বেড়েছে সংযোজিত এলাকা, ভেঙেচুরে রয়েছে কলকাতা পুলিশের কিয়স্কগুলি
অর্পিতা হাজরা
কোনওটা আবর্জনায় ভর্তি। কোনওটা ভাঙাচোরা, জঞ্জালে ভরা। শহরের বিভিন্ন পুলিশ কিয়স্ক ঘুরলে এমনই দৃশ্য নজরে আসবে শহরবাসীর।
কেন এই হাল? লালবাজার সূত্রে খবর, কলকাতা পুলিশে কনস্টেবল পদে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। মাঝে কয়েক বছরে ওই পদে সে ভাবে নিয়োগই হয়নি। গত বছরে কনস্টেবল পদের জন্য পরীক্ষা নেওয়া হলেও থমকে রয়েছে নিয়োগ। কারণ, ওই নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে মামলা হয়েছে আদালতে। এই মুহূর্তে কনস্টেবলের শূন্যপদ রয়েছে ৩৯৬৯টি। এদিকে কলকাতা পুলিশের সংযোজিত এলাকা বেড়েছে।
উত্তর থেকে দক্ষিণ শহরতলির বেশ কিছু এলাকা চলে এসেছে কলকাতা পুলিশের আওতায়। বেড়েছে থানার সংখ্যা। ভাঙড়–সহ বিস্তীর্ণ এলাকার বিভিন্ন থানা ও বিভাগে পুলিশ পাঠানো হয়েছে কলকাতা থেকে। যাঁরা আগে ৮১টি থানা এলাকা সামলাতেন, এখন কার্যত সেই সংখ্যক পুলিশই ৯১টি থানা এলাকা সামলাচ্ছেন। ফলে সব মিলিয়ে এলাকার নিরিখে কমেছে পুলিশের সংখ্যা। কলকাতা শহরের থানাতেও কমে গিয়েছে পুলিশের সংখ্যা।
তাই, রাতের শহরে দৃশ্যত পুলিশ কম। ফাঁকাই পড়ে থাকে কিয়স্ক। প্রায় বছর কুড়ি আগে কলকাতা শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের অলি–গলিতে বসানো হয়েছিল এই কিয়স্কগুলি। উদ্দেশ্য ছিল, থানার মতো ২৪ ঘণ্টা কিয়স্কে পুলিশ মোতায়েন করে রাত–বিরেতে বিপদে পড়া মানুষকে সহায়তা দেওয়া। বহু মানুষ সেই সহায়তা পেয়েওছেন।
প্রশ্ন, এখন রাতে কোনও অঘটন ঘটলে, বিপদে পড়লে কী করবে সাধারণ মানুষ? লালবাজারের দাবি, যতটা সম্ভব মোটরবাইক প্যাট্রলিং চলছে। ভাঙড়ের মতো এলাকায় সাইকেলে টহলদারি দেয় পুলিশ। কলকাতার অলিগলিতে মোটরবাইক বা অটো নিয়ে প্যাট্রলিংয়ে মাধ্যমে নজরদারি চালানো হয়। এ ছাড়া পিসিআর ভ্যানে টহলদারি ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালানো হয়। এ ছাড়া মূল ভরসা বলতে কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর।
সাধারণ মানুষের কথায়, ‘কখন বিপদ হবে তা আগাম জানা যায় না। সে ক্ষেত্রে কখন পুলিশের নজরদারি মোটরবাইক আসবে, তার অপেক্ষায় বসে থাকা সম্ভব নয়। কন্ট্রোল রুমে ফোন করলেও পুলিশ পৌঁছতে সময় লাগবে। অথচ, আগে কিয়স্ক থাকত হাতের কাছে। সেখানে গেলেই দেখা মিলত পুলিশের।’ কোনও প্রয়োজন হলে সবার প্রথমে তাঁরাই সাহায্য করতেন। নিকটবর্তী থানায় যোগাযোগ করতেন।
উত্তর কলকাতার সিঁথি এলাকায় গেলে দেখা মিলবে নীল–সাদা রং চটা সেই কিয়স্কের। ভিতরে দরজা ভেঙে কাত হয়ে পড়ে আছে। যেখানে পুলিশকর্মীরা বসেন সেখানে তারের জঞ্জাল। ভাঙা কাচ ও ইট–পাথরের টুকরোয় ভরে রয়েছে। এটা যে আগে কিয়স্ক ছিল, সেটা বোঝাও দায়।
কলকাতার যুগ্ম কমিশনার (হেড কোয়ার্টার) সুদীপ সরকার বলেন, ‘কনস্টেবলের শূন্যপদে নিয়োগ হলেই আবার চালু হবে কিয়স্কগুলি।’ কলকাতা পুলিশের একটা সূত্র বলছে, শহরে কতগুলি ভাঙাচোরা কিয়স্ক রয়েছে, তা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।