Mahindra BE 6 Sporteq লঞ্চ, দাম ১৯.৪৫ লক্ষ থেকে, রেঞ্জ ৬৮৩ কিমি - 24 Ghanta Bangla News
Home

Mahindra BE 6 Sporteq লঞ্চ, দাম ১৯.৪৫ লক্ষ থেকে, রেঞ্জ ৬৮৩ কিমি

Spread the love

নয়াদিল্লি: মাহিন্দ্রা ভারতে নতুন বিই ৬ স্পোর্টেক (Mahindra BE 6) বৈদ্যুতিক এসইউভি লঞ্চ করল। গাড়িটির দাম শুরু হচ্ছে ১৯.৪৫ লক্ষ টাকা থেকে, এক্স-শোরুম। নতুন মডেলে বদলানো হয়েছে ভ্যারিয়েন্ট লাইনআপ, যুক্ত হয়েছে নতুন ৭০ কিলোওয়াট-ঘণ্টার ব্যাটারি, নির্বাচিত ভ্যারিয়েন্টে মিলছে তিনটি ১২.৩-ইঞ্চি স্ক্রিনের ড্যাশবোর্ড এবং নতুন কানেক্টেড ফিচার। গাড়িটির ডেলিভারি শুরু হবে ২৬ আগস্ট থেকে। মাহিন্দ্রা একই সঙ্গে বিই ৬ স্পোর্টেক-এর জন্য ব্যাটারি অ্যাজ় আ সার্ভিস বা বিএএএস বিকল্পও চালু করেছে। এই ব্যবস্থায় গাড়ির দাম এবং ব্যাটারির খরচ আলাদা করে দেওয়া যাবে।

মাহিন্দ্রা বিই ৬ স্পোর্টেক: দাম ও ভ্যারিয়েন্ট

mahindra-be-6-sporteq-launch-price-range-features

বিই ৬ স্পোর্টেক-এর দাম ১৯.৪৫ লক্ষ থেকে ২৬.৯৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। গাড়িটির প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছে টাটা সিয়েরা ইভি, হুন্ডাই ক্রেটা ইলেকট্রিক এবং এমজি উইন্ডসর।

বিএএএস ব্যবস্থায় কী সুবিধা?

বিই ৬ স্পোর্টেক-এর ওয়ান ও টু ভ্যারিয়েন্টে ৫৯ কিলোওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারির সঙ্গে বিএএএস বিকল্প পাওয়া যাচ্ছে। এই ব্যবস্থায় ক্রেতা গাড়ির জন্য আলাদা টাকা দেবেন এবং ব্যাটারির ব্যবহারের জন্য প্রতি কিলোমিটারে ৩.৭৫ টাকা সাবস্ক্রিপশন চার্জ দিতে হবে। মাহিন্দ্রার হিসাব অনুযায়ী, এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতিদিন ৬০ কিলোমিটার ব্যবহার এবং আট বছরের ব্যাটারি ঋণের মেয়াদ ধরে। রোড ট্যাক্স, বিমা এবং টিসিএস-এর মতো সরকারি ও অন্যান্য বাধ্যতামূলক চার্জ এই দামের মধ্যে নেই।

বাইরের ডিজাইনে বড় পরিবর্তন নেই

বিই ৬ স্পোর্টেক-এর বাইরের নকশা আগের বিই ৬-এর মতোই রাখা হয়েছে। নতুন মডেলের অন্যতম পরিচয় হল ‘স্পোর্টেক’ ব্যাজ। লঞ্চ এডিশনে থাকছে বিশেষ গ্রাফাইট স্টর্ম রঙ।

ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী ১৯ ইঞ্চি অ্যালয় হুইল, এলইডি আলো, কাস্টমাইজ় করা যায় এমন এলইডি টেল-ল্যাম্প ডিসপ্লে, ফ্লাশ-ফিটিং দরজার হাতল এবং স্থির প্যানোরামিক কাচের ছাদ পাওয়া যাবে।

ভিতরে তিনটি ১২.৩ ইঞ্চি স্ক্রিন

নতুন বিই ৬ স্পোর্টেক-এর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন কেবিনে। উচ্চতর ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে তিনটি ১২.৩ ইঞ্চি ডিসপ্লে। এই সেটআপটি মাহিন্দ্রা এক্সইভি ৯ই এবং এক্সইভি ৯এস-এর মতো।

ড্যাশবোর্ডের নকশাতেও পরিবর্তন করা হয়েছে। আগের ড্রাইভারের সামনে থাকা হ্যালো-আকৃতির কাঠামোর পরিবর্তে আরও সরল অনুভূমিক ডিজাইন ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে অতিরিক্ত স্টোরেজ স্পেস তৈরি হয়েছে এবং ওয়্যারলেস চার্জিং প্যাড ও ইউএসবি টাইপ-সি পোর্টে সহজে পৌঁছনো যাবে। লঞ্চ এডিশনে রয়েছে আলাদা ফুল রেসিং ট্যান ইন্টেরিয়র থিম। অন্যদিকে ফর্মুলা ই এডিশনে আগের দুই-স্ক্রিন ড্যাশবোর্ডই থাকছে।

নতুন ছয়টি টেক স্যুট

বিই ৬ স্পোর্টেক-এ মাহিন্দ্রা ছয়টি নতুন টিইকিউ প্রযুক্তি স্যুট যুক্ত করেছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে চালক শনাক্ত করে ব্যক্তিগত প্রোফাইল লোড করার ব্যবস্থা, গুগল জেমিনি-সমর্থিত ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং টেলগেটে ব্যক্তিগত বার্তা প্রদর্শনের সুবিধা। টিইকিউ_ড্রাইভ-এর মাধ্যমে কাস্টম ড্রাইভ মোড, ট্রাইব ড্রাইভ, ড্রিফট মোড, অ্যাক্সিলারেশন বুস্ট এবং নতুন রিভাইভ এসওএস ফিচার পাওয়া যাবে।

মাহিন্দ্রার দাবি, রিভাইভ এসওএস ব্যাটারির চার্জ সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও গাড়িটিকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার পর্যন্ত চালিয়ে নিকটবর্তী চার্জিং স্টেশনে পৌঁছতে সাহায্য করতে পারে। ব্যাটারির পুরো জীবনকালে এই সুবিধা সর্বোচ্চ পাঁচবার ব্যবহার করা যাবে।

বর্তমান মাহিন্দ্রার বৈদ্যুতিক এসইউভিগুলিতেও গুগল জেমিনি ইন্টিগ্রেশন ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ওভার-দ্য-এয়ার আপডেটের মাধ্যমে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থা।

এছাড়াও ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী প্যানোরামিক কাচের ছাদ, হারমান কার্ডন অডিও সিস্টেম ও ডলবি অ্যাটমস, ভেন্টিলেটেড সামনের আসন, ওয়্যারলেস অ্যাপল কারপ্লে ও অ্যান্ড্রয়েড অটো, ৫৪০ ডিগ্রি ক্যামেরা, হেড-আপ ডিসপ্লে, লেভেল ২ অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম, কানেক্টেড কার প্রযুক্তি, অটো পার্ক অ্যাসিস্ট, এনএফসি ডিজিটাল চাবি এবং ওয়্যারলেস ফোন চার্জিং রয়েছে।

তিন ব্যাটারি বিকল্প, সর্বোচ্চ ৬৮৩ কিলোমিটার রেঞ্জ

বিই ৬ স্পোর্টেক তিনটি ব্যাটারি বিকল্পে পাওয়া যাচ্ছে। রয়েছে ৫৯, ৭০ এবং ৭৯ কিলোওয়াট-ঘণ্টার ব্যাটারি। ৫৯ কিলোওয়াট-ঘণ্টার সংস্করণে সর্বোচ্চ ২৩১ হর্সপাওয়ার, ৭০ কিলোওয়াট-ঘণ্টায় ২৪৫ হর্সপাওয়ার এবং ৭৯ কিলোওয়াট-ঘণ্টার সংস্করণে ২৮৬ হর্সপাওয়ার পাওয়া যায়। তিনটি সংস্করণই ৩৮০ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে এবং পিছনের চাকায় শক্তি পাঠায়।

দাবিকৃত এমআইডিসি রেঞ্জ:
• ৫৯ কিলোওয়াট-ঘণ্টা: ৫৪৮ কিলোমিটার
• ৭০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা: ৬৫১ কিলোমিটার
• ৭৯ কিলোওয়াট-ঘণ্টা: ৬৮৩ কিলোমিটার

চার্জিং ক্ষমতাতেও ব্যাটারি অনুযায়ী পার্থক্য রয়েছে। ৫৯ কিলোওয়াট-ঘণ্টার ব্যাটারি সর্বোচ্চ ১৪০ কিলোওয়াট, ৭০ কিলোওয়াট-ঘণ্টার ব্যাটারি ১৬০ কিলোওয়াট এবং ৭৯ কিলোওয়াট-ঘণ্টার ব্যাটারি ১৮০ কিলোওয়াট ডিসি ফাস্ট চার্জিং সমর্থন করে।

মাহিন্দ্রার দাবি, উপযুক্ত সর্বোচ্চ ক্ষমতার ডিসি চার্জার ব্যবহার করলে তিনটি ব্যাটারিই ২০ থেকে ৮০ শতাংশ চার্জ হতে প্রায় ২০ মিনিট সময় নেয়। এছাড়া ৭.২ কিলোওয়াট অথবা ১১.২ কিলোওয়াটের এসি ওয়াল চার্জারও বেছে নেওয়া যাবে। চার্জারের ক্ষমতা ও ব্যাটারির আকার অনুযায়ী সম্পূর্ণ চার্জ হতে প্রায় ৬ থেকে ১১.৭ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *