২০৪০ সালের মধ্যে রত্ন ও গয়না রফতানিতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য ভারতের
মুম্বই: ভারত ২০৪০ সালের মধ্যে রত্ন ও গয়না রফতানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে (India Jewellery) নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই খাতে ভারতের রফতানি ছিল প্রায়…
মুম্বই: ভারত ২০৪০ সালের মধ্যে রত্ন ও গয়না রফতানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে (India Jewellery) নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই খাতে ভারতের রফতানি ছিল প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার। বেশি মূল্য সংযোজন, উন্নত নকশা এবং নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরির মাধ্যমে রফতানি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র।
বুধবার বাণিজ্য দফতর এবং জেম অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিল-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘চিন্তন শিবির-২০৪০ রোডম্যাপ ফর জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি’ অনুষ্ঠানে এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে উদ্ভাবন, নকশা, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড তৈরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তাঁর মতে, সোনা, রুপো বা অপরিশোধিত হিরের মতো কাঁচামালের সহজলভ্যতার চেয়ে ভারতের বড় শক্তি হল দক্ষ কারিগর।
কম লাভের কাজ থেকে নিজস্ব ব্র্যান্ডে জোর
ভারতের রত্ন ও গয়না শিল্পকে কম লাভের অরিজিনাল ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং বা ওইএম-নির্ভর ব্যবসা থেকে বেরিয়ে এসে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত ভারতীয় গয়নার ব্র্যান্ড তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরির উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যার প্রযুক্তিগত ও দক্ষতাভিত্তিক সমাধান তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।
রফতানি কৌশলের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে মূল্য সংযোজন। তৈরি, উন্নত নকশার এবং নিজস্ব ব্র্যান্ডের গয়নার উপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর জন্য ‘ক্রাফটেড ইন ইন্ডিয়া’ বা ভারতে তৈরি পণ্যের পরিচিতি আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
২০৪০ সালে জিডিপিতে ১.২ শতাংশ অবদান
রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে দেশের মোট জিডিপিতে রত্ন ও গয়না শিল্পের অবদান প্রায় ১.২ শতাংশে পৌঁছতে পারে। একই সময়ে দেশের মোট পণ্য রফতানিতে এই শিল্পের অংশীদারিত্ব ১৪ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বড় লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মসংস্থানের সংখ্যা দ্বিগুণ করে প্রায় ১ কোটি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গয়নার ব্যবসায় এআই ও থ্রিডি প্রিন্টিং
প্রযুক্তির ব্যবহার আগামী দিনে এই শিল্পের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছে সরকার। রাজেশ আগরওয়াল গয়নার নকশা ও পণ্যে বৈচিত্র্য আনার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং থ্রিডি প্রিন্টিং ব্যবহারের উপর জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন এবং কারিগরি পেশায় আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন তিনি।
ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং বিভিন্ন কাহিনি গয়নার নকশায় ব্যবহার করার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় গয়নার আলাদা পরিচিতি তৈরি করা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যে জোর
রত্ন ও গয়না শিল্পের ২০৪০ সালের রোডম্যাপটি মূলত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে। এগুলি হল:
- আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো
- ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমই-র ব্যবসার পরিসর বাড়ানো
- রফতানি ও আমদানির প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ করা
- ‘ক্রাফটেড বাই ইন্ডিয়া’ ব্র্যান্ড তৈরি করা
- নতুন প্রজন্মের দক্ষতা, নকশা এবং প্রতিভার বিকাশ
এলজিডি, সোনা উত্তোলনেও সম্ভাবনা
প্রথাগত প্রাকৃতিক হিরের পাশাপাশি নতুন ক্ষেত্রগুলিতেও সুযোগ খুঁজছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে এলজিডি প্লাস বা ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ড-ভিত্তিক পরিকাঠামো, সোনা উত্তোলন এবং সোনা পরিশোধনের মতো ক্ষেত্র। রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে রত্ন ও গয়না শিল্পের উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ১৫ লক্ষ কোটি টাকা এবং এই শিল্পের সামগ্রিক অর্থনৈতিক মূল্য প্রায় ৬০ লক্ষ কোটি টাকা করার লক্ষ্য রয়েছে।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও কর ছাড়ে সুবিধা
জেম অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান কিরিত ভানসালি বলেন, নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, স্পেশাল নোটিফায়েড জোনের মাধ্যমে অপরিশোধিত হিরে বিক্রিতে ১৫ বছরের কর ছাড় এবং এমএসএমই-কে আরও বেশি সহায়তা এই শিল্পের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ভিত্তি তৈরি করেছে।
সরকার এবং শিল্পমহল এখন এই সুযোগগুলিকে কাজে লাগিয়ে নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ, ব্যবসার পরিসর বৃদ্ধি এবং ভারতের রত্ন ও গয়না শিল্পকে শুধু ওইএম-নির্ভর উৎপাদন কেন্দ্রের বদলে নিজস্ব নকশা ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড তৈরির ক্ষেত্রে বিশ্বমানের শক্তিতে পরিণত করতে চাইছে।
Also Read | পুলিশের পোশাক জাল করে যন্তরমন্তরে নাশকতার ছক! হামিমকে নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য STF র
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের