Sheikh Hasina Speech: ‘যা-ই ঘটুক, দেশে ফিরব…’, জুলাই আন্দোলন থেকে ইউনূস সরকার— রইল হাসিনার সম্পূর্ণ বক্তৃতা
তাই আমি একটি সহজ প্রশ্ন করি। এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব কী? যখন থানায় আগুন দেওয়া হয়, সরকারি ভবনে হামলা চালানো হয়, পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার ধ্বংস করা হয়, কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয় এবং অস্ত্র লুট করা হয়, তখন কি জীবনের নিরাপত্তা ও সম্পত্তি রক্ষার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের কোনও দায়িত্ব থাকে না? প্রতিটি দেশেই নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়া, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নিজেদের জীবন রক্ষা করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। সেটি কোনও অপরাধ নয়। সেটি আইনের দ্বারা তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব।
একই সঙ্গে, আমি চেয়েছিলাম সত্যটি প্রকাশিত হোক। সে কারণেই আমি ১৮ জুলাই একটি বিভাগীয়/বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিলাম। এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট ছিল: প্রতিটি নিহতের ঘটনার তদন্ত করতে হবে, প্রতিটি সহিংসতার ঘটনা পরীক্ষা করতে হবে এবং প্রতিটি পরিবারের সত্য জানার অধিকার আছে। আমি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করেছি, আহতদের দেখতে গিয়েছি এবং কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ স্তরের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছি। ১ অগস্ট, তদন্তকে আরও বিস্তৃত, বিশ্বাসযোগ্য এবং পূর্ণাঙ্গ করতে আমি এটিকে তিন সদস্যের কমিশনে উন্নীত করি।
কিন্তু ক্ষমতা দখলের পর, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই তদন্ত বন্ধ করে দেয়। তারা সত্য বের হতে দেয়নি। যারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল, তারা তাদের দায়মুক্তি (ইন্ডেমনিটি) দিয়েছে। তারা যদি সত্যিই বিচার চাইত, তবে তদন্ত বন্ধ করল কেন? যদি তাদের লুকোনোর কিছু না থাকত, তবে হত্যাকারীদের রক্ষা করল কেন? এই একটি সিদ্ধান্তই আসল সত্য প্রকাশ করে। তারা বিচার চায়নি। তারা ক্ষমতা চেয়েছিল। তারা তদন্ত চায়নি। তারা প্রমাণগুলো মাটি চাপা দিতে চেয়েছিল।
তাদের নিজস্ব বক্তব্যই সত্য ফাঁস করে দিয়েছে। এনসিপির এক নেতা বলেছিলেন, পুলিশ হত্যা না করলে আর মেট্রোরেলে আগুন না দিলে এই ‘বিপ্লব’ সফল হতো না। সিরাজগঞ্জের এক বিএনপি নেতাও প্রকাশ্যে বলেছেন যে আন্দোলন সফল করতেই এনায়েতপুর থানায় আগুন দেওয়া হয়েছিল এবং পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা হয়েছিল। এসব বক্তব্য প্রমাণ করে যে জুলাই-অগস্টের আন্দোলন কেবল কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল না। এটি অদৃশ্য নির্দেশ, সংগঠিত সহিংসতা ও অপপ্রচারের মাধ্যমে সাংবিধানিক ব্যবস্থার উপরে একটি সমন্বিত আক্রমণ হয়ে উঠেছিল।
এই ষড়যন্ত্র ৫ অগস্টেই শেষ হয়ে যায়নি। ৫ অগস্টের পরে, সহিংসতা রাজনৈতিক নিপীড়নের একটি প্রচারণায় পরিণত হয়। ১৬ জুলাই ঢাকা কলেজের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী সবুজ আলির হত্যার মাধ্যমে যে হত্যাকাণ্ড শুরু হয়েছিল, তা থামেনি। আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে, গুম করা হচ্ছে, গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত করা হচ্ছে এবং মিথ্যা মামলায় জর্জরিত করা হচ্ছে। গত দুই বছরে অন্তত ১০,০০০ মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। প্রায় ৬,৫০,০০০ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রায় ৩,৫০০ মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৪,৫০,০০০ নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আসামি করা হয়েছে। আরও ১০,০০,০০০-এর বেশি মানুষকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ছাত্রলিগ, যুবলিগ ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নারী কর্মীরা হেফাজতে নির্যাতন, অপমান ও লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন। বহু নেতা-কর্মী কারাগারে মারা গিয়েছেন—যেখানে নির্যাতন, চিকিৎসা না দেওয়া, খাবার না দেওয়া, অবহেলা ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার নথিভুক্ত বিবরণ রয়েছে।