Suvendu Adhikari: IPS কোটেশ্বর রাও-সহ একাধিক পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ড, বিধানসভায় কারণ জানালেন শুভেন্দু | West Bengal CM Suvendu Adhikari Announces Suspension of IPS Koteswara Rao, Other Police Officers
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীImage Credit: TV9 Bangla
কলকাতা: তৃণমূল জমানায় একের পর এক ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ। এই রকম কয়েকটি ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করল রাজ্য। শনিবার বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের শেষ দিন পুলিশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইপিএস কোটেশ্বর রাও-সহ একাধিক পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ডের কথা বিধানসভায় ঘোষণা করলেন তিনি। কোন কোন মামলায় কার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে, সেকথাও জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিধানসভায় কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?
বাজেট অধিবেশনের শেষ দিন স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কিছু সিদ্ধান্ত বিধানসভায় জানাতে চান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তৃণমূলের আমলে পুলিশকে অপব্যবহার করা হয়েছে। সনাতন ধর্ম যাঁরা মানেন, তাঁদের উপর অত্যাচার করা হয়েছে।” এর পরই তৃণমূল আমলে একের পর এক ঘটনার উল্লেখ করে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বিধানসভায় শুভেন্দু বলেন, “উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে ক্লাস নাইনের ছাত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। তার দেহ পুকুরে ভেসে ওঠে। পঞ্চায়েত উপপ্রধানের ছেলে অভিযুক্ত ছিল। গ্রেফতার না হওয়ায় মানুষ থানার সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করে। পরে পুলিশ জোর করে দেহ সরিয়ে নিয়ে যায়। রাজবংশী যুবক মৃত্যুঞ্জয় বর্মণ এসেছিলেন গ্রামে একটা অনুষ্ঠানে। জ্যাঠামশাইকে পুলিশ খোঁজ করতে আসে। না পেয়ে সরাসরি মৃত্যুঞ্জয়কে গুলি করে খুন করে। তাঁর স্ত্রীকে আমি চাকরি দিই। এর প্রাথমিক তদন্ত করেছি। এএসআই মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাসপেন্ড করা হল। এফআইআর করা হয়েছে।”
প্রাক্তন আইপিএস অফিসার পঙ্কজ দত্তর মৃত্যুর প্রসঙ্গও এদিন বিধানসভায় তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার পঙ্কজ দত্তকে বড়তলা থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। হেনস্থা করা হয়। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে জিজ্ঞাসাবাদ। তাঁকে থানায় চা তো দূরের কথা, জলও খেতে দেওয়া হয়নি। আমি সেইসময় তৎকালীন বিধায়কদের নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলাম।” এর পরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সেইসময়ের আইও সাধন দাসকে সাসপেন্ড করা হল। ওই থানার আইসি ছিলেন সুবর্ণ দত্ত চৌধুরী। তাঁকেও সাসপেন্ড করলাম।”
আরও দুটি ঘটনার উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, “কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর নিরঞ্জনের দিন যাঁরা গিয়েছিলেন নিরঞ্জনে, তাঁদের লাঠিচার্জ করা হয়। সেই ঘটনায় ইন্সপেক্টর অমলেন্দু বিশ্বাসকে সাসপেন্ড করা হল” তৃণমূল আমলে কাকদ্বীপে দেবী মূর্তি ভাঙার ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সুন্দরবনের কাকদ্বীপের সূর্যনগরে মা কালীর মূর্তি ভাঙা হয়। এলাকার মানুষ প্রতিবাদ করেন। আইপিএস কোটেশ্বর রাওয়ের নেতৃত্বে পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে লাঠিচার্জ করে। তারপর প্রিজন ভ্যানে তোলে মা কালীকে।ওই ঘটনায় আইপিএস কোটেশ্বর রাওকে সাসপেন্ড করা হল।”