প্রধানমন্ত্রী ধান-ধান্য কৃষি যোজনার অগ্রগতি, কৃষকদের সুবিধা নিয়ে বড় নির্দেশ - 24 Ghanta Bangla News
Home

প্রধানমন্ত্রী ধান-ধান্য কৃষি যোজনার অগ্রগতি, কৃষকদের সুবিধা নিয়ে বড় নির্দেশ

Spread the love

নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী ধান-ধান্য কৃষি যোজনা বা পিএম-ডিডিকেওয়াই-এর (PM Dhan Dhaanya Krishi Yojana) অগ্রগতি পর্যালোচনা করলেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান (Shivraj Singh…

নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী ধান-ধান্য কৃষি যোজনা বা পিএম-ডিডিকেওয়াই-এর (PM Dhan Dhaanya Krishi Yojana) অগ্রগতি পর্যালোচনা করলেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান (Shivraj Singh Chouhan,)। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত একটি বৈঠকে তিনি দেশের চিহ্নিত ১০০টি জেলায় প্রকল্পের বাস্তবায়নের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন। কৃষকদের কাছে প্রকল্পের সুবিধা যাতে নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।

কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রক জানিয়েছে, বৈঠকে ১০০টি জেলায় প্রকল্পের বাস্তবায়নের গতি আরও বাড়ানো, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এবং জেলা স্তরে কৃষকদের জন্য পরিষেবার মান উন্নত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ধান-ধান্য কৃষি যোজনার মূল লক্ষ্য কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি ফসলের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং টেকসই কৃষি পদ্ধতির প্রসার, ফসল কাটার পর সংরক্ষণের পরিকাঠামো উন্নত করা, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষকদের স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কৃষিঋণের সুযোগ বাড়ানো এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও পরিষেবা প্রদানের মান উন্নত করাও এই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: :ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপ, বড় ঝুঁকিতে ভারতের বাসমতি রফতানি

মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের ছয়টি লক্ষ্যের ভিত্তিতে ১০০টি জেলার গড় স্কোর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে এই গড় স্কোর ছিল ২২.৫৪। জুলাই ২০২৬-এ তা বেড়ে হয়েছে ৩৮.৮৫। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে গড় স্কোর ১৬.৩১ পয়েন্ট বেড়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে একসঙ্গে কাজে লাগানো হচ্ছে। কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রক জানিয়েছে, ১১টি মন্ত্রক ও দফতরের ৩৬টি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ধান-ধান্য কৃষি যোজনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশগ্রহণও রাখা হয়েছে।

প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য মোট ১২১টি সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৪টি হল আউটপুট বা প্রকল্পের কাজের ফলাফল সংক্রান্ত সূচক এবং ৪৭টি হল আউটকাম বা প্রকল্পের প্রকৃত ফল ও প্রভাব সংক্রান্ত সূচক। এই সূচকগুলির মাধ্যমে ৩৬টি প্রকল্পের বার্ষিক লক্ষ্যের তুলনায় বাস্তব অগ্রগতি পরিমাপ করা হচ্ছে।

বৈঠকে প্রকল্পের নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। শুধু কতগুলি কাজ হয়েছে বা কত টাকা খরচ হয়েছে, তা দেখার পরিবর্তে প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকরা বাস্তবে কতটা উপকৃত হচ্ছেন, সেই বিষয়টি পরিমাপ করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইউরিয়ার দাম কমল ১২%, ইরান যুদ্ধের ধাক্কা কাটতেই বড় স্বস্তি ভারতে

অর্থাৎ, প্রকল্পের সাফল্য শুধু সরকারি প্রকল্পের আওতায় কতগুলি কাজ হয়েছে বা কত টাকা বরাদ্দ ও খরচ হয়েছে, তার ভিত্তিতে বিচার না করে কৃষকদের জীবনে তার বাস্তব প্রভাব কতটা পড়ছে, সেটিই গুরুত্ব দিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ধান-ধান্য কৃষি যোজনা গত বছর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেয়েছিল। পরে ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর এই প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। বর্তমানে চিহ্নিত ১০০টি জেলায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন চলছে।

কৃষিমন্ত্রীর পর্যালোচনা বৈঠকে মূলত প্রকল্পের বাস্তবায়ন আরও দ্রুত করা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের কাছে আরও কার্যকর পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে কৃষকরা যাতে প্রকল্পের সুবিধা পেতে অযথা দেরির মুখে না পড়েন এবং সরকারি উদ্যোগের প্রকৃত সুফল তাঁদের কাছে পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *