৮০টি ঘাঁটিতে আঘাত, বন্ধ তেল রফতানির ছাড়পত্র
হরমুজ প্রণালীতে তিনটি তৈলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানে নতুন করে বড় আকারের বিমান হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের অভিযানে ইরানের আকাশ…

হরমুজ প্রণালীতে তিনটি তৈলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানে নতুন করে বড় আকারের বিমান হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের অভিযানে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার সাইট, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্কসহ ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এছাড়া হরমুজ এলাকায় থাকা ইরানের ৬০টি ছোট নৌকাও ধ্বংস করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, দশ দিন আগে চালানো হামলার তুলনায় এই অভিযানটি ক্ষমতা ও ব্যাপ্তিতে চার থেকে পাঁচ গুণ বড়। (us airstrikes iran hormuz strait oil tanker attack)
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর। এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ রাখতে এবং ইরানের হামলা চালানোর সক্ষমতা খর্ব করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকমের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, কোনো চুক্তি ভঙ্গ করলে বা আন্তর্জাতিক নিয়ম অমান্য করলে ইরানকে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনায় কাতার ও সৌদি আরবও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং এর জন্য সরাসরি তেহরানকেই দায়ী করেছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা
হামলার বিষয়ে ইরান সরকারিভাবে কোনো বিবৃতি না দিলেও, দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বন্দর আব্বাস, সিরিক এবং কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এদিকে, ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর আরোপিত তেল বিক্রির ৬০ দিনের অনুমতিপত্র বাতিল করেছে। ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এর মাধ্যমে মার্কিন সরকারের অবিশ্বস্ততা ও অসৎ উদ্দেশ্য পুনরায় প্রমাণিত হলো। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় ইরান প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেবে।
অনিশ্চয়তায় শান্তি আলোচনা
বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে। একদিকে ইরানে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্য চলছে, অন্যদিকে মার্কিন হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা কার্যত থমকে গেছে। খামেনির মৃত্যুর পর স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হলেও, সাম্প্রতিক এই সামরিক সংঘর্ষের জেরে পুরো প্রক্রিয়াটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের একটি ভিডিও শেয়ার করে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক উত্তেজনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো বড় যুদ্ধের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
