‘কেউই বানের জলে ভেসে আসেনি!’ সৌরভ-অভিষেক দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত CAB সভা - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘কেউই বানের জলে ভেসে আসেনি!’ সৌরভ-অভিষেক দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত CAB সভা

Spread the love

বাংলার নানা ক্ষেত্রে বহু স্মরণীয় দ্বৈরথ দেখা গেছে। সিনেমা, সাহিত্য কিংবা ক্রীড়া, প্রতিটি ক্ষেত্রেই মতপার্থক্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। এবার সেই তালিকায় যোগ…

বাংলার নানা ক্ষেত্রে বহু স্মরণীয় দ্বৈরথ দেখা গেছে। সিনেমা, সাহিত্য কিংবা ক্রীড়া, প্রতিটি ক্ষেত্রেই মতপার্থক্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। এবার সেই তালিকায় যোগ হয়েছে বাংলা ক্রিকেট প্রশাসনের অন্যতম বড় সংঘাত। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (CAB)-তে সৌরভ গাঙ্গুলি ও অভিষেক ডালমিয়ার মতবিরোধ এখন আর পর্দার আড়ালে নেই; তা প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক জরুরি সভা সেই দ্বন্দ্বকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে।

বুধবার অনুষ্ঠিত সিএবির জরুরি বৈঠকে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্য ক্রীড়া দফতরের প্রতিনিধিও, যা সিএবির ইতিহাসে বিরল ঘটনা। বৈঠকে একাধিকবার প্রশ্ন-পাল্টা প্রশ্ন, উচ্চস্বরে তর্ক, টেবিল চাপড়ানো এবং একে অপরকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করতে দেখা যায় দুই পক্ষকে। ফলে পরিষ্কার হয়ে যায়, বর্তমানে সিএবির অন্দরে বিভাজন প্রকট আকার ধারণ করেছে।

এই জরুরি সভা ডাকার মূল উদ্দেশ্য ছিল দুটি। প্রথমত, কেন ২০ জুলাই যুগ্মসচিব পদে নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি, সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া। দ্বিতীয়ত, লোধা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ৭০ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া বা প্রশাসনে টানা ৯ বছর দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিরা ভোটাধিকার বজায় রাখতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা।

বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, লোধা কমিটির নির্দেশিকা পুরোপুরি মানা হচ্ছে না। যদিও সিএবি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, সমস্ত পদক্ষেপ নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য, আগামী সেপ্টেম্বরের বার্ষিক সাধারণ সভায় যুগ্মসচিব, সচিব এবং অ্যাপেক্স কাউন্সিলের একটি শূন্য পদে নির্বাচন হবে। কারও আপত্তি থাকলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পথও খোলা রয়েছে।

বৈঠকে অভিষেক ডালমিয়া অভিযোগ তোলেন যে, সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিদের হাতে প্রয়োজনীয় নথি বা অ্যাপেন্ডিক্স ‘এ’ সরবরাহ করা হয়নি, যা নিয়মবিরুদ্ধ। এর জবাবে সৌরভ গাঙ্গুলি জানান, অতীতেও একই প্রক্রিয়ায় সভা পরিচালিত হয়েছে এবং অভিষেক নিজেও যখন প্রশাসনে ছিলেন, তখনও এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। পাল্টা অভিষেকের বক্তব্য, অতীতে ভুল হয়ে থাকলে তা ভবিষ্যতেও চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়; বরং সংশোধন করাই সঠিক পথ।

পরে সৌরভ-ঘনিষ্ঠ বিশ্বরূপ দে-র ৯ বছরের প্রশাসনিক মেয়াদ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। লোধা নিয়ম অনুযায়ী তিনি ভোটাধিকার হারাবেন কি না, তা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ব্যক্তিগত মন্তব্যও বিনিময় হয়।

এই সংঘাতের সূত্রপাত মূলত যুগ্মসচিব পদে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত কোনও পক্ষই প্রার্থী দেয়নি। এর আগে কয়েকটি জেলা ও কলকাতার একাধিক ক্লাব লোধা নিয়ম প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিএবিকে চিঠি পাঠায়। অভিযোগ ওঠে, সেই চিঠিগুলির ভাষা প্রায় একই, অর্থাৎ ‘কপি-পেস্ট’ করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—যদি সবকিছু নিয়ম মেনেই হয়ে থাকে, তাহলে নির্বাচন প্রক্রিয়া কেন এগোল না?

এখন নজর আগামী সেপ্টেম্বরের বার্ষিক সাধারণ সভার দিকে। তবে তার আগেই বিরোধী পক্ষ আদালতের শরণাপন্ন হবে কি না, তা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। একসময়ের সতীর্থ দুই প্রভাবশালী ক্রিকেট ব্যক্তিত্বের এই সংঘাত আগামী দিনে সিএবির প্রশাসন ও বাংলা ক্রিকেটের ভবিষ্যতের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *