নজরে পরমাণু কেন্দ্রের অগ্রগতি! SHANTI অ্যাক্টের খসড়া নিয়মাবলী প্রকাশ করল কেন্দ্র
নয়াদিল্লি, ১৫ আগস্ট: পরমাণু বিদ্যুৎ খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে (SHANTI Act)আরও এক ধাপ এগোল কেন্দ্রীয় সরকার। টেকসই পরমাণু শক্তি ব্যবহার ও অগ্রগতির জন্য তৈরি…
নয়াদিল্লি, ১৫ আগস্ট: পরমাণু বিদ্যুৎ খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে (SHANTI Act)আরও এক ধাপ এগোল কেন্দ্রীয় সরকার। টেকসই পরমাণু শক্তি ব্যবহার ও অগ্রগতির জন্য তৈরি শান্তি আইন বা SHANTI অ্যাক্টের খসড়া নিয়মাবলী প্রকাশ করা হয়েছে। এই নিয়মে দায়বদ্ধতা কভার, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া এবং বিদেশি রিঅ্যাক্টর অনুমোদনের বিস্তারিত কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।
লক্ষ্য একদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা, (SHANTI Act)অন্যদিকে পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের ছাড়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করা।পরমাণু শক্তি বিভাগ শুক্রবার এই খসড়া নিয়মাবলী প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিচালকদের অবশ্যই বীমা পলিসি বা আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে কোনো দুর্ঘটনায় পরমাণু ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়।
আরও দেখুনঃ ‘নামমাত্র স্বাধীনতা’! তিরঙ্গা যাত্রায় বাধা, পুলিশের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ মাহাতোর
এই আর্থিক নিরাপত্তা ততদিন পর্যন্ত বহাল রাখতে হবে যতদিন না ব্যবহৃত জ্বালানি সংশ্লিষ্ট স্টোরেজ পুল থেকে সম্পূর্ণ সরানো হয়। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের একটি দল গঠন করে অপারেটরের দেওয়ানি দায়বদ্ধতার সর্বোচ্চ সীমা পর্যালোচনা করবে।বিদেশি ডিজাইনের রিঅ্যাক্টর বা প্ল্যান্টের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। সেই ডিজাইন অবশ্যই মূল দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক প্রত্যয়িত বা অনুমোদিত হতে হবে।
সেই দেশকে পরমাণু রিঅ্যাক্টর ডিজাইন ও সরবরাহ চেইনে (SHANTI Act)স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে এবং তাদের নিয়ন্ত্রক অনুমোদন বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য হতে হবে। এছাড়া রিঅ্যাক্টরটি মূল দেশে বা অন্য কোনো বিদেশি দেশে ইতিমধ্যেই চালু থাকতে হবে। প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের ডিজাইন সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নথি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, যদি না সম্পূর্ণ প্রযুক্তি হস্তান্তর হয়ে থাকে।লাইসেন্সিং ব্যবস্থায়ও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ স্বাধীনতা দিবসে বাড়ির ছাদে জাতীয় পতাকা উত্তোলন লস্করের ওয়ান্টেড জঙ্গি আবিদের মা-বাবার
এখন থেকে একটি মাত্র সমন্বিত লাইসেন্সের মাধ্যমে পরমাণু প্ল্যান্ট নির্মাণ, মালিকানা, পরিচালনা এবং অবসান সব কাজই করা যাবে। আলাদা আলাদা লাইসেন্সের প্রয়োজন হবে না। এমনকি সাইট বা প্রযুক্তি চূড়ান্ত না হলেও ‘ইন-প্রিন্সিপল অ্যাপ্রুভাল’ বা নীতিগত অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে। এই অনুমোদন পেলে আবেদনকারী রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি বিক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে পারবেন এবং জমিসহ অন্যান্য পরিকাঠামো সংগ্রহের কাজ এগিয়ে নিতে পারবেন।
এই খসড়া নিয়মাবলী শান্তি আইন ২০২৫-এর অধীনে তৈরি। (SHANTI Act)গত বছর সংসদে পাশ হওয়া এই আইন পরমাণু খাতে বেসরকারি অংশগ্রহণের পথ খুলে দিয়েছে। এতদিন মূলত সরকারি সংস্থাগুলোর হাতেই সীমাবদ্ধ ছিল এই খাত। এখন বেসরকারি কোম্পানি ও যৌথ উদ্যোগও পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারবে। ক্যাপটিভ পাওয়ার, অর্থাৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগও রাখা হয়েছে। অ্যালুমিনিয়াম, সিমেন্ট, ডেটা সেন্টার, সেমিকন্ডাক্টর ও এআই শিল্পে এর ব্যবহার সম্ভব হবে।