বিরোধীদের হাতে ভোট চুরির তথ্য তুলে দেওয়া গবেষণাকেন্দ্রের অনুদান বন্ধ করল মোদী সরকার
নয়াদিল্লি: দিল্লির বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর দ্য (CSDS Funding)স্টাডি অফ ডেভেলপিং সোসাইটিজ (সিএসডিএস)-এর উপর ঝুলছে বড়সড় সংকটের মেঘ। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন ভারতীয় সামাজিক বিজ্ঞান…
নয়াদিল্লি: দিল্লির বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর দ্য (CSDS Funding)স্টাডি অফ ডেভেলপিং সোসাইটিজ (সিএসডিএস)-এর উপর ঝুলছে বড়সড় সংকটের মেঘ। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন ভারতীয় সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদ (আইসিএসএসআর) এই প্রতিষ্ঠানের অনুদান বন্ধ বা স্থগিত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
খবর অনুসারে, সিএসডিএস-এর মোট আয়ের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই আসে সরকারি অনুদান থেকে। ২০২৪-২৫ সালে শুধু আইসিএসএসআর থেকে প্রায় ৫.৮ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে, যা মূলত কর্মীদের বেতনের এক বড় অংশ কভার করে। এই অনুদান কমলে বা বন্ধ হলে প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্বই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে একটি বিতর্কিত ঘটনা।
আরও দেখুনঃ
সিএসডিএস-এর লোকনীতি প্রোগ্রামের সহ-পরিচালক ও বিশিষ্ট পোলিস্ট সঞ্জয় কুমার এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি পোস্টে মহারাষ্ট্রের কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যায় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি-হ্রাসের কথা তুলে ধরেন। তিনি ২০২৪ সালের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের ভোটার তথ্যের তুলনা করে ‘অসঙ্গতি’র ইঙ্গিত দেন।
বিরোধী দল, বিশেষ করে কংগ্রেস, এই তথ্যকে ‘ভোট চুরি’র আখ্যান তৈরিতে ব্যবহার করে। রাহুল গান্ধীসহ নেতারা এটিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার হাতিয়ার হিসেবে দেখান।কিন্তু পরবর্তীতে সঞ্জয় কুমার নিজেই সেই পোস্ট মুছে দেন এবং পুরোপুরি ক্ষমা চেয়ে নেন। তিনি স্বীকার করেন যে ডেটা টিমের ভুলের কারণে সারি মিলিয়ে তথ্য পড়তে ভুল হয়েছে।
আরও দেখুনঃ
লোকসভা ও অ্যাসেম্বলি ডেটার তুলনায় ত্রুটি ঘটেছে। তিনি বলেন, “আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। এটি একটি ভুল ছিল।” এরপরেও বিতর্ক থামেনি। বিজেপি নেতারা এটিকে ‘মিথ্যা আখ্যান’ ছড়ানোর অভিযোগে তোলপাড় করেন এবং আইসিএসএসআর-কে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেন।আইসিএসএসআর এখন সিএসডিএস-কে শো-কজ নোটিশ দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা নির্বাচন কমিশনকে ‘ম্লান’ করার চেষ্টা করেছে এবং গ্রান্ট-ইন-এইড নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। শুধু মহারাষ্ট্র নয়, বিহারের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়েও সিএসডিএস-এর একটি সমীক্ষায় ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ ব্যাখ্যা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আইসিএসএসআর জানিয়েছে, এসব ঘটনা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মেরও ইঙ্গিত দেয়।
আরও দেখুনঃ