এক চার্জেই দিঘা টু দার্জিলিং! Skoda Peaq 90-এর রেঞ্জ নিয়ে নতুন রেকর্ডের দাবি
নয়াদিল্লি: একবার চার্জ দিয়েই ৯৩৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সাত আসনের ইলেকট্রিক এসইউভির রেঞ্জে নতুন রেকর্ড তৈরি করার দাবি করল স্কোডা। সংস্থার পিক ৯০ (Skoda…
নয়াদিল্লি: একবার চার্জ দিয়েই ৯৩৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সাত আসনের ইলেকট্রিক এসইউভির রেঞ্জে নতুন রেকর্ড তৈরি করার দাবি করল স্কোডা। সংস্থার পিক ৯০ (Skoda Peaq 90) মডেলটি চেকিয়ার ম্লাদা বোলেস্লাভ থেকে নেদারল্যান্ডসের জ্যান্ডভোর্ট পর্যন্ত যাত্রা করেছে, মাঝপথে একবারও চার্জ না দিয়েই।
এই রেকর্ড যাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন স্কোডার দুই কর্মী। পুরো পরীক্ষাটি জার্মানিতে প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তিগত পরিদর্শন ও সার্টিফিকেশন সংস্থা টিইউভি এসইউডি-এর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে। স্কোডার দাবি, এর ফলে সাত আসনের ইলেকট্রিক এসইউভির ক্ষেত্রে নতুন ড্রাইভিং রেঞ্জ রেকর্ড তৈরি হয়েছে।
প্রোডাকশন মডেলের সঙ্গেই প্রায় একই
রেকর্ড যাত্রায় ব্যবহৃত পিক ৯০-এ প্রোডাকশন মডেলের তুলনায় প্রায় কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। একমাত্র পরিবর্তন ছিল চার্জিং পোর্টের ফ্ল্যাপ সিল করে দেওয়া। এর ফলে অ্যারোডায়নামিক সিল কিছুটা উন্নত হয়ে ড্র্যাগ সামান্য কমতে পারে। গাড়িটিতে রাখা হয়েছিল ০.২৪৯ ড্র্যাগ কো-এফিশিয়েন্ট এবং স্ট্যান্ডার্ড রিয়ার-মাউন্টেড ইলেকট্রিক মোটর। এই মোটর থেকে পাওয়া যায় ২৮২ এইচপি পাওয়ার। ব্যাটারি প্যাকের ক্ষমতা ৯১kWh, যার মধ্যে ব্যবহারযোগ্য ক্ষমতা ৮৬kWh।
Read More:
প্রতি ১০০ কিমিতে খরচ মাত্র ৯.২kWh
৯৩৬ কিলোমিটারের পুরো যাত্রায় পিক ৯০-এর গড় এনার্জি কনজাম্পশন ছিল মাত্র ৯.২kWh প্রতি ১০০ কিলোমিটার। গন্তব্যে পৌঁছনোর সময় ব্যাটারির চার্জ প্রায় সম্পূর্ণ ব্যবহার হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ নির্ধারিত রুটে কোনও চার্জিং স্টপ ছাড়াই গাড়িটি যাত্রা শেষ করতে সক্ষম হয়েছে। এই পরিসংখ্যান আরও উল্লেখযোগ্য কারণ পিক ৯০-এর অফিসিয়াল WLTP রেঞ্জ ৬৪৭ কিলোমিটার। রেকর্ড যাত্রায় সেই সংখ্যাকে ২৮৯ কিলোমিটার ছাপিয়ে গিয়েছে গাড়িটি। অর্থাৎ WLTP রেঞ্জের তুলনায় পরীক্ষায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে পিক ৯০।
তবে ৯৩৬ কিমি রেঞ্জকে বাস্তব ব্যবহারের রেঞ্জ ভাবা ঠিক নয়
স্কোডার পরীক্ষার ফল নিঃসন্দেহে চমকপ্রদ হলেও, এটিকে সাধারণ ব্যবহারে পাওয়া রেঞ্জ হিসেবে দেখা উচিত নয়। কারণ রেকর্ড তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল হাইপারমাইলিং স্ট্র্যাটেজি। রুট নির্বাচন থেকে শুরু করে গাড়ি চালানোর ধরন, সবকিছুর মূল লক্ষ্য ছিল যতটা সম্ভব কম শক্তি খরচ করা। গাড়ির গতি কম রাখা হয়েছিল এবং পারফরম্যান্সের পরিবর্তে সর্বোচ্চ এনার্জি এফিশিয়েন্সিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। ফলে দৈনন্দিন পরিবার নিয়ে দীর্ঘ যাত্রার পরিস্থিতির সঙ্গে এই পরীক্ষার সরাসরি তুলনা করা যাবে না। বাস্তবে গাড়ির গতি বেশি হলে, এয়ার কন্ডিশনার চালালে, অতিরিক্ত যাত্রী বা লাগেজ থাকলে এবং রাস্তার পরিস্থিতি বদলালে ইলেকট্রিক গাড়ির রেঞ্জ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
Read More:
ভারতে আসতে পারে পিক?
বর্তমানে স্কোডা পিক ভারতে বিক্রি হয় না। তবে সংস্থা মডেলটিকে ভবিষ্যতে ভারতীয় বাজারে আনার সম্ভাবনা নিয়ে মূল্যায়ন করছে। দেশে ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতে বড় ব্যাটারি, সাত আসনের কেবিন এবং দীর্ঘ রেঞ্জের মতো বৈশিষ্ট্য নিয়ে পিক ভারতে এলে স্কোডার ইভি পোর্টফোলিওতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে ৯৩৬ কিলোমিটারের রেকর্ড রেঞ্জটি বিশেষভাবে এনার্জি-সেভিং পরিস্থিতিতে অর্জিত, তাই সাধারণ ভারতীয় রাস্তায় এই একই রেঞ্জ পাওয়া যাবে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।