Weather Update: আচমকা ১৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টি দমদমে! টেরই পেল না কলকাতা | Today 20 July 2026 Heavy Rain Fall in Kolkata
কমলেশ চৌধুরীর রিপোর্ট
কলকাতা: হঠাত্ই যেন গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বরের দুঃস্বপ্ন ফিরল কলকাতায়। তবে মূল কলকাতায় নয়, উত্তর শহরতলিতে। অঙ্কের হিসেবে মেঘভাঙা বৃষ্টি না হলেও, আমজনতার অভিজ্ঞতায় আকাশভাঙা বৃষ্টি! ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি, হচ্ছে তো হচ্ছেই। দুপুরে আচমকা অতি ভারী বৃষ্টি দমদমে, মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ঝরল ১৬৩ মিলিমিটার। বিমানবন্দরের ভিতরে জল জমে বিমান ওঠানামা পর্যন্ত থমকে যায়! ৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিতে ভাসল সল্টলেকও।
গত বছর ২২ সেপ্টেম্বর কী হয়েছিল?
নিম্নচাপের প্রভাবে রাতভর প্রবল বৃষ্টি কলকাতায়। সোজা কথায়, অল্প সময়ে অতিবৃষ্টি। পুরসভার হিসেবে ২২ সেপ্টেম্বর রাতে মহানগরের সাত জায়গায় মেঘভাঙা বৃষ্টি হয়। মেঘভাঙা বৃষ্টি অর্থাত্ এক ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টি! অথচ সেদিন কলকাতায় অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা ছিল না। যেমন ছিল না সোমবারও। অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারে। অতি ভারী বৃষ্টি দেখল দমদম। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের দুপুরের পূর্বাভাস অনুযায়ী ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমানে। তালিকায় উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ছিল না। বিকেলের পূর্বাভাসে ভারী বৃষ্টির তালিকায় উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা যোগ করা হয়। ততক্ষণে বৃষ্টি ঝরে গিয়েছে!
আচমকা এমন ধারাবর্ষণ কেন?
আলিপুরের এক আবহবিদের ব্যাখ্যা, ‘মৌসুমি অক্ষরেখা ছাড়াও পূর্ব-পশ্চিমে আরও একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। জোড়া অক্ষরেখার জন্য প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢোকায় শক্তিশালী মেঘপুঞ্জ সৃষ্টি হয়। তাছাড়া এই মেঘপুঞ্জ খুব একটা সরেনি। ফলে প্রায় একই জায়গায় অনেকটা সময় ধরে বৃষ্টি হয়েছে।’ মোটামুটি বারাসত থেকে দমদম হয়ে সল্টলেক পর্যন্ত বৃষ্টির তোড় ছিল সবচেয়ে বেশি। উত্তর যে এ ভাবে ভেসেছে, দক্ষিণ টেরই পায়নি। আলিপুরে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৪ মিলিমিটার!
দমদমে কি মেঘভাঙা বৃষ্টি হয়েছে?
আলিপুর ও দমদমের দুই আবহবিদের জবাব, ‘বৃষ্টি হয়েছে অনেকটা সময় ধরে। মোটামুটি দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ফলে মেঘভাঙা বৃষ্টির শর্ত পূরণ না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাও তথ্য খতিয়ে দেখা যাচ্ছে।’ দমদমের মতোই, অন্য একটি বজ্রগর্ভ মেঘপুঞ্জে ঝেঁপে বৃষ্টি হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরে। মেদিনীপুর শহরে বৃষ্টির পরিমাণ ৯৮ মিলিমিটার, কলাইকুণ্ডায় বৃষ্টি হয়েছে ৯০ মিলিমিটার। ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের তালিকায় পশ্চিম মেদিনীপুরও ছিল না।
দমদম-আলিপুরের মতো বর্ষা-বৈষম্য রাজ্য জুড়েই। দক্ষিণবঙ্গে ঘাটতি ৪ শতাংশে নামলেও, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়ায় এখনও ৩০ শতাংশের বেশি বৃষ্টি-ঘাটতি। ২০ শতাংশের বেশি ঘাটতি নদিয়া, ঝাড়গ্রামে। মৌসুমি অক্ষরেখার উত্তর-দক্ষিণ ঘোরাঘুরিতে আগামী ৩-৪ দিনে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা, তাতে যেটুকু ঘাটতি কমে!