বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তারাদাস: চিঠির মোড়কে সময়ের বার্তা
আমাদের কৈশোর-যৌবনের পর বোধহয় সেভাবে আর কেউ চিঠি লেখেনি। অন্তত সুন্দর করে লিখেছে বলে তো মনে হয় না। তখনও কিছু লেখা হতো, ইদানীং তার জায়গা পুরোটাই নিয়ে নিয়েছে চ্যাটবক্স। যোগাযোগ সহজ হয়েছে তো বটেই, আর তাৎক্ষণিক আমোদও রয়েছে, তবে চিঠির মধ্যে দিয়ে যে সাহিত্যগুণ সৃষ্টি হতো, তা বোধহয় এরকম দ্রুতগতির সংযোগমাধ্যমে সম্ভব নয়।
তখনও অবশ্য সংক্ষেপে লিখতেই হতো। মাঝে কালিদাস রায়কে লিখিত চিঠির একটি সংকলনে দেখলাম, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, বিভূতি তো গেল। বার্ধক্য ভোগ করার জন্য বেঁচে রইলো না…। ইত্যাদি।
আমার ইদানীং আমাদের পারিবারিক পুরোনো চিঠিপত্র পড়তে তাই বেশ লাগে। ছোটবেলায় মনে হতো, ওরে বাবা, অত কে পড়বে। ইনল্যান্ড লেটার বা পোস্টকার্ড পোস্ট আপিস থেকে কিনে এনে দিয়েছি পর্যন্ত মনে পড়ে। কিন্তু চিঠি লেখা বা পড়া আমাদের যৌবনে ইন্টারনেটে মেইল আসার সঙ্গেসঙ্গে প্রায় উঠেই গেল। ইদানীং আগের চিঠিগুলো যখন বার হয়, মনোযোগ দিয়ে পড়ি। কারণ সেগুলো অন্য এক হারিয়ে যাওয়া সময়ের তথ্যভাণ্ডার। চোখের সামনে ভেসে ওঠে কত না জানা বিষয়, কত যুগের চাপা পড়ে থাকা কাহিনি। আসলে আমাদের পারিবারিক ইতিহাসের উপাদানও যতটা হওয়া উচিত ছিল, তার থেকে বোধহয় কমই। আকস্মিকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল সবকিছু এক সময়ে। সেই বিষয়ে পরে আসছি।
কিছু চিঠির তথ্য এমনিতেই মজার। আমি দুই দশক দিল্লিতে থাকি। একদিন হঠাৎ খুঁজে পেলাম কুতুব মিনার থেকে ভাইকে লেখা বিভূতিভূষণের চিঠি, সদ্য ফিরেছেন আগ্রায় জ্যোৎস্নারাতে তাজ দেখে। উল্টো পিঠে ঠাকুমাও দুই লাইন লিখেছেন।
এর সঙ্গেই, ইদানীং কিছু চিঠি-দিনলিপি দেখছিলাম, যেখান থেকে ঠাকুর্দার সঙ্গে বাবার—বিভূতিভূষণ এবং তারাদাস—পিতাপুত্রের সম্পর্কের একটা স্নিগ্ধ স্মৃতিমেদুর ছবি দেখতে পাই।