বারাবর গুহাকে UNESCO বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় চান সুধা মূর্তি
পাটনা: বিহারের জেহানাবাদ জেলার প্রাচীন বারাবর গুহা পরিদর্শন করলেন বিশিষ্ট লেখিকা, সমাজসেবী এবং রাজ্যসভার সাংসদ সুধা মূর্তি। রবিবারের এই সফরে তিনি বারাবর গুহাকে ইউনেস্কোর বিশ্ব…
পাটনা: বিহারের জেহানাবাদ জেলার প্রাচীন বারাবর গুহা পরিদর্শন করলেন বিশিষ্ট লেখিকা, সমাজসেবী এবং রাজ্যসভার সাংসদ সুধা মূর্তি। রবিবারের এই সফরে তিনি বারাবর গুহাকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের (UNESCO) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে সওয়াল করেন।
জেহানাবাদ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুহাগুলির নির্মাণ কৌশল, শিল্পকুশলতা এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব দেখে সুধা মূর্তি বিশেষভাবে প্রশংসা করেন।
প্রাচীন নির্মাণশৈলীতে মুগ্ধ সুধা মূর্তি
বারাবর গুহার পাথর কেটে তৈরি স্থাপত্যের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ঘুরে দেখেন সুধা মূর্তি। জেলা প্রশাসনের বিবৃতি অনুযায়ী, গুহার দেওয়ালে থাকা আয়নার মতো মসৃণ পালিশ তাঁকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। পাশাপাশি গুহার ভিতরের স্বতন্ত্র শব্দ এবং প্রতিধ্বনির বৈশিষ্ট্যও তিনি লক্ষ্য করেন। সুধা মূর্তির মতে, এই বৈশিষ্ট্যগুলি প্রাচীন ভারতের উন্নত প্রকৌশল, বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা এবং অসাধারণ কারুশিল্পের পরিচয় বহন করে।
বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতির দাবি
বারাবর গুহাকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানান সুধা মূর্তি। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি পেলে বারাবর গুহা বিশ্বের পর্যটক এবং ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে আরও পরিচিত হয়ে উঠবে। জেলা প্রশাসনের বিবৃতিতেও বলা হয়েছে, বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা এই প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থানটির আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও বাড়াতে পারে।
দুই দশকের বেশি সময় পর পাটনায়
সুধা মূর্তি শনিবার পাটনার জয়প্রকাশ নারায়ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছন। বিহারে পৌঁছে তিনি জানান, দুই দশকেরও বেশি সময় পর তিনি পাটনায় ফিরেছেন। এত বছর পর শহরের অগ্রগতি দেখে তিনি খুশি বলেও জানান। এর পরেই তিনি জেহানাবাদে বারাবর গুহা পরিদর্শনে যান।
প্রশাসনিক আধিকারিকরা ছিলেন সঙ্গে
বারাবর গুহা পরিদর্শনের সময় সুধা মূর্তির সঙ্গে ছিলেন জেহানাবাদের সাব-ডিভিশনাল পাবলিক গ্রিভ্যান্স রিড্রেসাল অফিসার এবং ডিস্ট্রিক্ট আর্ট অ্যান্ড কালচার অফিসার। জেলা প্রশাসনের তরফে তাঁকে বারাবর গুহার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানানো হয়।
প্রাচীন ভারতের পাথর কেটে নির্মিত স্থাপত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বারাবর গুহার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। গুহার দেওয়ালের মসৃণ পালিশ, নির্মাণ কৌশল এবং অভ্যন্তরের শব্দপ্রতিধ্বনির বৈশিষ্ট্যই সুধা মূর্তির নজর কেড়েছে। তাঁর ইউনেস্কো স্বীকৃতির দাবির ফলে বারাবর গুহাকে ঘিরে ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যটনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।