কলকাতায় ভারী বৃষ্টি, ২৪ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিতে জলমগ্ন শহর
কলকাতা: নিম্নচাপের প্রভাবে সোমবার প্রবল বৃষ্টিতে কলকাতার (Kolkata Weather) একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় জল জমে যাওয়ায় যান চলাচলও ব্যাহত হয়।…
কলকাতা: নিম্নচাপের প্রভাবে সোমবার প্রবল বৃষ্টিতে কলকাতার (Kolkata Weather) একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় জল জমে যাওয়ায় যান চলাচলও ব্যাহত হয়। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপটি কলকাতাকে অতিক্রম করে গেলেও মঙ্গলবারের প্রথমার্ধ পর্যন্ত তার প্রভাব শহরে থাকতে পারে। তবে ধীরে ধীরে বৃষ্টির তীব্রতা কমবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
সোমবার কলকাতার মধ্য ও পূর্ব অংশে দক্ষিণ কলকাতার তুলনায় বৃষ্টির দাপট বেশি ছিল। শহরের বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০ মিলিমিটার থেকে ১০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টি হয়েছে। ফলে সকাল থেকেই একাধিক এলাকায় জল জমতে শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে জলমগ্ন ছিল মানিকতলা, ঠনঠনিয়া, বেলগাছিয়া, সল্টলেক এবং নিউ টাউনের বেশ কিছু অংশ।
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরেও বেশ কিছু সময় জল জমে ছিল। কলকাতা পুরসভার একাধিক পাম্পিং স্টেশনকে জল দ্রুত সরানোর কাজে নামতে হয়।
বাংলার রেল পরিকাঠামো আধুনিকীকরণ এবার দোরগোড়ায়! অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় কল্যাণী স্টেশন
আলিপুরে ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। অন্যদিকে সল্টলেকে ৬৪ মিলিমিটার এবং নিউ টাউনে ৬৮.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। কলকাতা পুরসভার বেলগাছিয়া এবং পালমারবাজার পাম্পিং স্টেশনে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টির হিসাব পাওয়া গিয়েছে। বালিগঞ্জে বৃষ্টির পরিমাণ ৭৮ মিলিমিটারের বেশি এবং ঠনঠনিয়ায় প্রায় ৮০ মিলিমিটার ছিল।

মঙ্গলবারও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা
আবহাওয়া দফতরের আঞ্চলিক কেন্দ্রের কলকাতা প্রধান এইচ আর বিশ্বাস জানিয়েছেন, বৃষ্টির তীব্রতা ধীরে ধীরে কমছে। তবে নিম্নচাপের প্রভাবে মঙ্গলবারের প্রথমার্ধ পর্যন্ত আরও বৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে কোনও কোনও সময়ে তীব্র বৃষ্টির স্পেলও দেখা দিতে পারে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর ওড়িশার উপকূল সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি রবিবার রাতে আরও স্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হয়। সোমবার সকালে সেটি গভীর নিম্নচাপ বা ডিপ্রেশনে পরিণত হয়। বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় এই নিম্নচাপ উত্তর-উত্তর-পশ্চিম এবং পরে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড এবং বিহারের উপর দিয়ে এগিয়ে যেতে পারে। এর প্রভাবে কলকাতার পাশাপাশি পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলাতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বাঁকুড়ার কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির স্পেল হতে পারে বলে জানিয়েছেন এইচ আর বিশ্বাস।
৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হবে অরেঞ্জ লাইনে মেট্রো চলাচল! ইঙ্গিত কর্তৃপক্ষের
জলমগ্ন রাস্তায় যান চলাচলে সমস্যা
প্রবল বৃষ্টির কারণে কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জল জমে যায়। ফলে অফিসযাত্রী এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়। জল জমে যাওয়ার কারণে কিছু এলাকায় যানবাহনের গতি কমে যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে যানজটের পরিস্থিতিও তৈরি হয়। রবিবার সন্ধ্যা থেকেই কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় দফায় দফায় বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। রাতের পর সোমবার বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়ে। নিম্নচাপের প্রভাবে একটানা বৃষ্টির কারণে নিকাশি ব্যবস্থার উপরও চাপ তৈরি হয়।
পরিস্থিতির দিকে নজর রাজ্য সরকারের
ভারী বৃষ্টি এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার প্রশাসনিক বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। জেলাশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি পরিস্থিতির খোঁজ নেন এবং বৃষ্টিজনিত জলমগ্নতা ও বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বাঁকুড়ার পরিস্থিতির উপর নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর আগে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বন্যা প্রতিরোধ ও মোকাবিলার জন্য একাধিক নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছিল।
আবহাওয়া দফতরের বক্তব্য অনুযায়ী, কলকাতায় বৃষ্টির তীব্রতা মঙ্গলবার থেকে ধীরে ধীরে কমতে পারে। তবে তার আগে মঙ্গলবারের প্রথমার্ধে আরও একটি ভারী বৃষ্টির পর্ব তৈরি হলে শহরের নিচু এলাকা এবং জলমগ্ন অঞ্চলগুলিতে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে আরও খারাপ হতে পারে। তাই জল জমা এলাকা, নিকাশি ব্যবস্থা এবং যান চলাচলের উপর প্রশাসনের নজর থাকছে।