বিশ্বকাপ ফাইনাল, তাই পিছিয়ে দেওয়া হলো পরীক্ষার দিন, কেন এই সিদ্ধান্ত? কী যুক্তি প্রিন্সিপালের?
‘সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল’— বাঙালি আর ফুটবল, এই দুই যেন অভিন্ন হৃদয় বন্ধু। সেই বাংলায় ফিফা বিশ্বকাপের হাওয়া যে একটু বেশিই লাগবে, তা আর নতুন কী! ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ নিয়ে ভারতেও উন্মাদনা তুঙ্গে। সম্প্রতি সেই উন্মাদনাকেই যেন অন্য পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে দক্ষিণ কলকাতার একটি স্কুল। বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হলো স্কুলের পরীক্ষাও।
বিষয়টা কী?
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে সাউথ পয়েন্ট হাই স্কুলের একটি নোটিস। স্কুল কর্তৃপক্ষ ১ জুলাই নোটিস দিয়ে জানান, পড়ুয়ারা বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখতে উৎসাহী। আগামী ১৯ জুলাই রাতে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল। সেই কারণে ২০ ও ২১ জুলাই ক্লাস ৬ থেকে ১২-এর পূর্ব নির্ধারিত সব পরীক্ষা এবং পিরিয়ডিক অ্যাসাইনমেন্টের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হলো। ২০ জুলাইয়ের পরীক্ষাটি হবে ২৯ জুলাই। আর ২১ জুলাইয়ের পরীক্ষার জন্য় তারিখ বদলে হয়েছে ৩০ জুলাই।

খেলা দেখার জন্য এমন সিদ্ধান্ত সত্যিই বিরল। আর ফিফা বিশ্বকাপের জন্য এমন সিদ্ধান্ত আগে নেওয়া হয়েছে বলে খুব একটা মনে পড়ে না। তা হলে হঠাৎ কেন এমন নোটিস?
এই সময় অনলাইন যোগাযোগ করেছিল সাউথ পয়েন্ট হাই স্কুলের প্রিন্সিপাল জয়দেব ঘোষের সঙ্গে, তিনি জানান বাচ্চাদের খেলাধুলোর প্রতি আরও উৎসাহ যোগাতেই এমন সিদ্ধান্ত।
তিনি বলেন, ‘বাচ্চারা এখন মোবাইল গেমের প্রতি বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছে। ফিল্ড স্পোর্টস খুব গুরুত্বপূর্ণ। ফিজ়িক্যাল গ্রোথ, মেন্টাল গ্রোথ এবং সমাজে মেলামেশা করার জন্য এটা খুবই প্রয়োজন। ফুটবল একটা টিম গেম। তা ছাড়া কলকাতাবাসীর সঙ্গে ফুটবলের একটা আবেগ রয়েছে। আমরা চাই বাচ্চারা এই খেলা দেখুক। তা থেকে খেলার প্রতি আগ্রহ জন্মাক। কেবল মোবাইল গেম নয়, মাঠে নেমে খেলতে উৎসাহ বোধ করুক। আমরা যদি ১০-২০ শতাংশ বাচ্চাকেও মাঠে নিয়ে আসতে পারি, সেটাই আমাদের সাফল্য।’
শুধু ফিফা বিশ্বকাপ নয়, পড়ুয়াদের মাঠে টানতে সারাবছর উৎসাহ জোগানো হয়। খেলাকে সব সময় অগ্রাধিকার দেওয়া হয় স্কুলে বলেই জানান প্রিন্সিপাল। তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজেদের মাঠ নেই, কিন্তু সব রকম খেলায় বাচ্চাদের অংশগ্রহণ করতে বলি। আর ফুটবলে একে অন্যের উপরে নির্ভরশীল। আমাকে এগোতে হলে অন্যকে বলটা পাস করতে হবে। সমাজেও এগোতে হলে এই ভাবনাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
স্কুলের এই সিদ্ধান্তে বেজায় খুশি পড়ুয়া থেকে অভিভাবকরা। জয়দেব জানান, তিনি ইতিমধ্যেই মেলে অনেকের প্রশংসা পেয়েছেন।