সত্যিই বান্ধবীকে UEFA-র টাকা দিয়েছিলেন? মুখ খুললেন ইনফান্তিনো - 24 Ghanta Bangla News
Home

সত্যিই বান্ধবীকে UEFA-র টাকা দিয়েছিলেন? মুখ খুললেন ইনফান্তিনো

Spread the love

বিতর্ক আর জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যেন সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব ও স্বত্বাংশের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই তীব্র চাপে ছিলেন ফিফা সভাপতি। সেই বিতর্কের ছাই চাপা পড়তে না পড়তেই এ বার তাঁর বিরুদ্ধে উঠল গুরুতর নৈতিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফায় (UEFA) থাকাকালীন নিজের কথিত বান্ধবীকে বিশাল অঙ্কের অর্থ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। এ বার এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন ইনফান্তিনো এবং তাঁর প্রশাসন।

এক নজরে

  • উয়েফায় থাকাকালীন বান্ধবীকে ৬ অঙ্কের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে কোণঠাসা ইনফান্তিনো।

  • উয়েফা নির্দিষ্ট প্রস্থান প্যাকেজ ও এমবিএ ফি দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও অনিয়ম অস্বীকার করেছে।

  • ফিফা মুখপাত্রের দাবি—সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন, কাল্পনিক এবং মানহানিকর।

  • অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা এবং মানহানির মামলার হুমকি ফিফা সভাপতির।

  • ২০২৭ সালের ফিফা নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনের আগে এই ঘটনা ইনফান্তিনোর ওপর চাপ বাড়াল।

জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে উয়েফার কী অভিযোগ উঠেছে?

আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত উয়েফার জেনারেল সেক্রেটারি পদে দায়িত্বে থাকাকালীন ইনফান্তিনো এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, উয়েফার তহবিল থেকে নিয়মিত ৬ অঙ্কের (ছয় অঙ্কের সমপরিমাণ) অর্থ পাইয়ে দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। এমনকি তিনি উয়েফা ছাড়ার পরও ওই মহিলাকে একটি বিজনেস স্কুল থেকে MBA পড়ার খরচ বহন করেছিল উয়েফা।

উয়েফা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে সেই সময়ে ওই কর্মচারীর চাকরি ছাড়ার আর্থিক প্যাকেজ ও এমবিএ কোর্সের ফি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও, ইনফান্তিনো এই সমস্ত অভিযোগ একবাক্যে উড়িয়ে দিয়েছেন। ফিফার মুখপাত্রের মাধ্যমে দেওয়া এক কড়া প্রতিক্রিয়ায় ফিফা সভাপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই সমস্ত দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, ভুয়ো এবং কাল্পনিক।

উয়েফা কি এই অর্থপ্রদানের বিষয়টি স্বীকার করেছে?

ইনফান্তিনোর তরফে ফিফা মুখপাত্র জানান, ‘ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করছেন। অনিয়ম বা নিয়ম লঙ্ঘনের যেকোনও ইঙ্গিতই মানহানিকর। উয়েফা বা ফিফায় কখনই কোনও কর্মী ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করেননি, কারণ এমন কোনও ঘটনার অস্তিত্বই ছিল না।’ ফিফার পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে যে, এই ধরনের ভিত্তিহীন খবর ছড়িয়ে ইনফান্তিনোর চরিত্রহননকারীদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানহানির মামলা করা হবে।

ঘটনাচক্রে, ২০২৭ সালের মার্চে হতে যাওয়া ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পুনরায় লড়তে চলা ইনফান্তিনোর ওপর এই নতুন অভিযোগ চাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। উয়েফা ও ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলির চাপের মুখে বিশ্বকাপ বিক্রির পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হলেও ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাঁর পদত্যাগের দাবি তুলেছে। তবে ইনফান্তিনো যে এই সমস্ত অভিযোগের মুখে নতিস্বীকার না করে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন, তাঁর প্রতিক্রিয়াতেই তা পরিষ্কার।

FAQ

জিয়ান্নি ইনফান্তিনো কে?

জিয়ান্নি ইনফান্তিনো হলেন আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার (FIFA) বর্তমান প্রেসিডেন্ট এবং উয়েফার প্রাক্তন জেনারেল সেক্রেটারি।ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে নতুন কী অভিযোগ উঠেছে?

এই অভিযোগের জবাবে ফিফা এবং ইনফান্তিনোর প্রতিক্রিয়া কী?

ইনফান্তিনো ও ফিফা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন এবং এই ধরণের চরিত্রহননকারী খবরের বিরুদ্ধে মানহানির আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

উয়েফা (UEFA) এই বিষয়ে কী স্পষ্টীকরণ দিয়েছে?

উয়েফা নিশ্চিত করেছে যে নির্দিষ্ট ওই কর্মীকে চাকরি ছাড়ার সময় নিয়ম অনুযায়ী প্যাকেজ এবং এমবিএ কোর্সের ফি দেওয়া হয়েছিল, তবে ২০১৬ সালের পর থেকে এই ধরনের নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে।

ইনফান্তিনো সম্প্রতি আর কী কারণে ফুটবল মহলে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন?

২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব ও স্বত্বাংশের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনার কারণে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েন তিনি।

আপনি কি জানেন?

  • জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সাত বছর উয়েফার জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

  • ২০২৬ বিশ্বকাপের কিছু অংশীদারিত্ব বিক্রির প্রস্তাবের প্রতিবাদে ইউরোপীয় দেশগুলি ফিফা টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকি দিয়েছিল।

  • উয়েফা ২০১৬ সালের পর তাদের সমস্ত কর্মী নীতি ও প্রশাসনিক আর্থিক বিধিমালা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে কঠোর করেছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *