই একই বৈশিষ্ট্য এখন দুর্বলতায় পরিণত হয়েছে।
একই MQ-9 Reaper কিনছে ভারতও
মজার বিষয় হল, এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতও তিন বাহিনীর জন্য MQ-9 Reaper কিনছে। প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের চুক্তিতে ভারতীয় সেনা ও বায়ুসেনার জন্য আটটি করে এবং নৌবাহিনীর জন্য ১৫টি ড্রোন কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। মূল আকর্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে প্রায় ৪০ ঘণ্টার দীর্ঘ endurance এবং ভারত মহাসাগর থেকে শুরু করে দেশের স্থলসীমা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে নজরদারি চালানোর সক্ষমতা।
ভারতে ড্রোনগুলির অন্তর্ভুক্তি ২০২৯ সালের মধ্যে প্রত্যাশিত। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২১টি ড্রোন দেশে অ্যাসেম্বল করা হবে এবং প্রায় ৩৪ শতাংশ স্থানীয় উপাদান ব্যবহার করা হবে। ভারতীয় নৌবাহিনী ইতিমধ্যেই দুটি Reaper লিজে ব্যবহার করছে। সম্প্রতি সেই লিজ আরও ৩০ মাস বাড়ানোর জন্য প্রায় ১,৯৪৩ কোটি টাকার চুক্তিও করা হয়েছে।
অর্থাৎ, মার্কিন বাহিনী যেখানে যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা থেকে আরও সস্তা ও বেশি টেকসই ড্রোনের দিকে এগোচ্ছে, ভারত সেখানে দীর্ঘ-পাল্লার নজরদারি সক্ষমতা বাড়াতে MQ-9 প্ল্যাটফর্মের উপর এখনও যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন