নিরাপত্তায় আপোষ নয়! রাজৌরি সেক্টরে ৩ পাক ড্রোন হামলা ব্যর্থ করল সেনা বাহিনী
শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার নওশেরা সেক্টরে ভারতীয় সেনার (drone attack)সতর্ক নজরদারি আবারও প্রমাণ করেছে যে সীমান্তের নিরাপত্তা কোনোভাবেই শিথিল নয়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়…
শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার নওশেরা সেক্টরে ভারতীয় সেনার (drone attack)সতর্ক নজরদারি আবারও প্রমাণ করেছে যে সীমান্তের নিরাপত্তা কোনোভাবেই শিথিল নয়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রুমলিধারা এলাকার কাছে পাকিস্তানি পক্ষ থেকে একাধিক ড্রোন ভারতীয় আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এর মধ্যে অন্তত তিনটি ড্রোন সরাসরি ভারতীয় ভূখণ্ডের উপর দিয়ে উড়ে যায়।
কিন্তু সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ফলে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং সবকটি ড্রোনকে সীমান্তের ওপারে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। (drone attack)ঘটনাটি ঘটে নওশেরা সেক্টরের রুমলিধারা অঞ্চলে। সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে আসার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি চালানো সেনা জওয়ানরা আকাশে সন্দেহজনক উড়ন্ত বস্তু দেখতে পান। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণেই বোঝা যায় এগুলো পাকিস্তানি ড্রোন।
আরও দেখুনঃ দিল্লির তরুণী মডেলকে বাড়ি ঢুকে খুন! পায়ে গুলি করে ইমরানকে শ্রীঘরে নিল পুলিশ
দিল্লিতে আইএসআই-এর চরবৃত্তির চক্র ফাঁস, ধৃত দম্পতি
জয়শঙ্করের রাশিয়া সফরে আরও উন্নত হচ্ছে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক
তিনটি ড্রোন ভারতীয় আকাশসীমায় প্রবেশ করে এবং কিছুক্ষণ ঘুরে বেড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী কোনো সময় নষ্ট না করে তাদের কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা সক্রিয় করে। আধুনিক প্রযুক্তির এই ব্যবস্থা ড্রোনগুলোর গতিবিধি ব্যাহত করে এবং সেগুলোকে দ্রুত পিছু হটতে বাধ্য করে। শেষ পর্যন্ত সবকটি ড্রোন পাকিস্তানি ভূখণ্ডে ফিরে যায়। এই পুরো ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ করে রাজৌরি, নওশেরা, সাম্বা এবং পুঞ্চ সেক্টরে গত কয়েক মাসে পাকিস্তানি ড্রোনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা বেড়েছে। অনেক সময় এসব ড্রোন নজরদারি চালায়, আবার কখনো অস্ত্র বা মাদক ফেলার চেষ্টা করে বলে সন্দেহ করা হয়। ভারতীয় সেনা ও বিএসএফ তাই সীমান্তের প্রতিটি ইঞ্চি নজরে রেখেছে।
রাতের অন্ধকারেও তাঁদের সতর্কতা কমেনি। রুমলিধারার এই ঘটনায় সেনাবাহিনীর দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে দিয়েছে যে তাঁরা প্রযুক্তিগতভাবেও যথেষ্ট প্রস্তুত।স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর আকাশে অদ্ভুত আলো দেখা গিয়েছিল। কেউ কেউ প্রথমে মনে করেছিলেন হয়তো কোনো বিমান বা হেলিকপ্টার। কিন্তু পরে বুঝতে পারেন সেগুলো ড্রোন। সেনাবাহিনীর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।
স্থানীয়রা সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন, তাঁদের উপস্থিতির কারণেই এলাকায় নিরাপত্তার অনুভূতি রয়েছে। (drone attack)প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো জানিয়েছে, কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা সক্রিয় করার পর ড্রোনগুলোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটে এবং সেগুলো আর ভারতীয় আকাশসীমায় অবস্থান করতে পারেনি। এ ধরনের ব্যবস্থা এখন সীমান্তের বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী শুধু ড্রোন প্রতিহতই করেনি, বরং ঘটনার পর এলাকায় তল্লাশি অভিযানও চালিয়েছে যাতে কোনো অস্ত্র বা নিষিদ্ধ দ্রব্য ফেলে যাওয়া না থাকে। এখনও পর্যন্ত কোনো কিছু উদ্ধার হয়নি।রাজৌরি এবং নওশেরা এলাকা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার ভূপ্রকৃতি পাহাড়ি এবং জটিল। তাই ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রায়শই দেখা যায়।
ভারতীয় সেনাবাহিনী এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ক্রমাগতভাবে প্রযুক্তি আপডেট করছে। নতুন প্রজন্মের কাউন্টার-ড্রোন সিস্টেম, রাডার এবং নজরদারি ব্যবস্থা মিলিয়ে সীমান্তকে আরও সুরক্ষিত করা হয়েছে। এই ঘটনা সেই প্রস্তুতিরই এক জীবন্ত উদাহরণ।