Madan Mitra: একুশে জুলাই কোথায় আসতে হবে? গেরুয়া পাঞ্জাবি পরে তৃণমূল কর্মীদের বার্তা মদনের | Madan Mitra Calls on TMC Workers to Join Ritabrata Banerjee’s July 21 Event - 24 Ghanta Bangla News
Home

Madan Mitra: একুশে জুলাই কোথায় আসতে হবে? গেরুয়া পাঞ্জাবি পরে তৃণমূল কর্মীদের বার্তা মদনের | Madan Mitra Calls on TMC Workers to Join Ritabrata Banerjee’s July 21 Event

Spread the love

কলকাতা: দিন দুয়েক আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের হাত ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন তিনি। আর শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে এলেন একেবারের গেরুয়া পাঞ্জাবি পরে। তাহলে কি গেরুয়া রং পুরোপুরি লেগে গেল মদন মিত্রের রাজনৈতিক জীবনে? চোখে রঙিন চশমা পরে কামারহাটির বিধায়ক বুঝিয়ে দিলেন, তিনি মদন মিত্রই রয়েছেন। রঙিন। সাংবাদিক বৈঠকে কখনও গীতার কথা আওড়ালেন। আবার কখনও দু-কলি গেয়ে কটাক্ষ করলেন। এরই মধ্যে একুশে জুলাই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা যে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে অনুষ্ঠানে আয়োজন করেছেন, সেখানে সব তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের আসার আহ্বান জানিয়ে দিলেন। স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন তাঁর অবস্থান।

কী বললেন মদন মিত্র?

এদিন  বিধানসভার বি আর আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে অবস্থানে বসেছিলেন কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়করা। সেখানে হঠাৎ হাজির হন মদন। আর মদনের পাশে দাঁড়িয়েই কুণাল বলেন, “দু-চারদিন যা মন চায়, প্রাণ চায় বলুক। আমরা এটুকু জেনে রাখছি, আমাদের ভেতরের একটা লোক ওদের মধ্যে রইল।” ফলে মদনের অবস্থান নিয়ে জল্পনা বাড়ে। সাংবাদিক বৈঠকে নিজের অবস্থান নিয়ে জানাতে গীতার বাণী টেনে আনেন কামারহাটির বিধায়ক। বলেন, “মানুষের জীবন পরিবর্তনশীল। কে আসছে, কে যাচ্ছে, আমাদের ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা মানে গীতাকে অস্বীকার। আমরা নিমিত্ত মাত্র। সব আগে থেকে ঠিক করা।” তারপরই তিনি জানিয়ে দেন, “আমি বিধায়ক হিসাবে নৈতিক দায়িত্ব থেকে সরব না।”

কুণালের প্রসঙ্গ উঠতেই দু-কলি গেয়ে মদন বলেন, “মন নিয়ে সব থেকে বেশি গান হয়েছে, আজ মন চেয়েছে আমি হারিয়ে যাব। আমার মনে হয় কুণালের এবার মন হারানোর দিন চলে এসেছে।” তাঁর স্ত্রী ও পুত্রদের ইডির তলব নিয়ে মদনের বক্তব্য, “স্ত্রী-পুত্রকে দেশের এজেন্সি ডেকেছে। যাবে। সত্যি অন্যায় করে থাকলে দেখবে তারা। আমার ভয় নেই।”

কালীঘাট তৃণমূলকে কটাক্ষ মদনের-

প্রতিদিন মমতার হাত ছাড়ছেন কোনও না কোনও নেতা। এভাবে বিজেপির সঙ্গে লড়াই করা সম্ভব নয় জানিয়ে মদন বলেন, “কালীঘাট থেকে তৃণমূল কংগ্রেস যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তাতে আর যাই হোক বিজেপির সঙ্গে লড়াই করা যাবে না। একটা দাবাং তৃণমূল কংগ্রেস দরকার। ছ’টায় কী হবে, পৌনে ছ’টায় কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস জানে না।” তিনি আরও বলেন, “কালীঘাট তৃণমূল থাকল না উঠে গেল, তার উপর চলছি না। আমরা সঠিক পথের সন্ধান দিচ্ছি। আগ্রাসী দল বিজেপি, আমরা তার বিরুদ্ধে লড়ছি।”

ঋতব্রতরা গান্ধী মূর্তির সামনে একুশে জুলাই পালন করছে। সেখানে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের আসার আহ্বান জানিয়ে মদন বলেন, “গান্ধী মূর্তির সামনে একুশে জুলাই হবে। গুলি চালনার দিনে আমি ছিলাম। ওটাই আসল জায়গা। সমস্ত তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের ওয়ান পয়েন্ট টার্গেট গান্ধী মূর্তির সামনে আসা। সব থেকে বড় শহিদের পায়ের নীচে বসা।”

শুভেন্দুর প্রশংসা মদনের-

এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন মদন। বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর মতো বলিষ্ঠ নেতা এই রাজ্যে এখন আর কেউ নেই।” তাঁর পরনে গেরুয়া পাঞ্জাবি নিয়ে মদনের বক্তব্য, “পাঞ্জাবি তো নতুন হতেই পারে।” একইসঙ্গে কালীঘাট তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তাঁর বক্তব্য, “আগে হলে তো এতক্ষণ কত মেসেজ এসে যেত। এত কথা বলো না। উঠে যান।”

গতকাল রাজ্যসভার সাংসদ পদে ইস্তফা দিয়েছেন কোয়েল মল্লিক। তারপরই দেখা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে। কোয়েল ফের বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভায় যাবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। এই নিয়ে এদিন মদন বলেন, “কোয়েল কারও সঙ্গে দেখা করতেই পারেন।” আবার রাজ্যসভার টিকিট নিয়ে এদিন কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “তৃণমূলের মুখপাত্র হিসেবে নয়, ব্যক্তিগতভাবে আমি চাই, লকেট চট্টোপাধ্যায় রাজ্যসভায় যান।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *