বিলকিস বানোর ধর্ষকদের মালা পরিয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী! অভিযোগ আরশোলা দিপকের
নয়াদিল্লি: সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট অভিজিৎ দিপকে আবার শিরোনামে। (Pralhad Joshi)‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা দিপকে ইউনিয়ন মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর বিরুদ্ধে দাবি করেছেন যে, তিনি বিলকিস বানো…
নয়াদিল্লি: সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট অভিজিৎ দিপকে আবার শিরোনামে। (Pralhad Joshi)‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা দিপকে ইউনিয়ন মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর বিরুদ্ধে দাবি করেছেন যে, তিনি বিলকিস বানো গণধর্ষণ মামলার দোষীদের মালা পরিয়েছিলেন। এই অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিজেপি সমর্থকরা একে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিষাক্ত প্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
তাঁদের দাবি, এটি চরিত্রহননের উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছে।২০০২ সালের গুজরাত দাঙ্গায় বিলকিস বানোর সঙ্গে গণধর্ষণ এবং তাঁর পরিবারের ১৪ জন সদস্যকে হত্যার মামলায় ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ২০২২ সালের ১৫ আগস্ট গুজরাত সরকার তাঁদের রেমিশনের আওতায় মুক্তি দেয়। মুক্তির পর কয়েকজন আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং ভিএইচপি ও আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা দোষীদের মালা পরিয়ে স্বাগত জানান।
আরও দেখুনঃ “যেখানেই রাস্তা, সেখানেই হাঁটার জায়গা”: কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। সুপ্রিম কোর্ট ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এই রেমিশন বাতিল করে দোষীদের ফের জেলে পাঠায়।কিন্তু প্রহ্লাদ যোশী (Pralhad Joshi)নিজে কোনো মালা পরানোর ছবি বা ভিডিও এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ২০২২ সালে যোশী রেমিশনের সিদ্ধান্তকে ‘আইনি প্রক্রিয়া’ বলে সমর্থন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আইন অনুসারে যথাযথ সময় কারাবাসের পর মুক্তির বিধান রয়েছে।”
এই বক্তব্য নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা হলেও, দিপকের দাবির মতো ‘নিজে মালা পরানো’র কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।দিপকে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেছেন, প্রহ্লাদ যোশী (Pralhad Joshi)দোষীদের মালা পরিয়েছেন। তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন যোশীর বাবা কি ভিডিও করেছিলেন? কাকা কি মালা হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন? এই ধরনের অভিযোগকে অনেকে ‘ফ্যাব্রিকেটেড ননসেন্স’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, এটি ইনস্টাগ্রামে ট্রেন্ড করিয়ে সরকারকে ড্যামেজ কন্ট্রোলে ফেলার কৌশল।
আরও দেখুনঃ ভোররাতে প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ইঞ্জিনে ভয়াবহ আগুন! ভস্মীভূত তিনটি বগি
একজন বিজেপি নেতা বলেন, “একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ প্রমাণ ছাড়া ছড়ানো চরিত্রহনন। আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”অভিজিৎ দিপকে সম্প্রতি বেকার যুবকদের আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। বোস্টন ইউনিভার্সিটির স্নাতকোত্তর দিপকে আগে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন দ্রুত ভাইরাল হয়।
কিন্তু তার এই অভিযোগের ভিত্তিতে রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলেছেন, তিনি প্রায়ই বিতর্কিত ও অপ্রমাণিত দাবি করে আলোচনায় আসেন।প্রহ্লাদ যোশীর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁরা বলছেন, যোশী (Pralhad Joshi)কখনো ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং মালা পরানোর সঙ্গে যুক্ত নন। আইনজীবীরা মনে করেন, এমন অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে প্রমাণ চাওয়া যেতে পারে। যদি প্রমাণ না দিতে পারেন, তাহলে মানহানির মামলা করা সম্ভব।
আরও দেখুনঃ হাওড়ায় এসটিএফের জালে আদিত্য সিং, হামিমের সঙ্গে জঙ্গি যোগের দাবি পুলিশের