Dia Mirza: সেটে শয়ে শয়ে পুরুষ, অন্তর্বাস পরে শুট করতে গিয়ে কী হয়েছিল দিয়া মির্জার? | Dia Mirza Recalls Shooting In Undergarments In Front Of Hundreds Of Men: 'Felt Liberating' - 24 Ghanta Bangla News
Home

Dia Mirza: সেটে শয়ে শয়ে পুরুষ, অন্তর্বাস পরে শুট করতে গিয়ে কী হয়েছিল দিয়া মির্জার? | Dia Mirza Recalls Shooting In Undergarments In Front Of Hundreds Of Men: ‘Felt Liberating’

Spread the love

বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জা (Dia Mirza)-র নাম শুনলেই চোখে ভাসে শান্ত, মিষ্টি আর ছিমছাম এক নায়িকার ছবি। ‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মেঁ’ ছবির সেই সাদাসিধে মেয়েটিকেই দর্শক বেশি মনে রেখেছেন। কিন্তু কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলোতে তাঁকেও এমন কিছু দৃশ্যে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হয়েছিল, যা তাঁর মতো লাজুক স্বভাবের মেয়ের কাছে ছিল এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের কেরিয়ারের সেই চরম অস্বস্তিকর অথচ জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী নিজেই।

সময়টা ২০০৪ সাল। পরিচালক অনুরাগ বসুর পরিচালনায় এবং প্রযোজক মুকেশ ভট্টের প্রযোজনায় তৈরি হচ্ছিল ‘তুমসা নেহি দেখা’ (Tumsa Nahin Dekha) সিনেমাটি। হলিউডের জনপ্রিয় ছবি ‘প্রিটি ওম্যান’-এর ধাঁচে তৈরি এই গল্পে দিয়ার বিপরীতে নায়ক ছিলেন ইমরান হাশমি। ছবিতে ছিলেন অনুপম খের ও পূজা ভারতী। গল্পের প্রেক্ষাপট ছিল, এক বড়লোক পরিবারের ছেলে প্রেমে পড়ে এক বার ড্যান্সারের। কিন্তু পরিবারের পছন্দ করা মেয়েকে বিয়ে না করলে সমস্ত সম্পত্তি হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

সেই গল্পের প্রয়োজনেই ছবির একটি জনপ্রিয় গান ছিল, ‘মুঝে তুমসে মোহব্বত হ্যায়’। আর এই গানের শুট করতে গিয়েই চরম পরীক্ষার মুখে পড়েন দিয়া। পুরো দৃশ্যটিতে তাঁকে প্রায় অনাবৃত হয়ে, অন্তর্বাস পরে নাচের দৃশ্য করতে হয়েছিল।

সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে দিয়া স্পষ্ট ভাষায় জানান, “একটি মেয়ে হিসেবে এটা ছিল আমার করা জীবনের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি। কারণ সেটে উপস্থিত শয়ে শয়ে পুরুষের সামনে আমাকে প্রায় নগ্ন হয়ে, শুধু ব্রা এবং অন্তর্বাস পরে শুট করতে হয়েছিল।”

হায়দরাবাদের এক অত্যন্ত রক্ষণশীল পরিবার থেকে মুম্বই মায়ানগরীতে পা রেখেছিলেন দিয়া। তখন নিজের রূপ বা শরীর নিয়ে তাঁর মনে একেবারেই কোনও বাড়তি আত্মবিশ্বাস ছিল না। ফলে ওই পোশাকে শত শত অচেনা পুরুষের সামনে দাঁড়ানো কতটা অস্বস্তিকর ছিল, তা সহজেই বোঝা যায়।

তবে এই কঠিন মুহূর্তে তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে ওঠেন কোরিওগ্রাফার বৈভবী মার্চেন্ট এবং পুরো শুটিং টিম। দিয়ার কথায়, “এই অভিজ্ঞতা আমাকে এমনভাবে মুক্ত করেছিল যা আমি কখনও ভাবতেই পারিনি। আর আমি যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে গানটিতে নাচতে পেরেছিলাম, তার বড় কারণ ছিলেন কোরিওগ্রাফার বৈভবী মার্চেন্ট। সেটের প্রত্যেকেই আমাকে অত্যন্ত সুরক্ষিত অনুভব করিয়েছিলেন।”

ভয় আর লজ্জা কাটিয়ে কীভাবে সেই দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি? দিয়া বলেন, “শুট করতে করতেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম, একজন অভিনেতার আসল কাজ হল চরিত্রের বাস্তব রূপটাকে দর্শকের সামনে তুলে ধরা। সেই বোধ তৈরি হওয়ার পর সেটের ঘরে ৫০০ জন মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন নাকি ১০০০ জন, তা নিয়ে আমার মনে আর কোনও দ্বিধাই ছিল না।”

অভিনেত্রীর মতে, ওই একটা গানই তাঁর মনের ভেতর জমে থাকা সমস্ত শৃঙ্খল ভেঙে দিয়েছিল। তিনি বলেন, “হায়দরাবাদের অত্যন্ত রক্ষণশীল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসে নিজের শরীর নিয়ে আমার অনেক দ্বিধা ছিল। কিন্তু ‘মুঝে তুমসে মোহব্বত হ্যায়’ গানের সেই শুট যেন আমাকে ভেতর থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও মুক্ত করে দেয়।”

দীর্ঘ ২৫ বছরের অভিনয় জীবনে এই ধরনের কঠিন লড়াই এবং অস্বস্তিকর মুহূর্তগুলোই তাঁকে ভেতর থেকে এক পরিণত ও শক্তিশালী শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলেছে বলে মনে করেন অভিনেত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *