মেয়েদের শিক্ষার অধিকার ফিরিয়ে দিতেই হবে! তালিবানদের কড়া বার্তা UNESCO র
কাবুল: আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে রাষ্ট্র সংঘের (Afghanistan)শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, তালিবান শাসনের পাঁচ বছর পরও…
কাবুল: আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে রাষ্ট্র সংঘের (Afghanistan)শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, তালিবান শাসনের পাঁচ বছর পরও প্রায় ২৪ লাখ মেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। এই পরিস্থিতিকে তারা ‘হারিয়ে যাওয়া সম্ভাবনা এবং অপরিবর্তনীয় ক্ষতি’ বলে আখ্যা দিয়েছে এবং মেয়েদের শিক্ষার অধিকার পূর্ণভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে।
ইউনেস্কোর মতে, আফগানিস্তান (Afghanistan)এখন বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে মেয়ে ও নারীদের প্রাথমিক স্তরের পর শিক্ষাগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ। ২০২১ সালে তালিবান ক্ষমতায় ফিরে আসার পর মাধ্যমিক স্কুল এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে দুই দশকের অগ্রগতি প্রায় মুছে গেছে। ২০০১ সালে যেখানে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ খুবই সীমিত ছিল, সেখানে ২০২১ সালে প্রায় ১০ লাখ মেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষায় ভর্তি হয়েছিল।
আরও দেখুনঃ
এখন সেই সংখ্যা নেমে গিয়ে ২৪ লাখ মেয়ে শ্রেণিকক্ষের বাইরে রয়ে গেছে।ইউনেস্কো সতর্ক করেছে যে এই নিষেধাজ্ঞা শুধু শিক্ষার অধিকার লঙ্ঘনই নয়, বরং পুরো প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে অন্ধকার করে তুলছে। মেয়েদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে, বাল্যবিবাহের সম্ভাবনা বাড়ছে এবং দারিদ্র্য আরও গভীর হচ্ছে। দেশের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা ইতিমধ্যে দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থান থেকে নারীদের দূরে রাখলে পরিবারের আয় কমে যাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (Afghanistan)হিসাব অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে ২০৬৬ সালের মধ্যে প্রায় ছয় লাখ নারী কর্মক্ষেত্র থেকে ছিটকে পড়তে পারে এবং দেশের মোট আয়ের ক্ষতি হতে পারে প্রায় ৯৬০ কোটি ডলার।শুধু মেয়েদেরই নয়, ছেলেদের শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ
নারী শিক্ষকদের ছেলেদের পড়ানো নিষিদ্ধ করায় শিক্ষক সংকট বাড়ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে যোগ্য নারী শিক্ষকের অভাব দাঁড়াতে পারে ১১ হাজারেরও বেশি। ইউনেস্কোর কর্মকর্তা হোদা জাবেরিয়ান বলেছেন, পাঁচ বছর কোনো সাময়িক বাধা নয়। এটি প্রায় পুরো মাধ্যমিক শিক্ষার চক্রকে নষ্ট করে দিচ্ছে। শিক্ষা মৌলিক মানবাধিকার এবং এর কোনো বিকল্প নেই।