সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য বড় ঘোষণা, ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তার ‘মাস্টার প্ল্যান’ - 24 Ghanta Bangla News
Home

সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য বড় ঘোষণা, ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তার ‘মাস্টার প্ল্যান’

Spread the love

রাজ্যের সরকারি ও (Nabanna)  সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং পঠনপাঠনের মান বাড়াতে বড়সড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রাজ্য সরকার। শিক্ষার পরিবেশকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী…

রাজ্যের সরকারি ও (Nabanna)  সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং পঠনপাঠনের মান বাড়াতে বড়সড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রাজ্য সরকার। শিক্ষার পরিবেশকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তুলতে তৈরি করা হয়েছে একটি বিশেষ ‘মাস্টার প্ল্যান’। এই পরিকল্পনার আওতায় রাজ্যের ২৩টি জেলার মোট ১২ হাজার ৩০০টি স্কুলকে চিহ্নিত করা হয়েছে। লক্ষ্য হল, সরকারি স্কুলগুলিকে এমনভাবে গড়ে তোলা, যাতে পড়ুয়ারা উন্নত মানের শিক্ষা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পেতে পারে।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা। এই জেলার ১,৬৬১টি স্কুলকে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা, যেখানে ১,৩৮২টি স্কুল রয়েছে। এছাড়া মুর্শিদাবাদের ১,০৭৫টি স্কুলও এই বিশেষ (Nabanna)  উদ্যোগের অংশ হতে চলেছে। এর মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা স্কুলগুলির মধ্যে শিক্ষার সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

শুধু সাধারণ সরকারি(Nabanna)  স্কুল নয়, ঐতিহ্যবাহী এবং দীর্ঘদিনের সুনাম থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকেও এই প্রকল্পে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাঁকুড়ার রামকৃষ্ণ মিশন সারদা বিদ্যাপীঠ, বিভিন্ন রামকৃষ্ণ মিশন পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বর্ধমান টাউন স্কুলের মতো নামী স্কুলগুলিকে ‘পিএম শ্রী’ (PM SHRI) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঐতিহ্য ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এই মাস্টার প্ল্যানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল আর্থিক সহায়তা। প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত স্কুলগুলি সর্বোচ্চ ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক অনুদান পেতে পারে। এই অর্থ ব্যবহার করে স্কুলের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। পুরনো ভবনের সংস্কার, নতুন পরিকাঠামো তৈরি, শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা সব ক্ষেত্রেই এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বিজ্ঞান শিক্ষার ওপর। আধুনিক ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষাগার তৈরি, প্রয়োজনীয় শিক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্কুলের খেলার মাঠ, গ্রন্থাগার এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাকেও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যেও জোর দেওয়া হয়েছে। স্মার্ট ক্লাসরুম, ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ এবং আধুনিক পদ্ধতিতে পড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকার পড়ুয়ারাও প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নত শিক্ষার সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত কয়েক বছরে সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো, শিক্ষক ঘাটতি এবং স্কুলছুটের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে শিক্ষাবিদদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে বহু অভিভাবকের মধ্যে বেসরকারি স্কুলে সন্তানদের ভর্তি করার প্রবণতাও বেড়েছে। সরকারি স্কুলের শিক্ষার মান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *