টানা বর্ষণে নদীবাঁধে ধস, বর্ষায় আতঙ্কে, ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী
স্থানীয়দের দাবি, নদীবাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ায় বর্ষা এলেই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নদীর জল ফুলে-ফেঁপে উঠলেই বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এর ফলে বহু বসতবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। অনেক পরিবারকে বার বার ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছে। এখনও বহু মানুষ অস্থায়ী ত্রিপলের ঘরে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। শুধু বসতবাড়িই নয়, প্রতি বছর শত শত বিঘা কৃষিজমির ফসলও বন্যার জেরে নষ্ট হয়ে যায়, ফলে চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েন এলাকার কৃষকরা। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহু বার প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সেচ দপ্তরের কাছে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং ভাঙন রোধের আবেদন জানানো হলেও, বাস্তবে তেমন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তাঁদের কথায়, ‘প্রতি বছর একই প্রতিশ্রুতি মেলে, কিন্তু বর্ষা এলেই আবার ভাঙন, আবার জলবন্দি জীবন।’ প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় স্থায়ী ভাবে নদীবাঁধ সংস্কার ও শক্তিশালী করতে কয়েক কোটি টাকার প্রকল্প প্রয়োজন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায়, সেচ দপ্তর পূর্ণাঙ্গ কাজ শুরু করতে পারছে না। ফলে, আপাতত সীমিত পরিসরে অস্থায়ী ব্যবস্থা নিয়েই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অস্থায়ী ব্যবস্থা কোনও ভাবেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। খানাকুলের সিপিএম নেতা তথা লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী ও এই এলাকারই বাদিন্দা বিপ্লব মৈত্র বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে এই এলাকার মানুষ একই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। নদীভাঙন রোধে স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণে সরকারের কোনও সদিচ্ছা নেই। মানুষ ঘরবাড়ি হারাচ্ছেন, কৃষকের ফসল নষ্ট হচ্ছে, তবুও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।’ এলাকাবাসীর একটাই দাবি, অস্থায়ী মেরামতি নয়, অবিলম্বে স্থায়ী নদীবাঁধ নির্মাণ করে তাঁদের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করা হোক। সময় থাকতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে, বৃহত্তর এলাকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।