ভয়ঙ্কর বন্যায় কীভাবে টিকে রইল নেপালের সেই ‘সবুজ বাড়ি’? জানালেন খোদ মালিক - 24 Ghanta Bangla News
Home

ভয়ঙ্কর বন্যায় কীভাবে টিকে রইল নেপালের সেই ‘সবুজ বাড়ি’? জানালেন খোদ মালিক

Spread the love

কাঠমাণ্ড: “যখন মনে হয় এটাই জীবনের শেষ মুহূর্ত, তখন আর কী-ই বা ভাবা যায়! মনে হচ্ছিল আমাদের জীবন বুঝি এখানেই শেষ।” ত্রিশূলী নদীর করাল গ্রাস…

কাঠমাণ্ড: “যখন মনে হয় এটাই জীবনের শেষ মুহূর্ত, তখন আর কী-ই বা ভাবা যায়! মনে হচ্ছিল আমাদের জীবন বুঝি এখানেই শেষ।” ত্রিশূলী নদীর করাল গ্রাস যখন চারপাশের সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তখন পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নিয়ে এভাবেই মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন প্রকাশ। নেপালের নুওয়াকোট জেলায় প্রবল জলোচ্ছ্বাসের মাঝেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সেই সবুজ বাড়িটি এখন ধ্বংসলীলার অন্যতম প্রতীক। চারপাশের সমস্ত কাঠামো ও গাড়ি ভেসে গেলেও কীভাবে অক্ষত রইল এই বাড়িটি? ‘লল্লনটপ’ (ইন্ডিয়া টুডে-র শাখা)-এর মুখোমুখি হয়ে সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথাই শোনালেন নেপালের বাসিন্দা প্রকাশ।

দোকানে থাকাকালীন বন্যার খবর পান প্রকাশ। তড়িঘড়ি ছুটে আসেন বাড়িতে। চোখের সামনে নিজের গাড়িকে ভাসতে দেখে আর বাইরে বেরোনোর সাহস পাননি তিনি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সোজা উঠে যান চারতলায়। জল সেখানেও পৌঁছলে শেষে একেবারে সর্বোচ্চ ছাদে গিয়ে আশ্রয় নেন তাঁরা। প্রকাশ বলেন, “আমরা পাঁচজন বাড়িতে ছিলাম। কিন্তু আমার এক ছেলে তখন স্কুলে। যদি আমাদের কিছু হয়ে যায়, ওর কী হবে! সেই চিন্তাই কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল।”

কেন অক্ষত ‘মিরাকল হাউস’?

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সবুজ বাড়িটি নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে। চারপাশের সবকিছু ধূলিসাৎ হলেও এটি কীভাবে দাঁড়িয়ে রইল? প্রকাশের দাবি, বাড়িটি প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো। সেই সময় সিমেন্ট ও নির্মাণসামগ্রীর মান অনেক ভালো ছিল। নদীর কাছাকাছি হওয়ায় ভিত মজবুত করতে বেশি জোর দেওয়া হয়েছিল। প্রকাশ জানান, নিরাপত্তার কথা ভেবে ভিতের নিচে রাস্তার সামগ্রীর দুই-তিনটি স্তর দেওয়া হয়েছিল। তবে বাড়ির নীচের তলা, যা গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো, তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। দু’টি গাড়ি ও স্কুটার-সহ বহু জিনিস ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে জল।

দড়ি ও পাইপে উদ্ধার, নতুন শুরুর স্বপ্ন

প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে থাকার পর জল কিছুটা কমলে স্থানীয়রা একটি পাইপ ও দড়ির সাহায্যে তাঁদের উদ্ধার করেন। বর্তমানে পরিবারটি কাঠমাণ্ডুতে রয়েছে। রাসুয়াগামী রাস্তার ওপর থাকা ওই বাড়ি সংলগ্ন মুদির দোকানটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। রাস্তা এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত যে, মোটর চলাচলের রাস্তা থেকে প্রায় সওয়া এক কিলোমিটার হেঁটে ওই বাড়িতে পৌঁছতে হয়। নেপালের সেনা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।

সবকিছু হারিয়েও হার মানতে নারাজ প্রকাশ। ধ্বংসস্তূপ থেকে অবশিষ্ট জিনিসপত্র সরাতে সরাতে তিনি বলেন, “যা ছিল সব কাদায় ডুবেছে বা ভেসেছে। কিন্তু আমরা আবার নতুন করে সব তৈরি করব।” চারপাশের ধ্বংসস্তূপের মাঝে একা দাঁড়িয়ে থাকা সবুজ বাড়িটি যেন নেপালের মানুষের এই অদম্য বেঁচে থাকার লড়াইয়েরই নীরব সাক্ষী।

মৃতদের ৯ লাখ, ক্ষতিগ্রস্তদের ৩০ হাজার! সবং পরিদর্শনে গিয়ে আর কী ঘোষণা শুভেন্দুর?

জোরকদমে দল গঠন! ইমামির বিদায়ের পর ইস্টবেঙ্গলের ভরসা জুপিটার,

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *