এই ৩ ধরনের ব্যক্তিদের ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না যমদূতেরা, কেন জানেন?    - 24 Ghanta Bangla News
Home

এই ৩ ধরনের ব্যক্তিদের ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না যমদূতেরা, কেন জানেন?   

Spread the love

‘জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে?’— মাইকেল মধুসূদনের এই উক্তি তো চিরন্তন সত্য। এর হাত থেকে রেহাই নিয়ে কারও। স্বয়ং বিষ্ণুর অবতারকেও বরণ করে নিতে হয়েছে মৃত্যুকে। আয়ু শেষ হলে যমদূত এসে নিয়ে যায় আত্মাকে।  

মৃত্যু এমন এক চিরন্তন সত্য, যেখান থেকে কেউই রেহাই পায় না। হিন্দু ধর্মগ্রন্থ গরুড় পুরাণেও মৃত্যু, পরলোক এবং আত্মার যাত্রাপথ সম্পর্কে বিস্তারে আলোচনা করা হয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস, মানুষের মৃত্যুর সময় যমরাজের দূত বা যমদূত এসে আত্মাকে নিয়ে যান। গরুড় পুরাণে তাঁদের রূপ অত্যন্ত ভয়ঙ্কর বলেও বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, পাপীদের তাঁরা কঠোর ভাবে যমলোকে নিয়ে যান।

তবে এই গ্রন্থেই এক বিশেষ বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। শাস্ত্র মতে, এমন তিন ধরনের মানুষ আছেন, যাঁদের কাছে যমদূত যাওয়ার সাহসও পান না। তাঁদের আত্মা গ্রহণ করতে স্বয়ং ঈশ্বরের দিব্য পার্ষদরা উপস্থিত হন। কারা তাঁরা? 

ঈশ্বরভক্ত ও নামস্মরণে নিমগ্ন ব্যক্তি

যাঁরা সারাজীবন ভগবানের ভক্তি, নামজপ ও ঈশ্বর চিন্তায় নিজেকে নিবেদিত রাখেন, তাঁদের মৃত্যু হয় অতি শান্তিপূর্ণ। এই ধরনের মানুষের মনে মৃত্যুভয় থাকে না। তাঁদের শেষ সময়ে যমদূত নয়, বরং বৈকুণ্ঠ থেকে বিষ্ণুদূত এসে উপস্থিত হন। দিব্য ও শান্ত রূপে তাঁরা ভক্তের আত্মাকে সম্মানের সঙ্গে ঈশ্বরের ধামে নিয়ে যান।

নিঃস্বার্থ ভাবে মানুষের সেবা করেন যাঁরা

গরুড় পুরাণে বলা হয়েছে, ক্ষুধার্তকে অন্নদান, অসুস্থের সেবা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নিঃস্বার্থ ভাবে সমাজকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা সর্বোচ্চ পুণ্যের কাজ। যাঁরা কোনও প্রতিদানের আশা না করে মানুষের উপকার করেন, তাঁদের জীবনে বিপুল পুণ্য সঞ্চিত হয়। এমন দয়ালু ও পরোপকারী মানুষের কাছে যমদূতও আসতে চান না। প্রচলিত বিশ্বাস, তাঁদের আত্মাকে স্বর্গে নিয়ে যেতে দেবলোকের দিব্য দূতরাই আসেন।

সত্য ও ধর্মের পথে অবিচল মানুষ

যাঁরা জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতেও মিথ্যা, প্রতারণা বা অন্যায়ের পথ বেছে নেন না এবং সততা ও ধর্ম মেনে জীবনযাপন করেন, তাঁদেরও যমরাজের ভয় স্পর্শ করতে পারে না বলে গরুড় পুরাণে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি যাঁরা বাবা-মায়ের সেবা করেন, কাউকে অকারণে কষ্ট দেন না এবং নিজের কর্তব্য নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন, তাঁদের মৃত্যু নাকি যন্ত্রণাহীন হয়। শাস্ত্র মতে, এই ধরনের মানুষের আত্মা মোক্ষ বা উচ্চতর লোক প্রাপ্তির যোগ্য হয়ে ওঠে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *