India-Russia: রাশিয়ার ‘লাইফলাইন’ ভারতের পেট্রোল, গত দুই মাসে রেকর্ড জ্বালানি আমদানি মস্কোর | India Becomes Russia’s Petrol Lifeline as Ukraine Drone Attacks Disrupt Refineries
মস্কো: ইউক্রেনে (Ukraine-Russia) একের পর এক ড্রোন হামলার প্রভাব পড়েছে রাশিয়ার জ্বালানি বাজারে। রাশিয়ার একাধিক তেল শোধনাগারে হামলার জেরে ব্যহত হয়েছে পেট্রোলের (Petrol) উৎপাদন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিশ্বের অন্যতম বড় অপরিশোধিত তেল রফতানিকারক দেশ রাশিয়াকেই এখন অন্য দেশ থেকে পেট্রোল (Petrol) আমদানি করতে হচ্ছে। আর এই পরিস্থিতিতে পেট্রোল সরবরাহে রাশিয়ার লাইফলাইন হয়ে উঠেছে ভারত।
ভারত থেকে কত পেট্রোল কিনছে রাশিয়া?
এক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অগস্ট মাসে ভারত থেকে সমুদ্রপথে রাশিয়ার পেট্রোল আমদানি বেড়ে দৈনিক প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার ব্যারেলের রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে। অগস্টজুড়ে আমদানির পরিমাণ প্রায় ৪ লক্ষ ৭০ হাজার টন হতে পারে বলে অনুমান। এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দু’মাসে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলি রাশিয়ায় প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল পেট্রোল পাঠিয়েছে। সূত্রের খবর, গুজরাটের ভাদিনার শোধনাগার থেকে সবথেকে বেশি পেট্রোল গিয়েছে। এই শোধনাগার পরিচালনা করে নায়রা এনার্জি। সংস্থাটিতে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা রসনেফ্টের প্রায় ৫০ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে।
রাশিয়ার তেলেই তৈরি পেট্রোল ফিরছে রাশিয়ায়?
২০২২ সালের পর থেকে রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনতে শুরু করে ভারত। রাশিয়া থেকে আসা সেই অপরিশোধিত তেল ভারতীয় শোধনাগারে পরিশোধন করে পেট্রোল-ডিজেলের মতো জ্বালানি তৈরি করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন ও জুলাই মাসে ভারত রাশিয়া থেকে দৈনিক ২৬ লক্ষ ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল কিনেছে। ফেব্রুয়ারিতে যার পরিমাণ ছিল দৈনিক প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল। ওই সময়ে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির অর্ধেকেরও বেশি এসেছিল রাশিয়া থেকে। ফলে রাশিয়ায় ভারত থেকে পাঠানো পেট্রোলের একাংশ রুশ অপরিশোধিত তেল থেকেই তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় বিপাকে রাশিয়া
বিশ্বের অন্যতম বড় অপরিশোধিত তেল উৎপাদক ও রফতানিকারক দেশ রাশিয়া। তা সত্ত্বেও কেন বিদেশ থেকে পেট্রোল কিনতে হচ্ছে মস্কোকে? এর অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলা।
রাশিয়ার একাধিক তেল শোধনাগার ও জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলার কারণে পেট্রোল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কোনও কোনও সময়ে দেশের অভ্যন্তরীণ পেট্রোল উৎপাদন ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এর জেরে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানির ঘাটতিও তৈরি হয়েছে।