সিকিমের একমাত্র চা বাগান ঘুরে দেখার গল্প
সেন্ট্রাল হেরিটেজ হোটেলে ব্যাগ রেখে দুপুরে মহাকাল হোটেলে মাছ-ভাত খেলাম। বিকেলে ম্যালে হাঁটাহাঁটি, সন্ধ্যায় গ্লেনারিজ়ে চায়ের আড্ডা, তারপর সেখানেই রাতের খাবার। রাত এগারোটায় হোটেলে ফিরতে ফিরতে মনে হচ্ছিল, দার্জিলিং যেন একা জেগে আছে, আর আমরা তার নীরবতার সঙ্গী।
সেন্ট্রাল হেরিটেজে গাড়ি রাখার ভালো ব্যবস্থা রয়েছে। সকালের বুফে ব্রেকফাস্টও অসাধারণ—ইন্ডিয়ান, কন্টিনেন্টাল, সাউথ ইন্ডিয়ান থেকে শুরু করে বাঙালির লুচি-ছোলার ডাল—সবই আছে। ভালো করে সকালের খাবার খেলে দুপুর পর্যন্ত আর ক্ষুধা অনুভব হয় না।
আবার ফিরে আসি টেমির কথায়।
টেমি টি গার্ডেনে থাকলে রাবাংলা, নামচি, বুদ্ধ পার্ক, চারধাম, নামচি রোপওয়ে, রক গার্ডেন, বিভিন্ন মনাস্ট্রি—সবই একদিনে ঘুরে আসা যায়। ছোট গাড়ি ভাড়া পড়ে প্রায় তিন হাজার টাকা।
তবে যাঁরা ভিড়ভাট্টা, সাইটসিনের দৌড়ঝাঁপ পছন্দ করেন না, যারা প্রকৃতির নীরবতা শুনতে চান, তাদের জন্য টেমি এক আদর্শ আশ্রয়।
ভোরে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা হাতে হোমস্টের বারান্দায় বসে সূর্যোদয় দেখা—এ এক অনন্য অনুভূতি। তারপর চা বাগানের সরু রাস্তা ধরে সকালের হাঁটা। চারপাশে পাহাড়ি সুগন্ধ, পাখির ডাক, আর দূরে কাঞ্চনজঙ্ঘার শুভ্র হাসি। মনে হবে, পৃথিবীর সমস্ত ব্যস্ততা বহু দূরে ফেলে আপনি এক অন্য জগতে এসে পৌঁছেছেন।
হয়তো সেই কারণেই টেমি আমাকে বার বার ডাকে।
আর আমিও, কোনও না কোনও অজুহাতে, তার কাছে আবার ফিরে আসি।